মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর © ফাইল ছবি
সদ্য জারি হওয়া মাদ্রাসার জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। তাদের অভিযোগ, নতুন নীতিমালায় এমপিওভুক্ত আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় একাধিক পদে জনবল উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় নীতিমালা পুনর্বিবেচনার দাবিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেন তারা। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে অধিদপ্তর। এই চিঠির মাধ্যমে এমপিও নীতিমালায় সংশোধন আনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এমপিও নীতিমালায় থাকা অসঙ্গতিগুলো দূর করতে আজ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে তার আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মাদ্রাসা অধিদপ্তরে জমা দেওয়া চিঠিতে শিক্ষকরা জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জারি করা হয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালের নীতিমালা (২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত সংশোধিত) কার্যকর ছিল। দুটি নীতিমালা তুলনা করে দেখা যায়, সদ্য জারি হওয়া নীতিমালায় এমপিওভুক্ত আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদরাসায় বহু পদে জনবল কমানো হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, মাদ্রাসা শিক্ষা একটি স্বতন্ত্র শিক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষা মূল ভিত্তি হলেও সাধারণ শিক্ষাও সমান্তরালভাবে চালু রয়েছে। বাস্তবতা অনুযায়ী যেখানে জনবল বৃদ্ধি প্রয়োজন ছিল, সেখানে নতুন কাঠামোতে জনবল বাড়ানোর পরিবর্তে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পাঠদান কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হবে, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং ধীরে ধীরে এ শিক্ষা ব্যবস্থা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
এমন প্রেক্ষাপটে, ২০১৮ সালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বিদ্যমান পদসংখ্যা বহাল রেখে ১ ফেব্রুয়ারি জারি হওয়া নতুন নীতিমালা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষকরা।