শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে চাহিদা মতো বরাদ্দ মিলেছে। শুধু শিক্ষার মানোন্নয়নই নয়, অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এ নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর সার্কিট হাউসে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, অতীতের চেয়ে বার্ষিক বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে আনুপাতিক হারে। যে কারণে শিক্ষার মানোন্নয়নে আশানুরূপভাবে কাজ করা যাবে।
এ সময় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র নাসির উদ্দিন আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা উন্নয়ন খাতে ৬১ হজার ১১৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের তুলনায় ৮ হাজার ৫৪ কোটি টাকা বেশি। শিক্ষা খাতে ২০১৮-১৯ সালে ৫৩ হাজার ৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটে এ প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
আসন্ন বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বাবদ ২৪ হাজার ৪১ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ২৯ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ৭ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট বাজেট পেশ করা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। আর শিক্ষাখাতে সর্বমোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। যা মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়, বিশ্বে এখন তৃতীয় শিল্প বিপ্লব থেকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে উত্তরণের পথে। বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে আমাদেরকেও তৈরি হতে হবে। না হলে সামনে অগ্রসর হওয়া আমাদের জন্য দুরূহ হবে। তাই আমাদের ক্লাসরুমগুলো বিষয় উপযোগী করে তুলতে হবে, যেখানে শেখানো হবে ন্যানো টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, রোবোটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স, ম্যাটেরিয়াল সাইন্স, ইন্টারনেট অব থিংস, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ব্লকচেইন টেকনোলজি প্রভৃতি। এই সকল বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ এখন সময়ের দাবী। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।
এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় স্কুল ফিডিং নীতি প্রণয়ন কর্মসূচীর আওতায় সারাদেশে ৫০৩টি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় করার কথা জানিয়েছে সরকার। প্রাথমিক শিক্ষাখাতের বাজেটে বলা হয়ছে, স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে স্থানীয় ব্যক্তিসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের জন্য আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় স্কুল ফিডিং নীতি প্রণয়ন করা হবে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রাথমিক শিক্ষা শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
এ প্রকল্পের আওতায় ৫০৩টি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারআ্যাকটিভ ক্লাসরুম তৈরি, বিদ্যালয় কক্ষ নির্মাণ, চাহিদার ভিত্তিতে বিদ্যালয় মেরামত ও সংস্কার, বিদ্যলয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণ ও নলকূপ স্থাপন, শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান, বিদ্যালয়, অফিস ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম্পিউটার ও আইসিটি সামগ্রী সরবরাহ, বিনামূল্যে বই বিতরণ এবং উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।