প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো
দীর্ঘ একমাস সিয়াম পালনের পর বাংলাদেশে আগামীকাল শনিবার পালিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর, যা মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ দিনের মূল আকর্ষণ হলো জামাতে ঈদের নামাজ আদায়। তবে অনেকেই ঈদের নামাজের সঠিক পদ্ধতি নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। ইসলামী শরীয়তের আলোকে এ নামাজের নির্দিষ্ট নিয়ম ও সুন্নাহভিত্তিক পদ্ধতি রয়েছে।
ইসলামী সূত্র মতে, ঈদের নামাজ দুই রাকাত। সাহাবি হযরত উমর (রা.) বলেন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ দুই রাকাত এটাই পূর্ণাঙ্গ নামাজ, এতে কোনো সংক্ষিপ্ততা নেই।
নামাজের পদ্ধতি
ঈদের নামাজ সাধারণত জামাতে আদায় করা হয় এবং ইমামের নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়।
প্রথম রাকাতে ইমাম তাকবীরে তাহরিমা দিয়ে নামাজ শুরু করেন। এরপর অতিরিক্ত ছয় বা সাতটি তাকবির দেন। তারপর সূরা ফাতিহা পাঠের পর সূরা ক্বাফ তিলাওয়াত করা সুন্নাহ।
দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে পাঁচটি অতিরিক্ত তাকবির দেওয়া হয়। এরপর সূরা ফাতিহা পড়ে সূরা ক্বামার তিলাওয়াত করা উত্তম। তবে বিকল্প হিসেবে প্রথম রাকাতে সূরা আ’লা এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা গাশিয়া পড়ার কথাও হাদিসে এসেছে।
খুতবার নিয়ম
ঈদের নামাজ শেষে ইমাম খুতবা প্রদান করেন, যা জুমার খুতবার মতো নয় বরং আলাদা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। খুতবার মাধ্যমে মুসল্লিদের নসিহত, দিকনির্দেশনা এবং সামাজিক বার্তা প্রদান করা হয়। বিশেষ করে নারীদের জন্যও আলাদা করে উপদেশ দেওয়ার কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ দিক
ইসলামের বিধান অনুযায়ী, ঈদের নামাজ আগে আদায় করতে হবে, এরপর খুতবা দিতে হবে। হাদিসে এসেছে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বপ্রথম নামাজ আদায় করতেন, তারপর খুতবা দিতেন।
সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) ঈদের দিন নামাজ শেষ করে মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে তাদেরকে উপদেশ দিতেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতেন। [সূত্র: ইসলাম কিউএ]