প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো/এআই
মানবদেহের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঙ্গ হৃৎপিণ্ডে সামান্য ভুলেও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে হৃদ্রোগের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সব সময়ই জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এবার সেই ঝুঁকি কমাতে গবেষকেরা তৈরি করেছেন হৃৎপিণ্ডের অবিকল নকল—‘ডিজিটাল হার্ট’।
গবেষকদের তৈরি এই ডিজিটাল হার্ট আসলে মানুষের আসল হৃৎপিণ্ডের একটি ভার্চুয়াল প্রতিলিপি, যা সম্পূর্ণভাবে কম্পিউটারভিত্তিক ত্রিমাত্রিক মডেলে তৈরি করা হয়েছে। এতে শিরা-উপশিরার জাল, রক্ত চলাচলের পথ এবং হৃদ্পিণ্ডের প্রকোষ্ঠে বিদ্যুতের তরঙ্গ প্রবাহ—সবকিছুই বাস্তবের মতোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে এতে কোনো জীবন্ত কোষ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডিজিটাল মডেলটি মূলত আসল হৃদয়ের ‘ডিজিটাল যমজ’ হিসেবে কাজ করবে। ফলে বাস্তব হৃদ্যন্ত্রে ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে আগে এই ভার্চুয়াল মডেলের ওপর সব ধরনের গবেষণা চালানো যাবে।
গবেষকদের ধারণা, ডিজিটাল হার্ট ব্যবহার করে বোঝা যাবে ব্লকেজ বা উচ্চ রক্তচাপের মতো পরিস্থিতিতে হৃদ্পিণ্ড কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং কোন চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে। এমনকি কোনো ব্যক্তির আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কতটা—তাও আগেভাগেই বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।
বিশেষভাবে, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া শনাক্তে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হৃদ্পিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেতের গোলযোগ কোথায় হচ্ছে, তা নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা যাবে এই ডিজিটাল মডেলের মাধ্যমে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই নতুন প্রযুক্তিকে যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন গবেষকেরা। তাঁদের আশা, ডিজিটাল হার্ট কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে হৃদ্রোগের চিকিৎসা আরও নিরাপদ হবে এবং অনেক জটিল রোগ সহজে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে, পাশাপাশি রোগীর ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। [সূত্র: আনন্দবাজার]