শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার দায়ভার গুচ্ছ কমিটি নেবে?

মো. রাসেল মাহমুদ
মো. রাসেল মাহমুদ  © টিডিসি ফটো

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। একটি উজ্জল ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষা গ্রহণ অপরিহার্য। তবে সে শিক্ষা যদি দেশের উচ্চ কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হয়, তবে তো দেশ একটি সোনার টুকরো সন্তান পাবে, পাবে জাতির একটি উজ্জল ভবিষ্যৎ।

প্রতিটা সন্তান কামনা করে নিজে শিক্ষিত হবে, নিজের পরিবার, দেশ ও জাতিকে আলোকিত করবে। প্রতিটা পরিবার স্বপ্ন দেখে তার সন্তান দেশের নাম বিশ্ব দরবারে উজ্জল করবে। কিন্তু, সে শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য যদি শিক্ষার যৌক্তিক পথগুলো হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়া হয় তবে কি সে জাতি আলোকজ্জোল সকাল দেখবে কখনো?

অন্ধকার বড্ড কালো, যদি আলো না পৌঁছায়। তেমনি জাতি খুবই নিমজ্জিত যদি শিক্ষার উপর্যুক্ত বিস্তার না ঘটায়। হয়তো বুঝতে কষ্ট হয়নি সময়ের সাথে ঘটে যাওয়া দেশের সংখ্যালঘু বিভাগ পরিবর্তনকারী অসহায় শিক্ষার্থীদের কথা বলছি।

পড়ুন: ‘ডি’ ইউনিটের দাবিতে প্রেসক্লাবে অবস্থান নেবেন শিক্ষার্থীরা

মনে পড়ে! জীবনের শুরুটা সংগ্রাম আর শেষটা সংগ্রামে যায়। মাঝ পথে রঙিন স্বপ্ন আর কল্পনাহীন সিদ্ধান্ত অনেক কিছু ধ্বংস করে দেয়। ঠিক তেমনি আজ বিভাগ পরিবর্তনকারী শিক্ষার্থীরা হলো সেই সকল হতভাগা; যাদের হাতে বিভাগ পরিবর্তনকারী ইউনিট আর মৃত্যু ছাড়া আলাদা কোনো পথ বা রাস্তা নেই। একটু জেনে নেই বিভাগ পরিবর্তনটা আসলে কি?

বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট হলো- বিজ্ঞান, বানিজ্য আর মানবিকের বাইরে থাকা একটি ইউনিট। যেখানে সকল বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজি এবং সাধারণ জ্ঞান এই তিনটি বিষয় পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে পারে। কিন্তু এ বছর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে সেই ইউনিট রাখা হয়নি।

অতি দুঃখের সাথে বলতে হয়, শিক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনশীল মানি, তবে উত্তাল সমুদ্রের মাঝে তরি ডুবিয়ে মারার মতো পরিবর্তনশীল মনমানসিকা কি করে হয়? যদি আপনারা ‘ডি’ বা বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট রাখতে সম্মতি পোষণ না করেন তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। তবে সে সিদ্ধান্ত তো ১ বছর আগে জানাবেন।

পরীক্ষার পূর্ব মুহুর্তে এসে এমন একটি সিদ্ধান্ত একান্তই বৈষম্য ও শিক্ষা জুলুম। যেখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডি’ ইউনিট বাতিল করবে বলেছে এবং তারা এক বছর আগে নোটিশে বলেছে যে, আগামী বছর ‘ডি’ ইউনিট থাকবে না।

তবে আপনারা গুচ্ছতে থাকা ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় কেনো তাদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন না? আপনারা শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। কেমন সুযোগ-সুবিধা? গুচ্ছতে পরীক্ষা নিলে একটি পরীক্ষা হবে তাতে যাতায়াত কমবে, খরচ কমবে। কিন্তু অসুবিধা যে মৃত্য রেখেছেন সেটা কি তারা জানেন না?

যেখানে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে আমরা ১ লক্ষের বেশি সেকেন্ড টাইমার বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান পড়ছি, তারা কি করে করনাকালীন সময়ে, সংকটময় মুহুর্তে নতুন করে স্ব স্ব ইউনিট বিজ্ঞান, বানিজ্যের জন্য এই দুই-তিন মাস সময়ে প্রস্তুতি নেবো? এটা অসম্ভব।

মা-বাবা পারবে না নতুন করে বই কিনে দিতে, পারবে না টিউটর দিয়ে পড়িয়ে পাবলিকের স্বপ্ন দেখাতে। তবে কেনো আপনারা মনগড়া এমন একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিলেন? আজ যদি বিভাগ পরিবর্তনকারী শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করে তবে কি তার পরিবারের স্বপ্ন আপনারা পূরণ করে দেবেন? তবে কি মৃত্যুবরণকারী শিক্ষার্থীদের দায়ভার আপনারা নেবেন? আমরা শিক্ষার্থীরা এর উপযুক্ত জবাব চাই।

আমরা এমন অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। তারা ফেব্রুয়ারিতে আমাদের আশ্বস্ত করেছে বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট থাকবে। কিন্তু ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ বললেন- বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট থাকবে না। ২০ ডিসেম্বর থেকে আমরা দেশের সিংহভাগ জেলাতে আন্দোলন করি, মিছিল করি। ঢাকায় দুইবার আন্দোলন, মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ করি। কিন্তু তারা কোনো কর্ণপাত করেনি।

সুতরাং বলতে চাই- এমন একটি শিক্ষা জুলুমের অবসান ঘটিয়ে শিক্ষা নামক মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।

লেখক: যুগ্ম আহ্বায়ক, বিভাগ পরিবর্তনকারী শিক্ষার্থী ঐক্য (কেন্দ্রীয় কমিটি)


মন্তব্য