উচ্চ আদালত © সংগৃহীত
নারীর মরদেহের ময়নাতদন্তে সরকারি হাসপাতালে নারী কর্মী নিয়োগ কেন নয়, জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ রবিবার (১৯ জুলাই) এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।
মর্যাদা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে নারীর মরদেহের ময়নাতদন্ত নারী কর্মীদের দিয়ে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মনির উদ্দিন গত ৩০ জুন রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দীন মো. হানিফ।
শুনানি শেষে আবেদনকারী আইনজীবী মনির উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, নারীর মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম কেন নিয়োগ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে হবে।
এর আগে দেশের যেসব হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয়, সেসব হাসপাতালে একজন করে নারী ডোম নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে গত ১৩ মে আবেদন করেন রিট আবেদনকারী মনির উদ্দিন। এতে ফল না পেয়ে ওই আবেদন নিষ্পত্তিতে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন তিনি।
বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ রাষ্ট্র উল্লেখ করে ওই আবেদনে বলা হয়, ইসলাম ধর্মসহ সব ধর্মেই নারীর লাশ সতর বা পর্দার অন্তরালে রাখার বিধান রয়েছে। ময়নাতদন্ত একটি আইনি প্রক্রিয়া হলেও নারীর ক্ষেত্রে পরপুরুষের স্পর্শ বা উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। ইতিপূর্বে দেশে পুরুষ কর্তৃক মৃত নারীর লাশের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে নারী ডোম থাকলে গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা পাবে।
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান সময়ে নারীরা সব ক্ষেত্রেই পুরুষের সঙ্গে কাজ করছেন উল্লেখ করে আবেদনে বলা হয়, ময়নাতদন্তের মতো জায়গায় নারী ডোম থাকলে ধর্মীয় বিষয়টি রক্ষা পাবে এবং বৈষম্যও দূর হবে। আধুনিক সমাজে নারী রোগী বা লাশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি যুগোপযোগী চাহিদা। মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী, মৃত্যুর পরও একজন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিশ্চিত করা জরুরি। মর্গে অনেক সময় পুরুষ ডোমের দ্বারা মৃত নারীর সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য, ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে নারী মরদেহ নারী চিকিৎসক দিয়ে পরীক্ষা করার সুযোগ রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনের বিল গত ৯ জুলাই জাতীয় সংসদে তুলতে চেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। একই সঙ্গে কিছু দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের আবেদনে ময়নাতদন্ত না করার সুযোগ রাখার বিষয়টিও ছিল চট্টগ্রাম-১৫ আসনের এই এমপির বিলে। তবে আইনমন্ত্রীর আশ্বাসে বিলটি প্রত্যাহার করেছিলেন তিনি।