ত্রিশালে অবহেলায় জাতীয় কবির স্মৃতিকেন্দ্র

২৮ আগস্ট ২০২৫, ১০:৩৩ AM , আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ০১:৩৩ PM
নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র

নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র © টিডিসি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় কেটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুরে। এখানকার বিদ্যালয়, গ্রাম ও মানুষের সঙ্গে তাঁর স্মৃতি জড়িয়ে আছে অঙ্গাঙ্গিভাবে। সেই স্মৃতি ধরে রাখতে গড়ে তোলা হয়েছে দুটি নজরুল স্মৃতি-কেন্দ্র। কিন্তু এসব কেন্দ্র আজ অবহেলায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। দর্শনার্থীরা আসেন, কিন্তু ফিরে যান হতাশ হয়ে।

ত্রিশালের দরিরামপুর হাইস্কুলেই কিশোর নজরুলের পড়াশোনা। পরবর্তীতে এই বিদ্যালয়টির নামকরণ হয় ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি। ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি কবির স্মৃতি বহন করছে আজও। ১৯৬৪ সালে বিদ্যালয়টির নামকরণ হয় নজরুলের নামে এবং ২০১৮ সালে এটি সরকারীকরণ হয়। বিদ্যালয়ের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে, কবির স্মৃতি বিজড়িত দুটি কেন্দ্র। একটি ত্রিশালের দরিরামপুর নামাপাড়া ও আরেকটি কাজীর শিমলায়।

এই স্মৃতিকেন্দ্রের ভেতরে রাখা আছে কবির ব্যবহৃত কিছু অমূল্য নিদর্শন। এখানে রয়েছে পুরোনো গ্রামোফোন, এইচএমভি কোম্পানির রেকর্ড, বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি ও উর্দু ভাষায় লেখা তাঁর কিছু পাণ্ডুলিপি এবং আলোকচিত্র। এগুলো কবির কৈশোরের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নতুন কিছুই যোগ হয়নি। দর্শনার্থীরা অভিযোগ করেন, সংগ্রহগুলো স্থবির হয়ে আছে, কোনো ব্যাখ্যামূলক প্যানেল বা গাইড নেই। ফলে যারা কবির জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানতে চান, তারা পর্যাপ্ত তথ্য পান না।

প্রতিষ্ঠাকাল নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, ২০০৩ সালের দিকে দুটি কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। আবার সরকারি নথি ও অনলাইন তথ্য বলছে, ২০০৮ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কেন্দ্রগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিভ্রান্তি এখনো দূর হয়নি। ফলে বাজেট বরাদ্দ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েও স্পষ্টতা নেই।

অবকাঠামোগত দুর্বলতাও প্রকট। কেন্দ্রগুলোতে যথাযথ আলোকসজ্জা নেই, সংরক্ষিত সামগ্রীর জন্য তাপ ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি বা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নেই। দর্শনার্থীদের জন্য নেই বিশ্রাম কক্ষ বা ভিজিটর সেন্টার। ফলে পর্যটন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেটি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

তবে সব অন্ধকারের মাঝেও আশার আলো রয়েছে। ত্রিশালের এ স্মৃতি কেন্দ্রগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে কিশোর নজরুলের জীবন ও সৃজনশীলতার সূচনা ঘটেছিল। কাজীর শিমলায় সাব-ইন্সপেক্টর কাজী রফিজুল্লাহর বাড়িতে তাঁর লেখালেখির নিদর্শন পাওয়া যায়। 
 কলেজ শিক্ষক আতাউর রহমান মনে করেন, দরিরামপুর হাই স্কুল এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে একীভূত করে গবেষণা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালানো গেলে এ অঞ্চল হয়ে উঠতে পারে নজরুল চর্চার কেন্দ্র।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন হোক। নজরুল সঙ্গীত কর্মশালা, কবিতা আবৃত্তি, নাটক ও গবেষণা আলোচনা হলে তরুণ প্রজন্ম নতুনভাবে কবিকে আবিষ্কার করতে পারবে। বার্ষিক উৎসবের মাধ্যমে নজরুলকে ঘিরে সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটানো সম্ভব। স্কুলকলেজের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গাইড হিসেবে নিয়োগ দিলে তারা শুধু ইতিহাস জানবে না, বরং গর্বের সঙ্গে অন্যদেরও জানাতে পারবে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাশেদুজ্জামান রনি বলেন, নজরুল স্মৃতিকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত উন্নয়ন। সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি ও আলোকচিত্রের ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করতে হবে। জাতীয় জাদুঘর ও নজরুল ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ প্রদর্শনী আয়োজন করা যেতে পারে। পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে “নজরুল ট্রেইল, ত্রিশাল” নামে একটি ওয়েবসাইট ও ভ্রমণ গাইড তৈরি করা জরুরি। 

সরকারি নথি অনুযায়ী কেন্দ্রগুলো সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট জবাবদিহি নেই। কোথাও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নাম শোনা যায়, আবার কোথাও মন্ত্রণালয়ের উল্লেখ মেলে। এ কারণে একটি স্পষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর প্রণয়ন জরুরি, যাতে সংগ্রহ সংরক্ষণ, বাজেট বরাদ্দ ও জনবল নিয়োগে স্বচ্ছতা থাকে।

এ ব্যাপারে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, এটা মূল নজরুল ইনস্টিটিউটের অধীনে। সেখান থেকেই দুটি স্মৃতিকেন্দ্রের দেখাশুনা করা হয়। আমরাও চেষ্টা করি আপডেট করে রাখার জন্য। তবে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের প্রয়োজন। বিল্ডিংগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিবছরই ত্রিশালে তিনদিনব্যাপী নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসবের আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক দর্শনার্থী ও গবেষকরা আসেন। এবং দুটি স্মৃতিকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের আরো সংস্কার করার জন্য উপেজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। 

অনলাইনে পরিচয় থেকে প্রেম, বরিশালের তরুণীকে বিয়ে চীনা তরুণের…
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডি বক্সের বাইরে থেকে মেসির দুর্দান্ত গোল
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এআইয়ের লাগাম টানতে আহ্বান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহীর, এ…
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পানি জমলেই বাড়ে এডিসের বংশবৃদ্ধির ঝুঁকি, ডেঙ্গু থেকে নিরাপদ…
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাবির শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইটে রিভিউ দেখা বন্ধ, নেপথ্যে য…
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চিকিৎসকদের জন্য কঠোর নির্দেশনা বিএমডিসির
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9