শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কে দিনদিন অবনতি ঘটছে

২৮ জুন ২০২৩, ১১:১৪ PM , আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:২৯ AM
অধ্যাপক আবদুল হক

অধ্যাপক আবদুল হক © টিডিসি ফটো

অধ্যাপক আবদুল হক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক। তিনি জীবনে ৫০টির বেশি ঈদ উপভোগ করেছেন। শিক্ষকতায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২ যুগ সময় অতিবাহিত করেছেন তিনি। এসময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অভিজ্ঞ এই শিক্ষক।

সম্প্রতি তিনি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের মুখোমুখি হয়েছেন। খোলামেলা কথা বলেছেন তার শিক্ষকতা জীবন ও ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে। তার কথাগুলো শুনেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানে আলম। আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ছাড়াও শিক্ষক সমিতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সব দায়িত্ব নিয়ে কেমন আছেন আপনি?
অধ্যাপক আবদুল হক: আমার ভালো থাকা না থাকা অন্যেদের তুলনায় একটু ভিন্ন হবে। তবে সামাজিক মানুষ হিসেবে আমারও ভালো লাগার অনুভূতি আছে। কিন্তু শিক্ষক সমিতির জেনারেল সেক্রেটারির পাশাপাশি প্রশাসন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্বার্থ ও অধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ভাবনা থেকে বলবো, আমি মোটেও ভালো নেই।

সিনিয়র শিক্ষকদের প্রমোশন আঁটকে জুনিয়র শিক্ষকদের প্রমোশন দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও সংস্কারের নামে আবাসিক হল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানান সমস্যা তৈরী হতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতি কিংবা অস্থিতিশীল অবস্থায় হল বন্ধ করলে ঠিক আছে। শুধুমাত্র সংস্কারের নামে হল বন্ধ করা উদ্দেশ্যে প্রণোদিত মনে হচ্ছে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন? বর্তমানে এ সম্পর্কের স্বরূপ কেমন?
অধ্যাপক আবদুল হক: আলাওল হল চবির প্রথম হল। যা ছেলে ও মেয়েদের জন্য জয়েন্ট হল ছিল। তখন ছাত্র-শিক্ষক কম ছিল। তখন মনে হতো হলটিতে একটি পরিবার একসাথে থাকে। ছাত্ররা প্রত্যক্ষভাবে শিক্ষকদের পেতেন। সকল ব্যথা-বেদনা ভাগাভাগি করে নিতেন। হলের প্রাধ্যক্ষের পাশাপাশি হলে হাউজ টিউটর থাকার ধারণা এই জন্যই এসেছে।

তারা শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষভাবে সার্বিক সহযোগিতা করবেন এবং পরামর্শ দেবেন। একটা সময় এটি ছিল। কিন্তু বর্তমানে হলে সেই পরিবেশ-পরিস্থিতি না থাকায় এমন সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া বর্তমানে ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। তাই ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক অবনতি হয়েছে। তবে এখনো অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে আত্মিক সম্পর্ক তৈরী করার চেষ্টা করছেন।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পদক্ষেপ নিয়েছেন শুনেছি। এ বিষয়ে কিছু শুনতে চাই। 
অধ্যাপক আবদুল হক: শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের থেকে যেরকম রেসপন্স আশা করেন সাম্প্রতিক সময়ে তা হয়তো পাচ্ছেন না। তবে এটা ঠিক প্রতিটি পেশায় পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি আরো বেশি প্রয়োজন। নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ হয় না তা নয়। তবে এটি আরো বড় পরিসরে হওয়া প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ ছাড়া পেশাজীবীদের গুণগত মান পরিবর্তন সম্ভব নয়। 

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ক্যাম্পাসে শিক্ষক রাজনীতির কোনো নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থীদের উপরে পড়ছে কি-না?
অধ্যাপক আবদুল হক: বর্তমানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; এটা অস্বীকার করা সম্ভব নয়। তবে শিক্ষক রাজনীতি না থাকলে যে নেতিবাচক প্রভাব দেখছেন তা আরো অবলীলায় চলতো। তা অনেক বেড়ে যেতো, একনায়কতন্ত্র কায়েম হয়ে যেতো।

আমি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেই বলতে পারছি, শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দিয়ে কেন সংস্কার করতে হবে? শিক্ষকদের সময়মতো প্রমোশন দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করতে পারছি। শিক্ষার্থীদের হলে নিরাপত্তার জন্য আসন বরাদ্দ নিয়ে কথা বলতে পারছি। কিন্তু আমরা ১১ জন শিক্ষক সব শিক্ষকের প্রতিনিধিত্ব করছি। সব শিক্ষকের এসব ইতিবাচক বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে। তাহলে নেতিবাচক দিকগুলো কমে যাবে। 

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৪০৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রশাসনের জন্য এই বাজেট কম নাকি বেশি মনে করছেন?
অধ্যাপক আবদুল হক: প্রশাসনিক দক্ষতা এবং ধীশক্তিসম্পন্ন একজন উপাচার্যের জন্য ৪০৫ কোটি টাকার বাজেট কম না। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের জন্য এই বাজেট পর্যাপ্ত নয়। ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া এই প্রশাসন অনেক নিয়োগ দিয়েছে। যাদের বেতন ভাতা এই বাজেট থেকে যাবে।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জীবন মানসম্পন্ন খাবার নিশ্চিত করার বিষয় আছে। এই খাতে বিশাল অংকের ভর্তুকি দরকার। যাতে শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। সুতরাং বর্তমান প্রশাসনের ফাঁকফোকরগুলো মেটাতে হলে বাজেট আরো বড় করা প্রয়োজন। না হলে আপদকালীন ব্যয় বাড়বে এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর বাজেট সংকোচন করতে হবে। 

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: চবিতে শিক্ষার গুণগত মান রক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে আপনার দুটি পরামর্শ কিংবা সুপারিশ শুনতে চাই। 
অধ্যাপক আবদুল হক: মোটাদাগে দুটি বিষয়ই বেশি প্রয়োজন। একটি হলো শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, অন্যটি শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে থাকা ও পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা বিধান করা। সর্বাগ্রে ভালো একজন ছাত্রকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

চবিতে এটিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় ও অশনিসংকেত। ভালো মেধার স্বাক্ষর রেখেছে এমন ছাত্রকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই আহ্বান রাখতে চাই। ভালো জাতের গাছ না লাগালে ভালো ফসল পাবো না।

এছাড়া হলে মেধার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন দ্রুত। এতে শিক্ষার্থী তার নিজের মেধার ভিত্তিতে আসন পাবে। কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা দিতে হবে। মেধাবী ছাত্র ভর্তি করিয়ে তাদের অসুস্থ করে ফেললে তো হবে না। তাদের পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা দিতে হবে প্রশাসনকে। তাই নিরাপদ পানি এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করতে হবে।

আমাদের শহীদ ও গুম হওয়া বন্ধুরা এই বাংলাদেশই দেখতে চেয়েছে: ফ…
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
এনসিপির ইশতেহারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্…
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
সাজেশনের নামে ভাইবার আগে টাকা আদায়ের অভিযোগ
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
এনসিপির ইশতেহারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য য…
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
শীত নিয়ে যে দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
রুয়েটে আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধন 
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬