ফিরে দেখা ২০১৮

রাজপথে নেমেছিল স্কুল শিক্ষার্থী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা

২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:৪৫ PM , আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৪ AM
রাজপথে নেমেছিল স্কুল শিক্ষার্থী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা

রাজপথে নেমেছিল স্কুল শিক্ষার্থী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা © টিডিসি ফটো

কালের অমোঘ নিয়মে বিদায়ের পথে চলে গেল ২০১৮ সাল। শিক্ষা জগতে এই বছরে ঘটেছে অনেক আলোচিত ঘটনা। বছরজুড়ে আলোচিত ছিল ছাত্র-শিক্ষকদের আন্দোলনের ঘটনা। বছরের শুরুর দিকে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হলেও পরবর্তীতে সরকারের শক্ত পদক্ষেপে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে এইচএসসি ও দুই সমাপনী পরীক্ষা। সারাদেশে ২৭১টি বেসরকারি কলেজে একযোগে সরকারীকরণ এবং বছরব্যাপী শতাধিক স্কুল সরকারীকরণের মতো সুসংবাদও শুনেছে দেশবাসী।

এ বছরই শিক্ষার্থীদের সর্ববৃহৎ তিনটি আন্দোলনের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন এবং ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের এক ছাত্রীর আত্মহত্যার পরবর্তী আন্দোলন। এসব আন্দোলনে শুরুর দিকে সরকার কিছুটা চাপে পড়লেও ঠিকঠাকভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।

বছরের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো তুলে ধরা হলো-

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের দুই দফা আন্দোলন: দেশে সরকার স্বীকৃত পাঁচ হাজার ২৪২টি নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষক রয়েছেন। যাদের অধিকাংশই বেতন পান না। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমপিওভুক্ত করার দাবিতে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্দোলন শুরু করেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারীরা। পরে ৩১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশনে যান তারা। আমরণ অনশনের ৬ষ্ঠ দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে তারা। এসময় আন্দোলনকারীরা জানিয়েছিলেন, আগামী বাজেটে (২০১৮-১৯) এ আশ্বাসের প্রতিফল না হলে ফের আন্দোলন যাবে তারা।

এদিকে, বাজেটে তাদের আশ্বাসের প্রতিফলন না হওয়ায় জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় ১০ জুন থেকে ফের আন্দোলন শুরু করে শিক্ষক-কর্মচারীরা। পরে ২৫ জুন থেকে আমরণ অনশন করে তারা। এ আন্দোলনে অংশ নিয়ে দুইশরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১১ জুলাই অনশনের ১৭তম দিন এসে জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধি দল অনশনস্থলে গিয়ে অনশন ভাঙার অনুরোধ করেন। এসময় আন্দোলনরতদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান ড. আনিসুজ্জামান। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা হয়।

পরে গত ৫ আগস্ট থেকে শুরু হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন। অনলাইনে ১৫ দিন চলে এ আবেদন। জমা হয় শেষে ছয় হাজার ৪১২টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন। এসব আবেদন যাচাই-বাচাই করলেও এখনও কোন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। এর মধ্যে ১৪ জুন এমপিভুক্তির জন্য এমপিও নীতিমালা জারি করে সরকার। এতে বিভিন্ন শর্ত দেয়া হয়।

আমরণ অনশন বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিঁয়াজো ফোরামের: ১৫ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করে ৫টি বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের মোর্চা বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিঁয়াজো ফোরাম। সংগঠনগুলো হলো- বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (নজরুল), বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (শাহ আলম-জসিম), বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন এবং জাতীয় শিক্ষক পরিষদ।

সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দাবি পূরণের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেয়া হলে দীর্ঘ ১৫ দিন পর ২৯ জানুয়ারি আমরণ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন শিক্ষকরা। এর আগে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণসহ কয়েক দফা দাবিতে গত ১০ জানুয়ারি থেকে বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের ডাকে বেসরকারি শিক্ষকরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। ১৫ জানুয়ারি থেকে তারা আমরণ অনশন শুরু করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, গত প্রায় ৫০ বছর ধরে জাতীয়করণের বিষয়টি ঝুলে আছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে জাতীয়করণের বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকদের অবস্থান নেওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে বসতে দেওয়া হয়নি। এর আগে দুই দফায় ধর্মঘটের ডাক দিয়েও কোনও দাবির বিষয়ে সুরাহা না হওয়ায় এবার লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষকরা।

ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের অনশন: জাতীয়করণের দাবিতে ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা অবস্থান শুরু করেন। এর আট দিন পর আমরণ অনশনে রূপ নেয় তাদের আন্দোলন। আট দিন পর সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস পেলে ১৫ জানুয়ারি তারা অনশন প্রত্যাহার করেন।

শিক্ষকরা জানান, ১৯৯৪ সালে একই পরিপত্রে রেজিস্ট্রার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৩ সালে বর্তমান সরকার ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে। প্রাথমিকের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়নি। এতে করে হাজার শিক্ষক-শিক্ষকা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এদিকে, এ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৮ নভেম্বর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা স্থাপন, স্বীকৃতি, পরিচালনা, জনবল কাঠামো এবং বেতন ভাতাদি ও অনুদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৮ প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় জনবল কাঠামো ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় প্রধানসহ ৫ জন শিক্ষক থাকবেন। এদের মধ্যে একজন ইবতেদায়ি প্রধান, ৩ জন ইবতেদায়ি সহকারী শিক্ষক এবং ইবতেদায়ি ক্বারী শিক্ষক একজন। ইবতেদায়ি প্রধান ১১তম গ্রেডে বেতন পাবেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) ১১তম গ্রেডে বেতন পান। সেই হিসেবে ইবতেদায়ি শিক্ষকরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান মর্যাদা পাচ্ছেন। ইবতেদায়ি সহকারী শিক্ষক এবং ইবতেদায়ি ক্বারী শিক্ষক ১৬তম গ্রেডে বেতন পাবেন।

এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস: চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে। সরকারের এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটিও এর প্রমাণ পেয়েছিল। তবে পরীক্ষা বাতিলের দাবি উঠলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়নি। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ধারাবাহিকতায় এবারও এসএসসিতে অধিকাংশ বিষয়ের প্রশ্ন পরীক্ষার আগের রাতে বা পরীক্ষার সকালে ফাঁস হয় এবং সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে তদন্ত কমিটি করে মন্ত্রণালয়। এতে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মিললে নড়েচড়ে বসে সরকার। পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসরোধে নেয়া হয় নানান পদক্ষেপ। ফলে পরবর্তীতে এইএসসি ও দুই সমাপনী পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসরোধে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়।

একযোগে ২৭১ কলেজ সরকারিকরণ: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চলতি বছরের ১২ আগস্ট দেশের ২৭১টি বেসরকারি কলেজ একযোগে সরকারিকরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশে সরকারি কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৯৮টিতে। এতদিন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাসহ সরকারি কলেজের সংখ্যা ছিল ৩২৭টি।

যেসব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই, সেগুলোয় একটি করে কলেজ জাতীয়করণের জন্য ২০১৬ সাল থেকে তালিকাভুক্তির কাজ শুরু করে সরকার। সরকারিকরণের জন্য কলেজগুলোকে চূড়ান্তও করা হয়। বিধিমালা না হওয়ায় দীর্ঘদিনেও কলেজগুলো সরকারিকরণ করা যাচ্ছিল না। মূলত এসব কলেজের শিক্ষকদের বদলি, পদায়ন এবং মর্যাদা কী হবে, সেটা নিয়ে আন্দোলন হওয়ায় সরকারিকরণের কাজটি আটকে ছিল। অবশেষে নীতিমালা জারির পর ২৭১টি কলেজের সরকারিকরণের আদেশ জারি হলো। এরপরও বেশকয়েকটি বেসরকারি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়।

স্কুল সরকারিকরণ: সরকারি স্কুল ও কলেজবিহীন উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণের ব্যাপারে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি দেয়া স্কুলগুলো একে একে জাতীয়করণের আদেশ জারি হচ্ছে।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ৪৩টি বেসরকারি হাইস্কুল জাতীয়করণ করা হয়েছে। দেশে পুরনো সরকারি হাইস্কুল আছে ৩৩৩টি। পরে বিভিন্ন সময়ে ১২টি মডেল বিদ্যালয়সহ ১৭৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে নতুন করে আরও ৪৩ বিদ্যালয় জাতীয়করণ করায় দেশে মোট সরকারি বিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৫১টিতে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় স্কুল সরকারিকরণ করেছে সরকার।

কওমি সনদের স্বীকৃতি: চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদকে সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দিতে আইনের খসড়ায় সায় দেয় সংসদ। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন ‘কওমি মাদরাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান প্রদান বিল-২০১৮’ সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। সারা দেশে এখন ছয়টি বোর্ড কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এদের নিয়ে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গঠন করা হবে। এর নাম হবে ‘আলহাইয়্যাতুল উলিয়ালিল জামিয়াতুল কওমিয়া বাংলাদেশ’, আর কার্যালয় হবে ঢাকায়।

রক্তাক্ত ঢাবি: সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ৮ এপ্রিল সকাল থেকে শাহবাগের রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দিনভর অবস্থান করে সড়কেই রাত্রি যাপনের পরিকল্পনা করে তারা। তবে রাতে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ছবির হাটের সামনে টিয়ারসেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে শিক্ষার্থীদের। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে ঢাবি এলাকাজুড়ে। ভাঙচুর করা হয় ঢাবি ভিসি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের বাসভবনে, চলে লুটপাট। সেই রাতে আহত হয় প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

পরদিন ৯ এপ্রিল দেশব্যাপী শুরু হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। একাত্মতা ঘোষণা করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদেরের সঙ্গে আলোচনার পর আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষার্থীরা। তবে সেদিন সংসদে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কটূক্তি করায় আবারও রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। তীব্রতর হয় আন্দোলন। এদিন বিকেলেই সংসদে ‘সব চাকরিতে প্রধানমন্ত্রীর কোটা তুলে নেয়ার’ ঘোষণায় থেমে যায় আন্দোলন। পরে মন্ত্রী পরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এদিকে, ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী নির্যাতন এবং শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শিক্ষকরা সংহতি সমাবেশ আয়োজন করে। সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৭০জন শিক্ষক অংশ নেন। এতে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় পাঁচশ’র বেশি শিক্ষার্থী সংহতি জানান।

দুই সহপাঠীর মৃত্যুতে দেশ কাঁপিয়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা: ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম নামে দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বদলে যায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সেদিন থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

পরদিন আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করে শিক্ষার্থীরা। গাড়ি আটকে তাদের কাগজপত্র-লাইসেন্স যাচাই বাছাই করে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে ভিআইপি-ভিভিআইপিদের গাড়ি, উল্টো পথ থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রীর গাড়িও। তবে তৃতীয় দিনে আন্দোলনকে কলঙ্কিত করতে বহিরাগত কিছু শিক্ষার্থীর পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ধর্ষণ-চোখ উপড়ে ফেলার মতো গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষিপ্ত করে তোলার চেষ্টা করা হয়। গুজবে কান দিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি, সাইন্সল্যাব, বসুন্ধরা ও রামপুরা এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও তাদের সহযোগী হেলমেটধারী যুবকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৬৫ জনের মতো শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়। ফেসবুক লাইভে গুজব ছড়ানো ও আন্দোলনে উসকানি দেয়ার ঘটনায় মডেল নওশাবা আহমেদসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর শান্ত হয় আন্দোলন।

অভিমানী অরিত্রির মৃত্যু, ভিকারুননিসায় লঙ্কাকাণ্ড: ডিসেম্বরের ৩ তারিখ সোমবার। ভিকারুননিসার নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন নিয়ে আসায় হল থেকে বের করে দেয়া হয় অরিত্রি অধিকারীকে। আর কোনো পরীক্ষায় অংশ নিতে না দিয়ে তাকে টিসি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলে অরিত্রির বাবা-মাকে ডেকে তার সামনেই অপমান করা হয় তাদের। বাবা-মাকে ক্লাস টিচার, প্রভাতী শাখার প্রধান ও অধ্যক্ষের কাছে লাঞ্ছিত হতে দেখে দৌড়ে বাড়ি চলে যায় অরিত্রি। নিজের ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে।

অরিত্রির মৃত্যুর পরপরই ভিকারুননিসার বাইরে অবস্থান নেয় তার সহপাঠীরা। তারা অভিযোগ করে, তুচ্ছ বিষয়ে এ ধরনের লাঞ্ছনা প্রতিদিনের ব্যাপার। তারা অধ্যক্ষসহ তিনজন শিক্ষক ও স্কুলের গভর্নিং বোর্ডের সদস্যদের পদত্যাগ দাবি করে। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে ভিকারুননিসা স্কুল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড পৃথক কমিটি করে। পল্টন থানায় ‘আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী’ হিসেবে মামলা হয় তাদের বিরুদ্ধে। কমিটির প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে ভিকারুননিসার নানা দুর্নীতির তথ্য। উঠে আসে তিন শিক্ষকের অসৎ আচরণের তথ্য। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী স্কুলের অধ্যক্ষ নাজনিন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে বরখাস্ত করা হয়। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে দেয়া হয়। শিক্ষক হাসনা হেনা আটক করে পাঠানো হয় কারাগারে।

তবে এ ঘটনার পরদিন শিক্ষিকার জামিনের দাবিতে বিক্ষোভ-অনশন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষিকা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর কিছুটা শান্ত হয় ভিকারুননিসা। বছরের শেষ দিকে বেশ আলোচিত হয় ভিকারুননিসা শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ আন্দোলন: সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে বছরের বিভিন্ন সময় রাজপথে দেখা গেছে চাকরিপ্রার্থীদের। কখনও সংবাদ সম্মেলন, কখনও আল্টিমেটাম, কখনও বিক্ষোভ আবার কখনও অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করতে দেখো গেছে। সরকারের শেষ মেয়াদে এসে বিষয়টি আমলে নিলেও শেষ পর্যন্ত ঝুলে আছে। তবে নির্বাচনী ইশতেহারে এ ব্যাপারে প্রধান দুইদল আশার বাণী শুনিয়েছে।

আন্দোলনকারীরা বলেন, ১৯৯১ সালে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩০ করা হয়। তারপর দীর্ঘ ১৮ বছরেও চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়েনি। ২১ বছর পর সরকার অবসরের বয়স বাড়িয়ে ৫৯ করলেও প্রবেশের বয়স বাড়েনি। তাই প্রবেশের বয়স ৩৫ বছরই করার দাবিতে তারা আন্দোলনে।

নতুন কেনা বাড়িতে ফেরা হল না ড্যাফোডিলের সাবেক ছাত্রের, নিউই…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
পুরো একটি সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হয়ে যাবে: ট্রাম্প
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
মালয়েশিয়ায় ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাচ্ছেন রাবিপ্রবির শিক্ষার্থ…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
চুপিসারে বিসিবি ছাড়লেন বুলবুল
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
হাসপাতালে স্বাস্থ্যবিধি, ওষুধে উপাদানের ঘাটতির অভিযোগ খোদ স…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
রামগঞ্জে চেক জালিয়াতির মামলায় ছাত্রদল নেতা আটক
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
close