আদ-দ্বীন হাসপাতাল © টিডিসি ফটো
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজ সোমবার (২৯ জুন) সুপ্রিম কোর্টে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ।
তিনি জানান, আজ দুপুর ২টায় আলোচিত আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিন্ধান্তের বিরুদ্ধে করা রিটের শুনানি অনুষ্টিত হবে।
গত ১১ জুন ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করার পর, গত ১৫ জুন সামরিক ফরমানের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বপ্রণোদিত হয়ে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন তিনি।
এই রিট আবেদনের মূল আইনি ভিত্তি হিসেবে এরশাদ সরকারের আমলের একটি সামরিক অধ্যাদেশকে সামনে আনা হয়েছে। রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ যুক্তি দেখিয়ে প্রশ্ন তোলেন, 'আদ দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হয় ১৯৮২ সালে এর্শাদ ঘোষিত সামরিক ফরমানে ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশের ১১(১) ধারায়, ১৯৭৫-১৯৭৯ পর্যন্ত জিয়ার সকল ফরমান আদালতের মাধ্যমে (৫ম সংশোধন রায়ে) বাতিল হলে ১৯৮২ সালের এরশাদের সামরিক ফরমান কেন বাতিল হবে না?'
এর আগে গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে মাত্র এক থেকে তিন দিন বয়সী ছয়টি নবজাতক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। সদ্যজাত এই শিশুদের কোনো নাম রাখা না হওয়ায় চিকিৎসকেরা মায়েদের নামের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করছিলেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর হাসপাতালে চরম অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান। এই ঘটনার পর পরই দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও আলোড়ন তৈরি হয়।
নবজাতকদের এমন আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরবর্তীতে গত ৩০ মে সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান যে, এই তদন্ত কমিটি আগামী ৩ জুনের মধ্যে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে।
সরকারের পাশাপাশি ঘটনার সত্যতা ও নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও নিজস্ব উদ্যোগে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। শুরুতে তারা সেই তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে এবং জানায় যে, প্রতিবেদনটি সরাসরি প্রকাশ না করে কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েই জমা দেওয়া হবে। সেই তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় আজই উচ্চ আদালতে নির্ধারিত হতে যাচ্ছে এই বেসরকারি হাসপাতালের ভাগ্য।