আশরাফুল ইসলাম সুমন ভূঁইয়ার সঙ্গে সুরায়া বেগম © সংগৃহীত
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়ারহাট বাজারে প্রেম, প্রতিশ্রুতি আর বিয়ের দাবিকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসক ও ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে বিয়ের আশ্বাসে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে তার ওষুধের দোকানে অনশনে বসেছেন এক কলেজছাত্রী।
অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম সুমন ভূঁইয়া (২৮) স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন পল্লিচিকিৎসক। তিনি ওমরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর ভূঁইয়ার ছেলে। ভূঁইয়ারহাট বাজারে তিনি ‘সুমন মেডিকেল হল’ নামে একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন।
অভিযোগকারী সুরায়া বেগম (২২) জানান, প্রায় ৯ মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় ভূঁইয়ারহাট বাজারের সুমন মেডিকেল হল থেকে ওষুধ কিনতে গেলে দোকানের মালিক আশরাফুল ইসলাম সুমন ভূঁইয়া তার সঙ্গে পরিচিত হন। পরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিয়ের আশ্বাসে সম্পর্কে জড়ান। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়।
সুরায়ার ভাষ্য, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুমন একাধিকবার বিভিন্ন বাসা, হোটেল ও নির্জন স্থানে তাকে নিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। সম্প্রতি ঈদের পর বিয়ের কথা বলতে সুমনের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে হুমকি দিয়ে বের করে দেন।
এরপর গত বুধবার বিকেলে বিয়ের দাবিতে সুরায়া সুমনের ওষুধের দোকানে গিয়ে অবস্থান নেন। স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তাকে ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন ভূঁইয়ার জিম্মায় রাখেন। কিন্তু দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি এলাকায় আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সুমন ভূঁইয়া দোকান বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অনশনে থাকা সুরায়া বলেন, ‘সে আমার জীবন নষ্ট করেছে। এখন বিয়ে না করলে আমি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করব।’
ঘটনাস্থলে তার হাতে বিষের বোতল দেখা গেছে, যা নিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যার জিম্মায় মেয়েটিকে রাখা হয়েছে সেই ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘স্থানীয় শালিসদাররা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মেয়েটিকে আমার কাছে রেখেছেন। কিন্তু এখনো কোনো সমাধান হয়নি। মেয়েটি যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায়, দায়ভার কে নেবে?’
সুরায়ার মা বলেন, ‘বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আমার মেয়ের প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বনাশ করা হয়েছে। এখন এর একটা সুষ্ঠু সমাধান চাই।’
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত সামাজিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সুমন ভূঁইয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।