বিপ্লবী চে গুয়েভারার মৃত্যুবার্ষিকী আজ, যে কারণে তাকে স্মরণ করতেই হবে

০৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪৭ PM
স ম গোলাম কিবরিয়া

স ম গোলাম কিবরিয়া © টিডিসি সম্পাদিত

বিপ্লবী চে গুয়েভারার মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর)। ১৯৬৭ সালের এই দিনে বলিভিয়ার পাহাড়ি গ্রাম লা হিগুয়েরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান তিনি। কিন্তু মৃত্যুর পরও থেমে যায়নি তার বিপ্লবের ধ্বনি। চিকিৎসক থেকে গেরিলা যোদ্ধা, তারপর বিশ্ববিপ্লবের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন চে গুয়েভারা। তার জীবন যেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবিরাম প্রতিবাদের এক রূপকথা। পৃথিবীর যেখানেই বৈষম্য, শোষণ ও অমানবিকতা নতুন রূপে ফিরে আসে, সেখানেই স্মরণীয় হয়ে ওঠেন তিনি। 

চে হয়তো কোনো রাষ্ট্রের নায়ক নন, কিন্তু তিনি হয়ে উঠেছেন ইতিহাসের সীমানা ছাপিয়ে এক বিশ্বমানব। তার মুখ আজও তরুণ প্রজন্মের টি-শার্টে, পতাকায়, চেতনায়। মৃত্যুর ৫৮ বছর পরও তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন, ‘যতদিন অন্যায় থাকবে, ততদিন বিপ্লবী চেতনা অমর থাকবে।’

তার প্রকৃত নাম এর্নেস্তো গুয়েভারা দে লা সের্না। মন্ত্রী হিসেবে কিউবায় তার দাপ্তরিক নাম ছিল ‘আর্নেস্তো গুয়েভারা’। বিশ্বের কোটি মুক্তিকামী মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ‘চে গুয়েভারা’ নামে। এককথায় ‘চে’ বললেই সবার মানসপটে ভেসে ওঠে তারই ছবি।

জন্ম ১৯২৮ সালের ১৪ মে, আর্জেন্টিনার সান্তা ফে প্রদেশের রোজারিও শহরে। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর, বলিভিয়ার লা হিগুয়েরায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন মার্কসবাদী বিপ্লবী, চিকিৎসক, লেখক ও গেরিলা যোদ্ধা। কিউবার বিপ্লবে তিনি হয়ে ওঠেন অন্যতম শীর্ষ বিপ্লবী নেতা। এ সময় থেকেই তিনি ‘চে’ নামে পরিচিতি পান। বিপ্লব-পরবর্তী কিউবা পুনর্গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিপ্লবের পর চে গুয়েভারা কিউবার নতুন সরকারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দায়িত্ব, কৃষিজমি সংস্কার, দেশব্যাপী সাক্ষরতা অভিযান, ন্যাশনাল ব্যাংকের সভাপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর নির্দেশিকা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। সমাজতান্ত্রিক কিউবার পক্ষে কূটনীতিক হিসেবেও বিশ্ব ভ্রমণ করেন। এসব দায়িত্ব তার সামরিক নেতৃত্বকে আরও দৃঢ় করে তোলে। ‘বে অব পিগস’ আক্রমণ প্রতিহত করা এবং কিউবায় সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্র আনার মতো ঐতিহাসিক ঘটনাতেও তিনি ভূমিকা রাখেন।

আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া চে বিশ্বাস করতেন ‘পৃথিবীর যেকোনো স্থানে যেকোনো মানুষের বিরুদ্ধে অন্যায় হলে একজন মার্কসবাদী বিপ্লবীর কর্তব্য তা প্রতিরোধ করা।’ এই বিশ্বাস থেকেই তিনি কিউবার বিপ্লবে যোগ দেন। পরে একই চেতনায় বলিভিয়ায় গিয়েও লড়াই শুরু করেন।

কিউবা ছাড়ার আগে ফিদেল কাস্ত্রোকে লেখা একটি চিঠিতে চে বলেন ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আমার সব পদ থেকে পদত্যাগ করছি, এমনকি নাগরিকত্বও। কিন্তু যে বন্ধন রইল, তা কোনো পদত্যাগে ভাঙার নয়।’

চে ছিলেন শারীরিকভাবে দুর্বল কিন্তু মানসিকভাবে দৃঢ়। মেডিকেল ছাত্রাবস্থায় বন্ধু আলবের্তো গ্রানাদোকে নিয়ে ১৯৫২ সালে মোটরসাইকেলে ল্যাটিন আমেরিকা ভ্রমণে বের হন। এ সফরই তার মধ্যে জন্ম দেয় বিপ্লবী চেতনা। পরে ফিদেল ও রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে যোগ দিয়ে ‘২৬ জুলাই আন্দোলনে’ অংশ নেন এবং সিয়েরা মায়েস্ত্রা পাহাড়ে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করে বিপ্লবের অন্যতম সেনাপতি হয়ে ওঠেন।

বিপ্লব-পরবর্তী কিউবায় দায়িত্ব পালনকালে চের সঙ্গে পরিচয় হয় পূর্ব জার্মান কমিউনিস্ট বিপ্লবী তানিয়ার সঙ্গে। তারা বলিভিয়ায় গেরিলা অভিযান শুরুর পরিকল্পনা করেন। ১৯৬৫ সালে চে গোপনে কিউবা ত্যাগ করে কঙ্গো, তানজানিয়া, প্রাগ হয়ে বলিভিয়ায় প্রবেশ করেন। সেখানে নতুন করে গেরিলা বাহিনী গঠন করেন।

চে নিয়মিত ডায়েরি লিখতেন। তার বলিভিয়ার ডায়েরিতে উঠে আসে ১৯৬৭ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত যুদ্ধ পরিস্থিতি। পরদিন ৮ অক্টোবর সরকারি বাহিনীর হাতে তিনি আহত অবস্থায় বন্দি হন। এর পরদিন ৯ অক্টোবর বলিভিয়ান সেনা কর্মকর্তা মারিও তেরান গুলি চালিয়ে হত্যা করেন চে’কে। ৯টি বুলেটের আঘাত পাওয়া যায় চে’র দেহে।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, চে যুদ্ধের সময় আহত হয়ে মারা যান। সে বিবৃতি কেউ বিশ্বাস করেনি। সরকার গোপনে তার মুখের ছাপ তুলে ও দুই হাত কেটে রাখে প্রমাণ হিসেবে, যেন তার কবর কোনো বিপ্লবী তীর্থে পরিণত না হয়।

ফিদেল কাস্ত্রো পরে চে’র মৃত্যুর খবর ঘোষণা করলে সারা বিশ্ব শোকাহত হয়। কিউবায় তিন দিন জাতীয় শোক পালন করা হয় এবং ৮ অক্টোবরকে ‘বীর গেরিলা দিবস’ হিসেবে পালনের অঙ্গীকার করা হয়।

পরের বছর প্রকাশিত হয় চে’র বলিভিয়ার ডায়েরি, যা প্রকৃতই চে’র লেখা বলে প্রমাণ করেন ফিদেল কাস্ত্রো। পরে জানা যায়, বলিভিয়ার তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও আর্গেদাস নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চে’র ডায়েরি, মুখের ছাপ ও কাটা হাত হাভানায় পাঠিয়েছিলেন।

চে গুয়েভারা শুধু কিউবার নয়, বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের মুক্তির প্রতীক। তিনি বিশ্বাস করতেন, বিপ্লবের আগুন এক দেশে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়—তা ছড়িয়ে পড়তে হবে সমগ্র ল্যাটিন আমেরিকায়। তার মৃত্যু ঘটলেও আদর্শের মৃত্যু হয়নি। চে আজও বেঁচে আছেন প্রতিটি মুষ্টিবদ্ধ হাতে, প্রতিটি বিপ্লবী চিন্তায়, প্রতিটি ন্যায়বিচার-পিপাসু হৃদয়ে।

চে গুয়েভারার ৫৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা।

স ম গোলাম কিবরিয়া: সাবেক মহাপরিচালক, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি)

কিউএস এশিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা ঢাবি
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ৩ দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশি…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন চীনের কমিউনিস্ট পার্ট…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত ক…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সিনেটে হারল ট্রাম্পের দল, হাউজেও এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করলে কি নম্বর কমবে—যা বলছে…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950