আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতির জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশদাতা জেলা জজকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয় এবং চার ঘণ্টার মধ্যেই ভারপ্রাপ্ত বিচারক বসিয়ে আ’লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্যের জামিন মঞ্জুর করা হয়।
অনেকে মনে করতে পারেন এটি ব্যতিক্রম কোন ঘটনা। কিন্তু আমি বলি এটি কোন ব্যতিক্রম ঘটনা নয়, এটি পুরোপুরি একটি পরিকল্পিত সাজানো ঘটনার মঞ্চায়ন।
এবার আসুন আসল যুক্তিতে, দেখুন বাঙ্গালি জাতি খুব কম সময়ে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে আর যখনি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তখনি বিজয় এসেছে কেউ দমাতে পারেনি ইতিহাস কিন্তু তাই বলে।
১৯৫২ সালে বাঙ্গালি জাতি মাতৃভাষার জন্য দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বিধায় পাকিস্তানি স্বৈরশাসক দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। ১৯৬৯ সনে বাঙ্গালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল তার ফলেই কিন্তু আইয়ুব খান কারাবন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল। ১৯৭১ সনে জাতি ধর্ম বর্ণ দলমত নির্বিশেষে বাঙ্গালি জাতি এক হয়ে মা-মাটি ও মাতৃভূমি রক্ষার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিল বিধায় বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে স্বাধীন করা সম্ভব হয়েছে।
এরপর দীর্ঘদিন জাতি ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি, তাই এর মাসুলও দিতে হয়েছে অনেক। ১৯৯০ সনে জাতি আবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামে এবং সফলতা নিয়েই ঘরে ফিরে, আর পতন হয় এরশাদ স্বৈরশাসনের ১০ বছর। ৯০ পরবর্তী প্রায় ত্রিশ বছর ধরে বাঙ্গালি জাতি নানান দলে/মতে/গ্রুপে বিভক্ত, তারা কমন কোন দাবি বা ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কসাই খ্যাত নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন নিয়ে দেশের আপামর জনতা দলমত নির্বিশেষে একট্টা হয়েছে, সকলের একটাই কথা মোদি ঠেকাও...! আর এটা এখন জনগণের একটা সার্বজনীন স্লোগানে পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষের ভাষ্য একটাই, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে মোদির মতো একজন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজকে কোনভাবেই গ্রহণ করা হবে না।
আজকে ডান, বাম এবং মধ্যপন্থী রাজনীতি যারা করেন সকলেই একমত যে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ মোদি ঠেকাও, আর এই ইস্যুতে দেশের আপামর জনতা আজকে ঐক্যবদ্ধ। আর এটাই ভারতীয় সরকার এবং বাংলাদেশের দাবেদারী সরকারের সবচেয়ে বড় ভয়, কারণ তারা জানে বাংলাদেশের মানুষ একবার ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের কোনভাবেই দমানে যাবে না।
তাইতো আজকে মোদি ইস্যুকে ভিন্নদিকে ঘোরাতে নিত্যদিনে নানান ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, অনেকক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে নতুন ইস্যু তৈরির কাজও চলছে। আজকে বিচারককে তাৎক্ষণিক বদলী একটি সুপরিকল্পিত ঘটনা।
তাই সকলের উদ্দেশ্যে বলছি, কেউ আবেগে গা ভাসাবেন না দয়া করে। জনগণের মাঝে যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে এটি যাতে কোনভাবেই ভেঙ্গে না যায় তাই সকলে সচেষ্ট থাকবেন। মোদির মতো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজকে বাংলাদেশে কোনভাবেই আসতে দেওয়া হবে না, ডান বাম মধ্যপন্থী বুঝি না আসুন এই ইস্যুতে সকলে এক সুরে প্রতিবাদের মিছিলে সামিল হই...!
লেখক: যুগ্ম আহবায়ক, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ