বিহারি নারী ও শিশুদের সঙ্গে সৌজন্য’র সদস্যরা © টিডিসি ফটো
বিহারি নারীদের স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে 'নারী উদ্যোক্তা' হিসেবে সমাজে তাদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি ও চট্টগ্রামে বিহারি সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ তৈরী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে "সৌজন্য'। ব্র্যাক ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম (বিওয়াইপি)-র তত্বাবধানে পরিচালিত আমরা নতুন নেটওয়ার্ক, চট্টগ্রাম কোহোর্টের একটি দল হিসেবে 'সৌজন্য'র আত্মপ্রকাশ ঘটে। গত শনিবার (৪ নভেম্বর) চটগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার বিহারিপল্লিতে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে 'সৌজন্য' তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা করে।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ওব্যাট জুনিয়র হাই স্কুলের মনিটরিং অফিসার মোঃ মোজাম্মেল হোসেন। এতে আরো বক্তব্য রাখেন সৌজন্য-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা আহনাফ সাফিন, মুবাশ্বীর তাহমিদ ভূঁইয়া, মিনা আকতার, সুইটি দেওয়ান, মো: রাকিবুল আলম, মেমাচিং মং, উম্মে সালমা নেহা ও ইসমাইল হোসেন মেহেরাজ।
বক্তব্যে সৌজন্য দলের সদস্যরা বলেন, সৌজন্য একটি বিপ্লব তৈরি করতে চায়। সাম্প্রদায়িকতার শহর চট্টগ্রামে, স্বাধীনতার ৫২ বছরে এসেও শুনতে খারাপ লাগে চট্টগ্রামের অধিক মানুষই এখনো জানেনা এই শহরে অন্যান্য সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিহারি সম্প্রদায়ের মানুষেরাও বসবাস করে। আমরা 'সৌজন্য' বিহারি সম্প্রদায়ের আওয়াজ হয়ে কাজ করতে চাই।
সৌজন্য'র সদস্যরা দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সৌজন্য এর মধ্যে দিয়ে শুরু হলো একটি পরিবর্তনের যাত্রা। আমরা বাঙালির সংস্কৃতির পুনঃ উৎপত্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বীজবপন ও সুবিধাবঞ্চিত বিহারি নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করছি। এতে সকলের সহযোগিতা কামনা করি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অংশগ্রহণকৃত সকল বিহারি নারীদেরকে কাগজের তৈরি ফুল এবং শুভেচ্ছা কার্ড (Eco-friendly) বিতরণের মাধ্যমে স্বাগতম জানানো হয়। পরবর্তিতে সৌজন্য-র সকল কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতার ব্যাপারে সোচ্চার করতে স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক একটি কর্মশালাও পরিচালনা করে সৌজন্য'র সদস্যরা। এছাড়াও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম ও শিশুদের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন তারা। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরষ্কার তুলে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।