আমি অক্সফোর্ড প্যারেন্ট বলছি... ‘এই ইউনিয়ন কোনো কমিউনিটি সেন্টারের জন্মদিনের পার্টির ভেন্যুর নয়’

১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ PM
ভিজ্যুয়াল

ভিজ্যুয়াল © টিডিসি সম্পাদিত

অক্সফোর্ড ইউনিয়নে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও অনুষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও জল্পনা-কল্পনার কড়া জবাব দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও অক্সফোর্ড প্যারেন্ট (অক্সফোর্ডে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর অভিভাবক) মিয়া মোহাম্মদ তরুন। অনুষ্ঠানটিকে কেউ কেউ সাধারণ ‘স্পেস বা হলরুম ভাড়া’ নিয়ে করা আয়োজন বলে দাবি করার পরিপ্রেক্ষিতে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ঐতিহাসিক কার্যপ্রণালী ও প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব তুলে ধরে এ বিভ্রান্তি নিরসনের চেষ্টা করেছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অক্সফোর্ড ইউনিয়নেরিএকটি ভিডিও পোস্ট করে তরুন লিখেন,‘যারা এই আন্তর্জাতিক আয়োজনকে কমিউনিটি সেন্টারের হলরুম বা জন্মদিনের পার্টির ভেন্যুর পর্যায়ে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছেন, তারা মূলত অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কী, কীভাবে কাজ করে এবং কোন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে—সেই মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।’

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কোনো সাধারণ অডিটোরিয়াম বা ভাড়ার হল নয়। এটি প্রায় দুই শতাব্দী ধরে বিশ্বের অন্যতম ঐতিহাসিক ও প্রভাবশালী বিতর্ক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্ল্যাটফর্ম। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট, নোবেল বিজয়ী, বিপ্লবী নেতা এবং বিশ্বখ্যাত চিন্তাবিদরা এই মঞ্চে বক্তব্য দিয়েছেন। কোনো বিষয় আন্তর্জাতিক গুরুত্ব অর্জন করলে, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, রাজনৈতিক রূপান্তর বা সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাৎপর্য বহন করলে—সেটিই এই ইউনিয়নের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হয়।’

বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একটি ছাত্র-জনতার আন্দোলন যখন দীর্ঘস্থায়ী কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, রাষ্ট্রের গতিপথ বদলে দেয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তখন তা অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আগ্রহের বিষয় হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন নিয়ে অতীতেও এখানে অসংখ্য আলোচনা হয়েছে, বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবও সেই ধারারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।’

গতকাল থেকে দেশীয় নেটিজেনদের অনেকের কপচানো ‘হল ভাড়া’ তত্ত্বের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিষয়টি যদি কেবল অর্থ দিয়ে হল ভাড়া করার মতোই সহজ হতো, তবে পৃথিবীর হাজার হাজার রাজনৈতিক সংগঠন, লবিস্ট গ্রুপ এবং বিত্তশালী ব্যক্তি প্রতিদিন অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ব্যানারে নিজেদের প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করতেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একটি বিষয়কে আলোচনার জন্য গ্রহণ করা এবং ইউনিয়নের প্ল্যাটফর্মে স্থান দেওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফেসবুকের কমেন্ট সেকশনের সস্তা তত্ত্ব আর শতবর্ষী একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যপ্রণালী এক জিনিস নয়।

তিনি আরও যোগ করেন, রাজনৈতিক মতভেদ বা ভিন্ন অবস্থান থাকতে পারে, কিন্তু তথ্যের জায়গায় গুজব বসিয়ে দিলে সত্য বদলে যায় না। অক্সফোর্ড ইউনিয়নের মতো একটি বিশ্বখ্যাত প্ল্যাটফর্মে জুলাই বিপ্লব নিয়ে আলোচনা হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এটি কোনো ব্যক্তিগত অর্জনের প্রশ্ন নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়কে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার বিষয়।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থান আন্তর্জাতিক মহলে গবেষণা ও আলোচনার জন্য আরও একধাপ এগিয়ে গেল। সম্ভবত এ কারণেই কিছু মানুষের আপত্তি অনুষ্ঠানটির আয়োজন নিয়ে নয়; বরং তাদের মূল আপত্তি ও গাত্রদাহের কারণ হলো—জুলাই অভ্যুত্থান এখনও বিশ্বজুড়ে তীব্রভাবে আলোচনায় আছে, স্বীকৃতি পাচ্ছে এবং ইতিহাসে নিজের স্থায়ী জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে।

এনইউবি ফার্মা ডিবেট ক্লাবের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত 
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
জামায়াত-শিবির বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা …
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
যোগ্যতা ছাড়াই অবৈধ নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বেতন ফেরত…
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
ডিআইইউতে ছাত্রলীগ নেতা আটক, পুলিশে দিলেন শিক্ষার্থীরা
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
দেড় বছরেও প্রকাশ্যে আসেনি নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের পূর্ণাঙ্গ …
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
পদ্মার ভাঙন কবলিত এলাকায় বাঁধ নির্মাণকাজ উদ্বোধন করলেন এমপি…
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬