চিফ প্রসিকিউটর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম © টিডিসি সম্পাদিত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে। আমরা নিহত প্রায় ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। কিন্তু ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের সম্ভব হয়নি। তবে আমাদের তালিকা আছে ৬১ জনের।’
রবিবার (১৯ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনাটি একটি পদ্ধতিগত অপরাধ। এটি ছিল ব্যাপক ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড, এর সুপিরিয়র রেসপনসিবলিটি রয়েছে। একদম পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।’
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যখন ব্লগারদের বিরুদ্ধে হেফাজত নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করছিলেন, ঠিক তখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে সংগঠনটিকে একেবারে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে। নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।’
আরও পড়ুন: বিপ্লবের উত্তরাধিকারকে অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে মুখোমুখি দাড় করাতে চায়
তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছে জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা বা চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হবে, যেন সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার হয়। প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছি। শিগগিরই পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে পাবো বলে আশা করছি।’
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত আসামিদের তালিকা প্রকাশ করতে পারছি না। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মামলার প্রধান আসামি। তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। সাবেক পুলিশপ্রধান, বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনেন বিরুদ্ধে প্রতিবেদন এসেছে। এসব যাচাই-বাছাই করে দেখব। যাচাই-বাছাই শেষে সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে। হেফাজত নেতারা এ ঘটনার সাক্ষী।’