কলেরার ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

নতুন করে ম্যালেরিয়া-এইচআইভি-এইডসের সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৪ PM , আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৫ PM
বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল

বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল © সংগৃহীত

দেশে নতুন করে ম্যালেরিয়া, এইচআইভি-এইডসের মতো রোগের সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তবে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসন ঐক্যবদ্ধভাবে সব রোগের বিরুদ্ধে লড়ছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বলেছেন, এতে সরকার অনেকাংশে সফলও হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন (পিসিভি) ক্যাম্পেইন ২০২৬’-এর উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’–এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। আগামী শনিবার থেকে নির্ধারিত এলাকায় মুখে খাওয়ার কলেরা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে। আর আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেওয়া হবে দ্বিতীয় ডোজ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, অনেক সময় অসচেতনতা ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণে মানুষ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের মুখোমুখি হচ্ছে। করোনা মহামারির সময়ের মতো হাত ধোয়া, মাস্ক পরা ও পরিচ্ছন্নতার সঠিক চর্চা বাড়ালে যেকোনো মহামারি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কলেরা হলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কলেরা একটি প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসাযোগ্য রোগ। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না হলে তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার কারণে এটি খুব দ্রুত জীবনহানির কারণ হতে পারে। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন এবং কার্যকর রোগ নজরদারির পাশাপাশি ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন কলেরা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উপকরণ।

তিনি বলেন, টিকাই একমাত্র সমাধান নয়, আমি একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই কলেরা প্রতিরোধে টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু টিকা একা যথেষ্ট নয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা, মানুষের চলাচল এবং কিছু এলাকার বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আমাদেরকে একটি টার্গেটেড ইভিডেন্স বেজড এবং প্রিভেনটিভ এপ্রোচ গ্রহণ করতে হচ্ছে। এ কারণেই রোগের বোঝা, পূর্ববর্তী টিকাদানের ইতিহাস, জনসংখ্যার ঘনত্ব, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং সংক্রমণ বিস্তারের আশঙ্কাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শুধু কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছি না। বরং রোগের ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর শুধু চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করবে না; বরং রোগ হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত হবে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিজিটাল হেলথ ব্যবস্থাপনার প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা প্রযুক্তিরও কার্যকর ব্যবহার করছি। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ভিএএক্সইপিআই (VaxEPI) প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে নিজস্ব ই-হেলথ কার্ড পাবেন। এর মাধ্যমে টিকা গ্রহণের তথ্য সংরক্ষণ, কভারেজ মনিটরিং, প্রোগ্রাম সুপারভিশন এবং পরবর্তী মূল্যায়ন আরও সহজ ও নির্ভুল হবে।

সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলেরার ১ম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২য় ডোজ টিকা প্রদান করা হবে। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজই গ্রহণ করতে হবে। ১ বছর বা তার বেশি বয়সী সকল নাগরিককে (গর্ভবতী নারী ব্যতীত) বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকা খাওয়ানো হবে। সারাদেশে সর্বমোট ৫১ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে।

​ডিএসসিসির অধীনস্থ লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর—এই ৪টি থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষকে এই টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ডিএনসিসির শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবুস সালাম, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) ড. ফিরদউসী কাদরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য করে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হ…
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কে কত ভোট পেলেন?
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি হয়েই প্রথমে জামায়াত আমিরের সঙ্গে কোলাকুলি করলেন…
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে আসেননি রুমিন ফারহানাসহ ৩ এমপি
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে আকিজ বশির গ্রুপ, আবেদন ৩০ আগস্ট পর্য…
  • ২০ আগস্ট ২০২৬