মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা: চলমান পরিস্থিতিতে কতটুকু যৌক্তিক?

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা: চলমান পরিস্থিতিতে কতটুকু যৌক্তিক?
  © প্রতীকী ছবি

পূর্বঘোষিত তারিখ অনুযায়ী আগামী ২ এপ্রিল দেশের সরকারি ও বেসকারি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষার্থী অর্থাৎ ১ লাখ ২২ হাজার ৮৮৪ জন শিক্ষার্থী এ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। কিন্তু দেশে হঠাৎ করোনার ঊর্ধ্বগতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ফলে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে একধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

করোনার প্রাদুর্ভাব কিছুটা স্বাভাবিক হতে না হতেই চলতি মাসের মাঝখান থেকে ফের উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এবার আলোচানায় করোনাভাইরাসের নতুন ধরন। দ্রুত সংক্রামক করোনার এই নতুন ধরনটি ইতিমধ্যে বিশ্বের ৮৩টির ও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশও মিলেছে করোনার নতুন রূপ। জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ধরনের করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ঝুঁকিতে তরুণরা।প্রতিদিন মৃত্যু হার ও আক্রান্তের সংখ্যা ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে৷তবে করোনার ঊর্ধ্বগতির ভেতরেই মেডিকেল পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। করোনা শঙ্কা মাথায় নিয়েই সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করার বিষয়ে ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

কিন্তু প্রশ্ন হলো কতটা রক্ষা করা হবে স্বাস্থ্যবিধি? করোনার ঊর্ধ্বগতির ভেতরই সম্প্রতি গত ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। প্রায় পৌনে ৫ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রে আসা খবরে দেখা গেছে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। স্বাস্থ্যবিধি মানার ছিটেফোঁটা ও দেখা যায়নি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে। তাই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ও স্বাস্থ্যবিধি শুধু নাম মাত্র বলা যায়।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিটি বিভাগে নির্দিষ্ট সংখ্যক পরীক্ষা দেয়ার আসন থাকে। নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন পূর্ন হলে বাকি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে নিজ বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে যেতে হয়৷ এতে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থীরা৷ চলতি মাসের ৩০ মার্চ স্কুল-কলেজগুলো খোলার কথা থাকলেও করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় স্কুল-কলেজের ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখও করোনার ঊর্ধ্বগতির ফলে পেছানো হয়েছে। তাহলে মেডিকেল পরীক্ষার্থীরা কেন স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নেই? দেশে শুধু করোনার ঊর্ধ্বগতিই নয়, এছাড়া গত কয়েকদিন ধরে দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মনে নয়া আতংক ছড়াচ্ছে।

গেলো কয়েকদিনে রাজনৈতিক সংঘাতে প্রাণ হারায় অনেকে। এখনও কাটেনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রেশ। এছাড়া আগামী ২ এপ্রিল মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার পূর্বঘোষিত তারিখে হেফাজতে ইসলাম সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।

সারাদেশে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করে প্রতিদিন রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় চলছে বিক্ষোভ, ধাওয়া-পাল্টা, সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ ও মৃত্যুর ঘটনা। দেশে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে শঙ্কা তৈরি করছে। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভ-সমাবেশ ও সংঘাতের ফলে ফলে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা এখন থমথমে অবস্থা বিরাজমান। এছাড়া তীব্র যানযটের ফলে ভোগান্তির শেষ নেই। তাই দেশের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও করোনার ঊর্ধ্বগতির ভেতর শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও নিরাপত্তার বিষয়টি আমলে নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

লেখক: সংবাদকর্মী


মন্তব্য