মাদ্রাসায় শিশুদের শিকলে বেঁধে নির্যাতন, ভাইরাল ভিডিও

১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ AM
শিকলে বেঁধে রেখে নির্যাতন

শিকলে বেঁধে রেখে নির্যাতন © সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে একটি মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের শিকলে বেঁধে রাখা ও নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। বন্ধ কক্ষে শিশুদের এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড়, মাথায় আঘাত এবং স্কেল দিয়ে পেটানোর কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ছড়িয়ে পড়া দুটি ছবিতে দুই শিশুকে জানালার সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার দৃশ্য দেখা গেছে। এসব ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলেকজান্ডার এলাকায় অবস্থিত মাদ্রাসায়ে বাবুত তাকওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মাদ্রাসাটির প্রধান শিক্ষক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রামগতি পৌরসভার সভাপতি হাবিবুল্লাহ নীরবকে ঘিরেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে এক শিশুকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারছেন এক ব্যক্তি। একপর্যায়ে শিশুটির মাথায় আঘাত করা হয়। পরে স্কেল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেটাতেও দেখা যায় তাকে। অন্য একটি ভিডিওতে আরেক শিশুকে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে মাথায় বারবার আঘাত করতে দেখা যায়। আরও একটি ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধরের দৃশ্য রয়েছে।

এ ছাড়া ছড়িয়ে পড়া দুটি ছবিতে দুই শিশুকে জানালার সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার দৃশ্য দেখা গেছে। এসব নির্যাতনের সময় অন্য শিক্ষকেরা উপস্থিত থেকেও নিষ্ক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ২০২৫ সালে রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসায়ে বাবুত তাকওয়া প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদ্রাসাটিতে শিশুদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক আচরণ করা হলেও ভয়ে তারা বাড়িতে এসে কিছু বলত না। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষকদের নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আসে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

মাদ্রাসাটির সহকারী শিক্ষক আবদুল মতিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। তবে তার দাবি, একজন শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করেছেন।

প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ নীরব বলেন, ‘একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছে। আমরা তাকে বহিষ্কার করেছি। আমি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।’

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের অভিভাবকেরা আমার কাছে এসেছিলেন। তবে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাতের ব্যথার জন্য দায়ী খাওয়াদাওয়া, কী বলছে গবেষণা?
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬
সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ালে ৩১ সালের নির্বাচনে জয়ের দ্বার উন্মোচ…
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬
অভিজিৎ দীপকেসহ সিজেপির তিন নেতাকে মুক্তি
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬
​ওজন কমাতে কার্যকর ৯ ব্যায়াম, শুরু করতে পারেন আজই
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ ও সৌদি সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসে এনএসইউ–বিআইআইএসএসের জ…
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬
মাদ্রাসায় শিশুদের শিকলে বেঁধে নির্যাতন, ভাইরাল ভিডিও
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬