ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম © ফাইল ছবি
অবশেষে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। অনেকটা গোপনীয়তার সঙ্গে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। পরে সাদ্দাম পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যশোর ত্যাগ করে বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জেল সুপার (সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) মো. আসিফ উদ্দিন।
জামিনে বের হয়ে সাদ্দাম বলেন, আমার স্ত্রী-সন্তানের কবরের কাছে যেতে মন ছটফট করছে। কারামুক্ত হয়েই তিনি পরিবারের সঙ্গে বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে মোবাইল ফোনে সাদ্দাম জানান, আমার স্ত্রী-সন্তানের কবরের কাছে যেতে মন কাঁদছে। তাই সেই উদ্দেশ্যেই রওনা হয়েছি। এ সময় তিনি কারা কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, আমি তো অনেক বড় নেতা নই। আমি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। আমি কোনো দখলবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। তাহলে আমার এই দায়ভার কে নেবে?” বলে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।
সূত্র জানায়, সাদ্দামকে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় তিনি জামিন পান। এরপর একের পর এক নতুন মামলা দেওয়া হয়। একইভাবে যখনই সাদ্দামের জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছাত, তখনই আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হতো। এভাবে ছয়টি মামলায় তার জামিন হয়।
গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। সর্বশেষ গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিলেন।
এ সময় তার স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুসন্তানের মৃত্যু নিয়ে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানানো হলেও সাদ্দাম মুক্তি পাননি। সর্বশেষ মৃত্যুর পরদিন, ২৪ জানুয়ারি মৃত স্ত্রী ও সন্তানের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে আনা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলগেটের ভেতরে পাঁচ মিনিটের জন্য সাদ্দামকে তার স্ত্রী কানিজ স্বর্ণালী ও নয় মাসের শিশুসন্তান সেজাদ হাসান নাজিফের লাশ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে হাইকোর্ট ২৬ জানুয়ারি তার ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। দু’দিন পর জামিনের কাগজপত্র পৌঁছালে বুধবার দুপুর ২টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি কারামুক্ত হন। এসব বিষয়ে জানতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।