সব নির্বাচন হয় জাকসু নির্বাচন হয় না

১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:০৪ PM

© ফাইল ফটো

সিকি শতাব্দীর বেশি সময় ধরে বন্ধ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও শুধু জাকসু নির্বাচন হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছরে জাকসু নির্বাচন হয়েছে মাত্র ৯ বার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই দিক দিয়ে নীরব আছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে নির্বাচন দেওয়ার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের উদ্যোগ থাকলেও সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন তিনি। বিভিন্ন সময় বামপন্থি শিক্ষার্থীরা জাকসু নির্বাচনের দাবি করতে করতে তারাও এখন ক্লান্ত। 

১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পরের বছরই প্রথম জাকসু নির্বাচন হয়। এতে প্রথম সহ-সভাপতি (ভিপি) মোর্শেদ ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) বোরহান উদ্দিন রোকন নির্বাচিত হন। এরপর বিভিন্ন মেয়াদে বিরতি দিয়ে আরও ৯ বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকারের সময় জাকসু নির্বাচনে মাসুদ হাসান তালুকদার সহ-সভাপতি (ভিপি) ও শামসুল তাবরীজ মিঠু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন।

কিন্তু ১৯৯৩ সালে শিক্ষকের ওপর শিক্ষার্থীদের হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ভেঙে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। অথচ জাকসু নির্বাচনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া। দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে ১১ জন ভিসি বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করলেও কেউই নির্বাচনের জন্য দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।

তবে ২০১৩ সালে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন হঠাৎ জাকসু নির্বাচনের ঘোষণা দেন। ওই সময় এ নির্বাচন কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক একেএম শাহনাওয়াজকে প্রধান করে নির্বাচন কমিশনও গঠন করা হয়। ওই সময় নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্রও বিতরণ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে জাকসু নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে নির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু এরপর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলেও আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। 

ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ নির্বাচন না হওয়ার পেছনে শিক্ষকদের একটি অংশের পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। নির্বাচনের জন্য প্রকাশ্যে তারা দাবি জানালেও ভেতরে ভেতরে তারা বিরোধিতা করেন। এছাড়া যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের অনিচ্ছার কারণেই এ নির্বাচন হয় না। অনেক সময় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের রাজনীতিতে ক্ষমতাসিন ছাত্রনেতারা শীর্ষ নেতৃত্ব হারাতে পারেন-এমন শঙ্কা থেকেও নির্বাচনের ঝুঁকি নিতে চান না। 

নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, আমরা বলেছিলাম একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর জাকসু নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করব। কিন্তু সামনে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের কারণে বিষয়টি নিয়ে আমি আমার সহকর্মীদের সঙ্গে এখনও বসতে পারিনি। তবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে আমাদের নির্বাচনও করা হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সরকারের সহযোগিতার প্রয়োজন।

ভোট চুরি ঠেকাতে ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে পাহাড়ায় থাকার আহ্বান রুম…
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের অধিকাংশ পণ্যের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করল ইইউ
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
ইউনিটপ্রধানদের কর্মস্থল ছাড়তে লাগবে আইজিপির অনুমতি
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীতে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
মুড়ি-বাতাসা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় এনসিপির প্রার্থী
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কালার-ধন মিয়ার গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, ১১ নারী গ্রে…
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬