মোবাইল ইন্টারনেট আজকালের মধ্যে চালু হতে পারে © সংগৃহীত
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র দেশে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সব ধরনের ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সারাদেশে সীমিত পরিসরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু হয়েছে। তবে বন্ধ রয়েছে মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট সেবা। মোবাইল ইন্টারনেট চালুর ঘোষণা আসতে পারে আজ। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কার্যালয়ে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
রবিবার (২৮ জুলাই) সকাল ৯টায় মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এর পরই এ ঘোষণা আসতে পারে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই প্রতিমন্ত্রী বলেন, রবি অথবা সোমবারের মধ্যে মোবাইলে ফোরজি ইন্টারনেট চালু হতে পারে। গতকাল শনিবারও তিনি একই কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ডাকভবনে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, অ্যামটবের সঙ্গে বৈঠকে সন্তুষ্ট হলে রোববার বা সোমবারের মধ্যে মোবাইলের ফোরজি নেটওয়ার্ক খুলে দেওয়া হবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গত ১৭ জুলাই ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করায় দেশের মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচ দিন পর গত ২৩ জুলাই মঙ্গলবার রাতে সীমিত পরিসরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা ফেরে। পরদিন বুধবার রাতে সারা দেশে বাসাবাড়িতে ব্রন্ডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ।
আরও পড়ুন: ইন্টারনেট বন্ধ করেনি সরকার, বন্ধ হয়ে গেছে: পলক
এ বিষয়ে পলক বলেন, সরকার দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করেনি, ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেছে। মহাখালীতে তিনটি ডেটা সেন্টারে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) ৭০ শতাংশ সার্ভার থাকে। দেশের ৩৪টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ের (আইআইজির) মধ্যে ১৮টির ডেটা এই তিনটি ডেটা সেন্টারে হোস্ট করা। দুই দিন পর তাঁরা জানতে পেরেছেন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের কাঁচপুরে সাবমেরিনের কিছু কেবল ওপরের দিকে ছিল, সেগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি খাতের ক্ষতি প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। শুধু টেলিকম খাতেই ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ডাক বিভাগের ১৭টি জায়গায় হামলা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আন্দোলনকে ঘিরে এক লাখ নতুন সিম রাজধানীতে ঢুকেছে। পলক বলেন, ১৮ থেকে ২০ জুলাইয়ের মোবাইল অপারেটরদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকার উত্তরা, রামপুরা, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী ও গাজীপুরে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ নতুন সিম কার্ডের আবির্ভাব ঘটে।