স্বাস্থ্য অধিদপ্তর © সংগৃহীত
আগামী শনিবারের (১১ জুলাই) মধ্যে সকল বেসরকারি হাসপাতালে লেবার রুম বা নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপনে আদেশ জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আজ সোমবার (৬ জুলাই) বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের দুটি মালিক সমিতিকে এই দেওয়া এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মইনুল আহসান এই চিঠিতে সই করেছেন। বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) ও বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএইচসিডিওএ) সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সকল বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিদর্শন চেকলিস্ট অনুযায়ী লেবার রুম নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। এই তারিখের মধ্যে লেবার রুম স্থাপন করা না হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের নির্দেশে এই আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে চিঠিতে।
এর আগে সোমবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আগামী শনিবারের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন করতে হবে। কোনো ক্লিনিক এ নির্দেশনা না মানলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমসি) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু বেসরকারি ক্লিনিক ও দালালচক্র গর্ভবতী নারীদের নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে সিজারিয়ান করাতে উদ্বুদ্ধ করছে। এ অবস্থা থেকে জাতিকে রক্ষা করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, একসময় দেশে অধিকাংশ সন্তান জন্ম হতো স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে। গ্রামাঞ্চলে অভিজ্ঞ দাইয়ের সহায়তায় নিরাপদে সন্তান প্রসবের দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। এখন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটলেও স্বাভাবিক প্রসবের পরিবর্তে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের প্রবণতা বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: শনিবারের মধ্যে সব হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল
মন্ত্রীর দাবি, গর্ভাবস্থার শুরুতে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনেক ক্ষেত্রে দালচক্র ও কিছু চিকিৎসাকেন্দ্র পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন জটিলতার ভয় দেখায়। ‘অপারেশন না করলে মা কিংবা সন্তান বাঁচবে না’— এমন আশঙ্কা তৈরি করে সিজারিয়ানের সিদ্ধান্তে বাধ্য করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই মা ও সন্তানের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিতে না চাওয়ায় পরিবারগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নেয়।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিডওয়াইফদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি এলাকায় দক্ষ মিডওয়াইফের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এটি শুধু কর্মসংস্থানের বিষয় নয়; বরং জাতির স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়।
তিনি আরও জানান, চলতি বছর স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তাদের বড় অংশই মিডওয়াইফ হিসেবে কাজ করবেন, যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, সব বেসরকারি ক্লিনিকে মিডওয়াইফ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে গর্ভবতী নারীরা স্থানীয় পর্যায়ে পরামর্শ পাবেন এবং স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত হবেন।