বৃক্ষমেলায় ৩৯ স্টল, চারা বিক্রির দোকান আছে একটি

০৬ জুলাই ২০২৪, ১১:৫৫ AM , আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৫, ১১:৫৬ AM
বৃক্ষমেলা

বৃক্ষমেলা © সংগৃহীত

এক সময় বাংলাদেশ ছিল ঘুঘু ডাকা ছায়া ঘেরা দেশ। এখন ঘুঘু বিরল, গাছপালারও যাই-যাই অবস্থা। শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠ প্রাঙ্গণে বৃক্ষমেলা-২০২৪ শুরু হয়েছে। তবে মেলায় বসা ৩৯টি দোকানের মধ্যে একটি মাত্র গাছের চারা বিক্রির দোকান। এরমধ্যে ৩৮টি দোকানই বিভিন্ন মুখরোচক খাবার ফুচকা-চটপটি, কসমেটিকস, প্রসাধনীসহ শিশুদের খেলনা আর বিভিন্ন রাইড দিয়ে সাজানো।

স্থানীয়রা জানায়, শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের ব্যানারে উপজেলা পরিষদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠ প্রাঙ্গণে ১৫ দিনের মেলার আয়োজন করা হয়। যা ১ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ১৫ জুলাই শেষ হওয়ায় কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে মেলায় বসা ৩৯টি দোকানের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। 

যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মুখরোচক খাবার, ফুচকা-চটপটি, কসমেটিকস, প্রসাধনীসহ শিশুদের খেলনা ও রাইড। মেলার এক কোনে পড়ে রয়েছে মান্নান নার্সারী নামের কেবল একটি গাছের চারা বিক্রির দোকান। একদিকে বন বিভাগ বলছেন মেলার আয়োজন তারা করেননি। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসন বলছে মেলাটি বনবিভাগের, তারা শুধু সার্বিক সহযোগিতা করছেন। তবে বৃক্ষমেলার নামে এমন আয়োজন মানতে নারাজ অনেকেই।

মেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় সর্বমোট দোকান বসেছে ৩৯টি। এরমধ্যে ৩৮টি দোকানই বিভিন্ন মুখরোচক খাবার ফুচকা-চটপটি, কসমেটিকস, প্রসাধনীসহ শিশুদের খেলনা আর বিভিন্ন রাইড দিয়ে সাজানো। এদিকে মেলার এক কোণে পড়ে রয়েছে মান্নান নার্সারি নামে একটি গাছের চারা বিক্রির দোকান। বৃক্ষমেলায় গাছের চারা বিক্রির ওই দোকানটিতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র ২হাজার টাকার গাছ বিক্রি হয়েছে। 

মেলায় আসা দর্শনার্থীদের গাছের চারা বিক্রির ওই দোকানটি ছাড়া বাকি সব দোকানেই ভীড় দেখা গেছে। জানা গেছে, ফুচকা, চটপটি, আঁচার, কসমেটিকস, প্রসাধনী, দা-বটির দোকানসমূহের সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাদের গড় বিক্রি প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।

শিশুদের বিনোদনের জন্য মেলার একপাশে রয়েছে ভূতের বাড়ি। দোকানটির কর্মচারী ফজল বলেন, একটি টিকিট আমরা ৪০ টাকায় বিক্রি করি। এখানে শিশুদের বিনোদন দেওয়া হয়। প্রতিদিন ১০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়। তবে ভাড়ার বিষয়টি আমি কিছু জানিনা। এটা মালিক পক্ষ ভালো জানেন।

মেলায় বসা একমাত্র নার্সারিটির মালিক মো. মান্নান হাওলাদার বলেন, আমার মূল নার্সারী মাদারীপুরে। তবে একটি বাগান শরীয়তপুরের পশ্চিম কোটাপাড়া এলাকায়ও রয়েছে। বৃক্ষমেলায় একটি মাত্র গাছের চারা বিক্রির দোকান, বিষয়টি তেমন ভালো দেখায় না। অন্য নার্সারি মালিকদের আসতে বলা হলেও, তারা আসেনি।

এমন বৃক্ষমেলার প্রধান ফটকে আয়োজক বন বিভাগ শরীয়তপুরের নাম লেখা থাকলেও গোসাইরহাটে এমন কোনো বৃক্ষমেলা বন বিভাগ আয়োজন করা হয়নি বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। উপজেলা প্রশাসন বলছে মেলাটি বনবিভাগের, তারা শুধু সার্বিক সহযোগিতা করছেন। তবে বৃক্ষমেলার নামে এমন আয়োজন মানতে নারাজ অনেকেই।

গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ঢালী বলেন, সেদিন দেখলাম ইউএনও মহোদয় মেলার জন্য মাঠে দোকান নির্মাণ করছেন। কিন্তু আমি জানতাম না, এখানে কিসের মেলা হবে। বৃক্ষমেলায় সাধারণত গাছের চারা বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু মেলায় মাত্র একটি নার্সারীর দোকান থাকবে, এ কেমন বৃক্ষমেলা! বিষয়টি গোসাইরহাট উপজেলাবাসীর জন্য লজ্জাসহ দুঃখজনক। এটা কখনোই বৃক্ষমেলা হতে পারে না।

ট্যাগ: জাতীয়
সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতি, ‘ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্…
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
জিম্বাবুয়ের সঙ্গে লজ্জাজনক হারের পর ব্যাটারদের দুষলেন তাসকিন
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪ শতাংশ শিক্ষার্থী র‍্যাগিংয়ের শিকার
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
হোয়াটসঅ্যাপে নতুন সুবিধা, অ্যাকাউন্ট ছাড়াই গ্রুপ কলে যুক্ত …
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
মেসির জাদুকরি ড্রিবলিং, ৪ মিনিটে দুই গোল করে জেতালেন ইন্টার…
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় এক সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬