উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ © সংগৃহীত
‘ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সুফল ভোগ করবে সবাই‘—এ কথা বলেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। রবিবার (৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পুনর্জাগরণ কর্মসূচির’ অংশ হিসেবে আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উপাচার্য বলেন, মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের দরিদ্র শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোতে পড়াশোনা করে, আর গণঅভ্যুত্থানে এদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাই এদের জন্য মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে কারিকুলাম ও সিলেবাস সংস্কারের পাশাপাশি নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সকল আইন ও বিএড কলেজ দুর্নীতিমুক্ত করা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান প্রশাসনের গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অভিভাবকরা সম্মানিত বোধ করবেন।
গণঅভ্যুত্থানের চেতনার কথা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, সাধারণ মানুষের উন্নয়নের লড়াই ও বিপদ এখনো কাটেনি। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করতে হবে, যাতে দেশবাসী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সুফল ভোগ করতে পারে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলন বলেন, ক্ষুদ্র স্বার্থ ও মতানৈক্যের কারণে ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন আবার মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যে আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা নিয়ে দেশের ছাত্র-জনতা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল, তা পূরণ করাই গণঅভ্যুত্থানের পুনর্জাগরণের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার এবং আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাজীপুর মহানগরীর আমির অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিয়া হোসেন রানা, কর্মকর্তা আলমগীর সরকার এবং মিয়াজউদ্দিন। আলোচনা সভা উপস্থাপনা ও সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আহমেদ।
আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
উল্লেখ্য, আলোচনা সভার পূর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা ২০২৫-এর অংশ হিসেবে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।