রাজা বাদশাহ ও সম্রাট © সংগৃহীত
মানিকগঞ্জের দুই ষাঁড় রাজা বাদশা ও সম্রাট কোরবানের হাট মাতাতে প্রস্তুত হয়েছে। হরিরামপুরের রাজা বাদশার ওজন ৩৩ মণ এবং সদরের সম্রাটের ওজন ৩৮ মণ বলে এ দুই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে জানা গেছে। আর এ দুইটি গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫-২০ লাখ টাকা।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল ইসলাম জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শে দুই গরুকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারে পালন করা হয়েছে। জেলায় কোরবানির জন্য ছোট-বড় মিলে ৯ হাজার ৬৬৯টি খামারে মোট ৪৬ হাজার ৯৮টি গরু, ৩৮টি মহিষ, ২২ হাজার ছাগল, ৪ হাজার ৭২৯টি ভেড়া এবং ৮১টি অন্যান্য পশু রয়েছে।
তিনি বলেন, সব মিলিয়ে জেলায় কোরবানির জন্য সর্বমোট ৭২ হাজার ৯৪৬টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৩৫ হাজার ৩৮৩টি।
হরিরামপুরে কৃষক কৃষক শাহজাহানের গোয়ালে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৩৩ মণ ওজনের রাজা বাদশাহ। উপজেলার চালা ইউনিয়নের রাজরা লাউতা গ্রামের নিজ বাড়িতে রাজা বাদশাহর দেখাশোনা করেন শাহজাহান ও তার স্ত্রী ফুলজান বেগম। ষাঁড়টির দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। আর এটি উপজেলার সবচেয়ে বড় গরু বলে দাবি এই খামাড়ির।
আরও পড়ুন: গরুর পাটগাছ খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২
শাহজানের স্ত্রী ফুলজান বেগম বলেন, ৪২ মাস আগে আমার নিজের বাড়িতে জন্ম রাজা বাদশাহর। রাজা বাদশাহর মাকে ২ লাখ টাকা দিয়ে পাঁচ বছর আগে কিনেছিলাম। ৪২ মাস আগে রাজা বাদশাহর জন্ম। এক বছর ধরে প্রতি মাসে রাজা বাদশাহর পেছনে ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
সম্রাট
৩৮ মণ ওজনের সম্রাটের দাম চাওয়া হচ্ছে ২০ লাখ টাকা। আর এটি হচ্ছে জেলার সবচেয়ে বড় গরু দাবি সদরের অরঙ্গবাদ গ্রামের কৃষক হামিদুল হকের। আদর করে তিন বছর বয়সি ষাঁড়টির নাম দেওয়া হয়েছে মানিকগঞ্জের সম্রাট।
খামারির ভাষ্য, ১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থের সম্রাটকে ঘাস, কুড়া, ভুসি খাওয়ান হামিদুল। খাবার তালিকায় নেই কোনো রাসায়নিক খাবার। নিয়ম করে তিন-চার বেলা শ্যাম্পু দিয়ে সম্রাটকে গোসল করানো হয়।
হামিদুল হকের ছেলে হাফিজ আসাদ বলেন, সৌদি আরব থেকে দেশে আসার পর বাবার সঙ্গে সম্রাটকে লালন-পালন করতে সহায়তা করছি। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক বলেন, “আশা করছি খামারি হামিদুল হক সঠিক দামে ষাঁড়টিকে বিক্রি করতে পারবেন।”