রমজানে জামাতে বিতরের নামাজ আদায়—নাকি রাতের শেষ অংশে উত্তম?

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০১ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

পবিত্র রমজান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মুসলিমদের জন্য রহমত, মাগফিরাত, নাজাতের এক অনন্য মাস। এই মাসে তারাবির নামাজ আদায়ে রয়েছে বিশেষ ফজিলত। রমজানে এশার ফরজ নামাজ আদায় করার পর মূলত শুরু হয় তারাবির নামাজ। তারাবি শেষে জামাতে বিতরের নামাজ আদায় করা হয়। এটি অনেকে জামাতে আবার অনেকে তাহাজ্জুদের শেষে সেহরির আগে অথবা পরে এই বিতরের নামাজ আদায় করে থাকে। আসলে এটি তারাবির শেষে জামাতে আদায় নাকি রাতের শেষ অংশে আদায় করা উত্তম? 

কারো শেষ রাতে জাগ্রত হওয়ার নিশ্চয়তা থাকলে তাহাজ্জুদের সময় বিতর পড়া উত্তম। তবে শেষ রাতে জেগে বিতর পড়তে না পারার আশঙ্কা থাকলে, শুরুর রাতে পড়ে নেওয়া জরুরি। না হয়, শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পরে এরপর বিতর আদায় করে নেওয়া উত্তম।

আলেমরা বলেন, রমজান মাসে বিতর নামাজ একাকী শেষ রাতে আদায় করার চেয়ে তারাবির পর জামাতের সঙ্গে আদায় করা উত্তম। আর অন্য মাসে কেউ যদি শেষ রাতে ওঠার ব্যাপারে নিজের প্রতি আস্থাশীল হয় তাহলে তার জন্য শেষ রাতে পড়াই উত্তম। তাই আপনার বাবা অন্য মাসে তাহাজ্জুদের পর বিতির পড়লেও রমযান মাসে তারাবীর পর জামাতের সঙ্গেই বিতির পড়ে নেবেন। (আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৬৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৪৪; ফাতহুল কাদীর ১/৪০৯; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৪২১; মারাকিল ফালাহ, পৃ. ২১১)

জামাতে বিতরের নামাজ একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ও অধিক ফজিলতপূর্ণ আমল। সাহাবিদের (রাঃ) যুগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত রমজানে জামাতে বিতর পড়ার প্রচলন রয়েছে। সাহাবা, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন এবং পরবর্তী যুগের সকল সঠিক পথপ্রাপ্ত আলেমগণ এই আমল অব্যাহত রেখেছেন। আজও মক্কার কাবা শরিফ ও মদিনার মসজিদে নববীতেও এই নিয়মে জামাতে বিতর পড়া হয়।

প্রাচীন যুগের বড় বড় ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণ সর্বসম্মতভাবে বলেছেন যে রমজানে জামাতে বিতর পড়া, তাহাজ্জুদের পরে একা পড়ার চেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ ও উত্তম।

এটি রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিক্ষা ও আমলের বিরোধী নয়; বরং সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) তাঁর আমল বুঝেই এভাবে বিতর জামাতে আদায় করতেন। কোনো মুসলিমের জন্য এটা গ্রহণযোগ্য নয় যে সাহাবায়ে কেরাম এমন কোনো কাজে একমত হবেন যা রাসূল (সাঃ)-এর শিক্ষার বিরোধী।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) রাতে কত রাকাত নামাজ পড়তেন, তা সাহাবাগণ প্রত্যক্ষ করেছেন। তারা তাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন এবং তাঁর আমল সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখতেন। এই জ্ঞানের ভিত্তিতেই সাহাবাগণ ২০ রাকাত তারাবি এবং জামাতে বিতর পড়ার উপর ঐক্যমত্যে পৌঁছান। যদি এটি রাসূল (সাঃ)-এর আমলের বিপরীত হতো, তাহলে অবশ্যই অন্য সাহাবাগণ বা তাঁর পরিবারবর্গ এর বিরোধিতা করতেন। কিন্তু এমন কোনো বিরোধিতা পাওয়া যায়নি।

এই সাহাবাগণের ইজমা (ঐক্যমত্য) থেকে বোঝা যায় যে ২০ রাকাত তারাবি এবং জামাতে বিতর পড়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর অনুমোদিত আমলের অন্তর্ভুক্ত। এজন্য প্রাচীন যুগের ফকিহগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে রমজানে জামাতে বিতর পড়া অধিক ফজিলতপূর্ণ।

মুফতি সাইয়্যিদ আবদুর রহীম (রহঃ) বলেন, 'হযরত উমর (রাঃ)-এর যুগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নেককার পূর্বসূরি ও আলেমগণের আমল হচ্ছে রমজানে জামাতে বিতর পড়া। তাই যারা তাহাজ্জুদ পড়েন, তাদের জন্যও জামাতে বিতর পড়াই বেশি ফজিলতপূর্ণ।' [ইসলাম কিউ&এ]

নকলের দায়ে ১২৩ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শেখ রেহানার স্বামী শফিক সিদ্দিকের আয়কর নথি জব্দের আদেশ
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকার দুটিসহ ৬ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে হবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন: স্থান…
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই ভিসির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সরকার ও বিরোধী দলীয় হুইপের কাজ কী?
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬