ইজতেমার দুপক্ষের দ্বন্দ্ব সমাধানে যা বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:১৯ AM , আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৫, ০৩:৫৮ PM
হাসনাত আবদুল্লাহ

হাসনাত আবদুল্লাহ © সংগৃহীত

ইজতেমা মাঠে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সাদ ও জুবায়েরপন্থীদের সঙ্গে আলোচনাসহ তাবলিগসহ ধর্মীয় সব বিষয় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমেই সুরাহা ও মীমাংসিত হবে বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) ফেসবুকে নিজের ফেরিফায়েড আইডিতে এক পোস্ট দেন তিনি। সেখানে তাবলিগ নিয়ে সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ব্যাখ্যা দেন তিনি।

পোস্টে হাসনাত বলেন, ‘সাদপন্থী সমর্থিত ‘সচেতন ছাত্র সমাজের’ দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি এবং সকাল ১০টার মধ্যে মাওলানা সাদ সাহেবের ভিসার জন্য বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণার কারণে আমরা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সাদপন্থীদের সাথে আলোচনার জন্য টঙ্গী যাই।

সেখানে আলোচনা শেষে তারা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন এবং মাওলানা সাদ সাহেবের ভিসা জটিলতা নিরসনে পুনরায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে তারা টঙ্গী ময়দানে জোরের শর্ত দেন এবং ২৫ তারিখ মাঠ ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

টঙ্গীতে এই তিনটি বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় আমরা এটাও স্পষ্ট করি এগুলো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এ বিষয়ে কাকরাইলে মাওলানা জুবায়ের সাহেব এবং ওলামায়ে কেরামের সাথে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সে পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে হবে।

এই উদ্দেশ্যে রাত ২টায় কাকরাইলে আলোচনার জন্য যাই। সেখানে মাওলানা মাহফুজুল হক ও মাওলানা মামুনুল হকসহ অন্যান্য আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।

সেখানে পৌঁছানোর পর সাদপন্থীদের একজন মুফতি সাহেবের একটি পোস্ট আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়, যেখানে খণ্ডিত ভিডিও প্রচার করে বলা হয়েছে আমরা নাকি তাদের জোর করার অনুমতি দিয়েছি। এটি আমাদের সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ বিপরীত।

কাকরাইলে আলোচনাকালীন সেখানে আলেমদের উপস্থিতিতে আমরা তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে আমরা কোনো কর্তৃপক্ষ নই। আমরা আলোচনা করে কাকরাইল থেকে টঙ্গী গিয়ে কথা বলব এবং এরপর পারস্পরিক মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

আলোচনার মাঝেও  সাদপন্থী ওই মুফতি সাহেবকে ফোন দিয়ে বলেছি, আপনারা যদি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগে ইজতেমার ময়দানে প্রবেশ করেন, তাহলে আমাদের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক থাকবে না। আমরা কাকরাইলে আলেমদের উপস্থিতিতে সাদপন্থীদের আরও বলেছি, কোনোভাবেই আপনারা ময়দানে প্রবেশ করবেন না এবং আমাদের নিয়ে যে ভিডিও প্রচার করেছেন, তা মুছে ফেলবেন।

কিন্তু এর আগেই এই নির্মম ঘটনা ঘটেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে শান্ত ও ধৈর্য ধারণ করার জন্য অনুরোধ করছি। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা না করে  ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আহ্বান করছি। তাবলিগ একটি দ্বীনি ও ধর্মীয় ইস্যু। ফলে আমরা মনে করি, তাবলিগসহ ধর্মীয় সব বিষয় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমেই সুরাহা ও মীমাংসিত হবে।

তবে সমগ্র বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়ভার আমাদের প্রত্যেকটি নাগরিকের। দেশের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শান্তিপূর্ণ সমাধান ও অবস্থানের জন্য আমরা সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবো।’

এদিকে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান দখলকে কেন্দ্র করে মাওলানা যোবায়ের ও সাদপন্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন দুই পক্ষের অন্তত অর্ধশত অনুসারী। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে দুই পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়।

চাঁদা না দিলে ফ্যাক্টরি-মাদ্রাসা বন্ধের হুমকি, বহিষ্কার হলে…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
তুরস্কের কাছে সবচেয়ে সুন্দরী নারী ও ১০০ কোটি ডলার দাবি করল …
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
হামের জরুরি টিকাদান কর্মসূচির মধ্যেই ইপিআই প্রধানকে ওএসডি
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘ বিরতির পর ক্রীড়াঙ্গনে ‘বৈশাখী উৎসব’
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধে ১১ বিলিয়ন ডলার খুইয়েছে ইসরায়েল
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি ইনভেস্টমেন্ট করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬