হামলায় ভেঙে গেছে ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফারের বাড়ির জানার কাচ © সংগৃহীত
নোয়াখালীর হাতিয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা আবদুল গাফফার (জিসান)-এর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের সাগরিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য এনসিপির নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছেন ভুক্তভোগী, যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে দলটি।
আবদুল গাফফার দাবি করেন, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে তিন কোটি টাকা চুক্তির বিনিময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলায় এনসিপি নেতারা তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন।
এর আগে, গত ৩ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্ট দিয়ে গণঅধিকার পরিষদ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খাঁন অভিযোগ তোলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন এনসিপির নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ। আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্যকে (সাবেক) টাকার বিনিময়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। আবদুল গাফফার এ সময় আবদুল হান্নান মাসউদের সঙ্গেই থাকতেন। আবদুল হান্নান মাসউদ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ঢাকার একাধিক রেস্তোরাঁয় বৈঠকের পর আবদুল গাফফারকে বলেন, ‘ভাই, ওরা ১ কোটি দিতে চায়, আপনি ৩ কোটিতে ডিল করেন।’
রাশেদ খাঁনের দেওয়া পোস্টটি ওই দিনই নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন আবদুল গাফফার। এরপর আবদুল হান্নান মাসউদও তার ফেসবুক আইডিতে গাফফারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথোপকথনের একটি রেকর্ড পোস্ট করেন। সেখানে আবদুল গাফফারকে উদ্দেশ করে কেন তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ তোলা হয়েছে জানতে চান হান্নান মাসউদ। জবাবের একপর্যায়ে এর জন্য ক্ষমা চান আবদুল গাফফার।
এদিকে আবদুল হান্নান মাসউদের পোস্টের পর আবদুল গাফফারের আরেকটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন রাশেদ খাঁন। এতে গাফফার দাবি করেন, সান্ত্বনা দিতে গিয়েই তিনি আবদুল হান্নান মাসউদকে ফোন দিয়েছিলেন। আবদুল হান্নান মাসউদের ‘তিন কোটি টাকায় চুক্তি করতে’ চাওয়ার ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্য। তবে গাফফার এ বিষয়ে রাজি না হওয়ায় ‘চুক্তিটি সমঝোতা’ হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে একদল লোক আবদুল গাফফারের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। তার ঘরের তিনটি জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। এ সময় বাড়ির লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাড়ির লোকজনের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় পর নিজের ফেসবুক আইডিতে ৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের লাইভে এসে আবদুল গাফ্ফার অভিযোগ করেন, নোয়াখালী-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর কাছে হান্নান মাসউদের তিন কোটি টাকা চাওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসায় তার গ্রামের বাড়িতে এনসিপির কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। দিনভর অনলাইনে তাকে নানা হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাড়িতে থাকি না। বাড়িতে থাকেন আমার বৃদ্ধ বাবা-মা। কী দোষ ছিল আমার বাবা-মায়ের?’
অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির হাতিয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. সামছু তিব্রিজ বলেন, গাফফার ঢাকায় বসে ওই হামলার নাটক সাজিয়েছেন নিজের অপরাধ ঢাকার জন্য। সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের অনুরোধে রাতে দলীয় নেতাদের নিয়ে তিনি ওই বাড়িতে গিয়ে সহমর্মিতা জানিয়ে এসেছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাদের আকাম ঢাকতে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। সংসদে যাব, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলবো। এজন্য চাপে রাখতে নোংরা রাজনৈতিক শুরু করছে। আর আবদুল গাফফার আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। সে যদি অপরাধ না করে তাহলে সে কেন ক্ষমা চাইবে। আপনারাই অনেক কিছু ভালো বুঝেন, আমি আর কি বলব।