জয় হোক ভালোবাসার

আলী আহমদ
আলী আহমদ  © টিডিসি ফটো

পৃথিবীতে আসার পর সবকিছুর আগে যে জিনিসটার প্রয়োজন পড়ে, সেটা হলো অক্সিজেন। আর পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার সময় সর্বশেষ যে জিনিসটা আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, সেটাও অক্সিজেন। জীবনের তরে এই অক্সিজেনের গুরুত্বটা ঠিক কতটুকু তা কোন সংখ্যায় প্রকাশ করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব।

এই অতি গুরুত্বপূর্ণ অক্সিজেনের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের জীবনে ভালোবাসার উপস্থিতি। কারণ অক্সিজেন হলো প্রকৃতি কর্তৃক নির্ধারিত বিষয়। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এটি বিদ্যমান থাকবে। আর ভালোবাসা অনেকটাই মানুষের ঐচ্ছিক বিষয়। মানুষ তার ইচ্ছে মত ভালোবাসার রদবদল, পরিধি ইত্যাদি নির্বাচন করে। তার নির্বাচনের শুদ্ধতার উপর ভিত্তি করে জীবনে সুখের পরিমাণ নির্ধারিত হয়।

ভালোবাসা জিনিসটা সম্পূর্ণ আপেক্ষিক। তবে আমাদের উচিত যতটুকু সম্ভব ভালবাসাকে বৃহৎ আকারে অনুভব করা। ভালবাসা নিশ্চয়ই একটি পবিত্র অনুভূতি। আদি মানবের সৃষ্টি থেকেই ভালোবাসার বিজয় হয়ে এসেছে। এই ভালোবাসাকে নির্দিষ্ট সীমানায় আবদ্ধ করে রাখার কোনই যৌক্তিকতা নেই।

একজন পেশাদার গাড়ি চালক যেভাবে তার পেশার প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত বিভিন্ন নীতিমালার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, তেমনি একজন মানুষ তার জীবনের চালক হিসেবে জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন নীতিমালা ও ঘাত-প্রতিঘাতের ভেতর দিয়ে যেতে হয়।

আর এই নীতিমালা বা ঘাত-প্রতিঘাতের প্রতিটি মোড়ে রয়েছে বিভিন্ন বন্ধন। এই বন্ধনগুলোর মাঝে রয়েছে আবার অনেক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। বিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছেদ্য প্রতিটি বন্ধনেই রয়েছে ভালোবাসার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি। প্রতিটা প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির রয়েছে নির্দিষ্ট সীমানা। আমাদের পছন্দসই বন্ধনে নিশ্চয়ই ইচ্ছে মত ভালোবাসার প্রয়োগ করতে পারি। কিন্তু এর জন্য অন্যান্য বন্ধনগুলোর প্রত্যাশিত ভালবাসায় কমতি করার অধিকার আমাদের নেই।

নিশ্চয়ই আমাদের ভালোবাসা বিশেষ ব্যক্তি কেন্দ্রিক আকর্ষিত হয়। জীবনের প্রয়োজনে অবিচ্ছেদ্য হাতে গোনা কয়েকটি ভালবাসার মধ্যে এটি উল্লেখযোগ্য ভালোবাসা। আমাদের সকলের জীবনে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমন্বয়ে ভালোবাসার বন্যা বয়ে যাক। খুলে যাক আটকে থাকা আবেগের বাক্স। বেরিয়ে পড়ুক হৃদয় নিংড়ানো সব ভালোবাসা। জয় হোক ভালবাসার।

হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃণা, ভুল বোঝাবুঝির মত সমস্ত অপ্রত্যাশিত ও অকল্যাণকর উপসর্গের বিদায় হয়ে সেখানে কেবল ভালবাসারা সংসার বাঁধুক।

লেখক: শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ