শনিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এই কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় © টিডিসি ছবি
দুই দিনব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতা ও দেশ-বিদেশের গবেষকদের নিবিড় আলোচনার পর শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় শেষ হলো দ্বিতীয় ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স’। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এই সম্মেলনে দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অচেনা সময়, নতুন সমীকরণ ও সেবার রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ও রাজনৈতিক পথরেখা খোঁজার চেষ্টা করেন নীতিনির্ধারক ও বিশারদরা।
গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকসের (দায়রা) আয়োজনে এই কনফারেন্স শুরু হয়। বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এটি উদ্বোধন করেন। এ সময় সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. মুশতাক খান, মালদ্বীপের সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি আব্দুল্লাহ জিহাদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কনফারেন্সের মূল থিম ছিল ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, এমার্জিং অর্ডারস অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’। এতে দুদিনে মোট ২০টি প্যানেল আলোচনা, একটি রাউন্ড টেবিল বৈঠক এবং একটি ফায়ারসাইড অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের গবেষকরা ৬টি পৃথক বিষয়ের ওপর ২২টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। আর কী-নোট স্পিকার ছিলেন ৭ জন। এর বাইরে ‘উইমেন অ্যান্ড ওয়ার্ক ইন সাউথ এশিয়া’ শিরোনামে একটি গ্রন্থের মোড়কও উন্মোচন করা হয়।
সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে আমদানি-নির্ভরতা, পরিবেশ বিপর্যয়, ভূরাজনীতি, গণমাধ্যমের অধিকার ও দায়, নারী ও দক্ষিণ এশিয়ার শ্রম, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও এর পরবর্তী প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক রূপান্তর, গণতান্ত্রিক একীভূতকরণ, আইসিটি অ্যাক্ট ও সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্স, আসিয়ান ও ইন্দো-প্যাসিফিক ইস্যুসহ বহু বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলোচনা করা হয়।
শুক্রবার উদ্বোধনকালে এলজিইডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো আন্তর্জাতিক সংকট উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অর্থনৈতিক অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। তবে জনগণের শক্তি ও নতুন সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।
দ্বিতীয় দিন একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান বলেন, সংস্কারের আলোচনা থেকে জনগণ নয়, বরং সরকার সরে এসেছে। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে যে সংস্কার প্রস্তাব সামনে এসেছে, তা বাস্তবায়নের পথ নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত, তা প্রতিস্থাপনের নয়। ব্যারিস্টার আরমান টেকসই রাষ্ট্র গঠনে প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা, নীতিগত ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একই প্যানেল আলোচনায় এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি বলেন, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নীতিমালাও বদলে ফেলার প্রবণতা রয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের সব উদ্যোগকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে যেসব রাজনৈতিক দল সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পর তাদের অবস্থানের পরিবর্তন সংস্কার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।