শুধু ডাক্তারে ফোকাস না দিয়ে নার্স-মিডওয়াইফ তৈরিতে গুরুত্ব দেয়া দরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০৬ PM
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত © সংগৃহীত

দেশে জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসকের ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। শুধু ডাক্তার তৈরিতে ফোকাস না দিয়ে নার্স-মিডওয়াইফ তৈরিতে গুরুত্ব দেয়া দরকার বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ফিজিওথেরাপিস্ট এবং চোখের চিকিৎসাকে আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে অপটোমেট্রিস্টদের স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও বলেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (নিপোর্ট) ‘বাংলাদেশে জনমিতিক লভ্যাংশ (তরুণ জনশক্তির সুবিধা) কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্ভাবনা: সুযোগ, চ্যালেঞ্জ এবং নীতিগত প্রয়োজনীয়তা’ এবং ‘বিভিন্ন ধরনের মহামারী রোগ সঠিকভাবে মোকাবিলা বা ব্যবস্থাপনার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুতির মূল্যায়ন’ দুটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

এক গবেষণার ফলাফলের বরাত দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, দেশে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে ডাক্তারের সংখ্যা কম নয়। পর্যাপ্ত ডাক্তার রয়েছে দেশে। তবে জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ থাকে গ্রামে, আর ডাক্তারদের ৮০ শতাংশ থাকে শহরে। ডাক্তার ডিস্ট্রিবিউশন ঠিক নেই। ডাক্তার যারা আছেন তাদের অল্প সংখ্যক সরকারি সিস্টেমে আছেন, বড় সংখ্যক অংশ বেসরকারি কাজ করেন।

ডাক্তার বিদেশে পাঠালেই দেশে রেমিট্যান্স আসবে এমন নয় বলেও উল্লেখ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেকেই বিদেশে থেকে যান এবং মাঝে মাঝে দেশে আসেন।

এ সময় চিকিৎসক ছাড়াও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বীকৃতি নিয়ে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন,  তবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নার্স আর মিডওয়াইফ সংখ্যা বাড়ানো উচিত। এটা নিয়ে আলোচনাও হচ্ছে না, আলোচনা হওয়া দরকার। শুধু ডাক্তার তৈরিতে ফোকাস না দিয়ে নার্স-মিডওয়াইফ তৈরিতে গুরুত্ব দেয়া দরকার।

ড. এম এ মুহিত বলেন, ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়ে দেশে আলোচনা খুবই কম হচ্ছে। অথচ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ফিজিওথেরাপিস্ট খুবই প্রয়োজন, তাদেরকে এখনও সেভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। তাদেরকে নিয়ে আলোচনা এবং সুযোগ সুবিধা বাড়ানো দরকার। এছাড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আরো অন্য জনবল রয়েছে। যাদেরকে নিয়ে কখনও আলোচনা হয় না, তাদেরকেও ফোকাস করা দরকার।

অপটোমেট্রি পেশার গুরুত্ব বোঝাতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে অপটোমেট্রি পেশা গড়ে না ওঠায় গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ, বিশেষ করে স্কুলশিক্ষার্থী ও বয়স্করা সামান্য একটি চশমার অভাবে স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারেন না। অথচ প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহার করলে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা এবং কর্মক্ষমতায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র এক ডলারের একটি রিডিং গ্লাস বা পড়ার চশমা কর্মক্ষম বয়সী মানুষের উৎপাদনশীলতা ও আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষেরা এই চশমা ব্যবহার করলে দ্রুত পড়তে, সেলাইয়ের মতো সূক্ষ্ম কাজ করতে এবং অন্যান্য পেশাগত দায়িত্ব আরও দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারেন। এর ফলে তাঁদের ব্যক্তিগত আয়ও বৃদ্ধি পায়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, গ্রামের তুলনায় শহরমুখী ডাক্তারের সংখ্যা বেশি। তাদেরকে গ্রামমুখী করার জন্য কাজ চলছে। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রয়োজনে এই কাজটি করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইসরাত জামান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের জন্য ভিন্ন প্রশ্নপত্র, একাডে…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
ডাকসুর জুলাই সংগ্রহশালা পরিদর্শনকালে লোডশেডিংয়ের কবলে মার্ক…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
৩ মাসে সাতক্ষীরায় ৬৫ জনের আত্মহত্যা, অপমৃত্যু ১৩৬
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
খাল থেকে ব্রিজের বীমের লোহা তুলে নিলেন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা,…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডে চাকরি, আবেদন ১…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপদেষ্টা, সরকারের আকার বাড়লে ঝু…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬