‘আওয়ামী লীগের স্বৈরশাসন ৪ খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল’

২০ অক্টোবর ২০২৪, ১১:০৩ AM , আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৫, ১১:০৫ AM
অধ্যাপক আলী রীয়াজ

অধ্যাপক আলী রীয়াজ © সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের স্বৈরশাসন চারটি খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল মন্তব্য করেছেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা ছিল বল প্রয়োগের ওপর এবং সেটার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় পিলার হলো, একধরনের আদর্শিক আধিপত্য তৈরি করা হয়েছিল। এর মধ্যে কখনো বলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, যদিও তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নয় বরং সাংঘর্ষিক। উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার কথা বলা হয়েছে, ইতিহাসের একটা বিশেষ ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখানে যেটা হয়েছে, যেটা আগের ৩৫ বছরের ইতিহাসে সফল হয়নি, বাংলাদেশের কথিত বুদ্ধিজীবীরা তাদের আত্মা বিক্রি করে দাসত্বকে মেনে নিয়েছেন। সেই দাসত্বকে তাদের অর্জন বলে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।

এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, তৃতীয় পিলার হলো গণমাধ্যমগুলো গণমাধ্যমের চরিত্র অনুসারে কাজ করতে পারেনি এবং চতুর্থ পিলার হলো, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে, বিদেশের প্রভাব ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা। এ ক্ষেত্রে সরাসরি ভারত ও প্রচ্ছন্নভাবে চীনের প্রভাব কাজ করেছে।

গতকাল শনিবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা কলেজ মিলনায়তনে কালের ধ্বনি নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা আয়োজিত 'গণ-অভ্যুত্থানে আহত কবি ও লেখকদের গল্প' শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ক্যাম্পাসে দলীয় ছাত্ররাজনীতি বন্ধে রাতে ঢাবির দুই হলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ভারত ও চীনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাহায্যে ফ্যাসিবাদ দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে বলে মন্তব্য করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশে ১৫ বছর এই ফ্যাসিস্ট রেজিমটা টিকে ছিল বিদেশি শক্তির সাহায্য নিয়ে। জাতীয় স্বার্থ বিক্রি করে দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড এই অধ্যাপক বলেন, ফ্যাসিবাদ ফেরত আসবে কি আসবে না সেই আশঙ্কায় আমরা আছি। সঠিকভাবেই আছি, ফেরত আসতে পারে কিন্তু সেটা মোকাবিলার উপায় হচ্ছে, যে চারটি বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে ১৫ বছর ফ্যাসিজম টিকেছে, সেই পিলারগুলো চিহ্নিত করতে পারছেন কি না, সেই পিলারগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া যাচ্ছে কি না।

তিনি বলেন, বিদেশি শক্তি ভারত ও চীন। ভারতের যেমন প্রত্যক্ষ একটা ব্যাপারে ছিল, চীনের প্রত্যক্ষ নয়—একধরনের সমর্থন। দুটি ক্ষেত্রেই কিন্তু জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে না পারলে, গণমাধ্যমগুলো দায়িত্বশীল, প্রকৃত গণমাধ্যমের ভূমিকা পালনের নিশ্চয়তা না দিতে পারলে, বিপরীত সংস্কৃতি দাঁড় করাতে না পারলে কেবল প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করে ফ্যাসিবাদ ঠেকানো যাবে না।

আরও পড়ুন: ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবিতে চট্টগ্রামে হাজারো শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ

প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন দরকার উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, প্রতিষ্ঠান বদলাতেই হবে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে না। আমার মত হচ্ছে, যে চারটা পিলার দিয়ে টিকে ছিল; যদি ভবিষ্যতে এসব না আনতে চাই, তাহলে ওই চারটা মোকাবিলা করি। জাতীয়তাবাদী হতে হবে, জাতীয় স্বার্থকে সামনে রাখতে হবে। সাংস্কৃতিক অভ্যুত্থান তৈরি করতে হবে, যেটা বিকল্প উপহার দেয়। গণমাধ্যমকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, যেন ওই ভূমিকা পালন করে যেটা অন্ততপক্ষে মিথ্যাচার ও ব্যক্তিপূজা না হয়।

এগুলো আমরা যতক্ষণ না উপলব্ধি করছি, এই সংগ্রাম যতক্ষণ না হচ্ছে, আমাদের এই আশঙ্কার মধ্যেই থাকতে হবে। আন্দোলন হয়, পরিবর্তন হয় না কারণ এই জায়গাগুলো আমরা এত দিন অ্যাড্রেস করতে পারিনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই সম্ভাবনা তৈরি করেছে, বলেন এই অধ্যাপক।

রোজা রাখলে কি কাজের সক্ষমতা কমে যায়, কী বলছে বিজ্ঞান
  • ০৬ মার্চ ২০২৬
উগ্রবাদ নিয়ে ভাইরাল বক্তব্যের ব্যাখ্যায় যা বললেন রিজওয়ান…
  • ০৬ মার্চ ২০২৬
আরও এক দেশে সরকার উৎখাতের আভাস ট্রাম্পের
  • ০৬ মার্চ ২০২৬
অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকবে ঢাকার আকাশ, বাড়বে তাপমাত্রা
  • ০৬ মার্চ ২০২৬
টানা কয়েক দফা বাড়ার পর কমল স্বর্ণের দাম, আজ ভরি কত?
  • ০৬ মার্চ ২০২৬
জনসংখ্যার তুলনায় রাজধানীতে প্রয়োজন ৬২৭ স্কুল, লাগবে বড় মাঠও
  • ০৬ মার্চ ২০২৬