রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী © টিডিসি
স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, ‘কোনো মৃত্যুই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। শিশুদের এ মৃত্যুর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে দুঃখিত প্রকাশ করছি। সব মৃত্যু হামের কারণে হয়নি।’
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেলা দেড়টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যসচিব বলেন, ‘অনেকেই অন্যান্য জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিল। আমরা বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করছি। এ জন্য ইতোমধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ দল রাজশাহীতে কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুত টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। টিকা হাতে পেলেই আমরা ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু করব। টিকা সংকট কাটাতে সরকারের উদ্যোগে ৬০৪ কোটি টাকার টিকা ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে।’
টিকাদানে ঘাটতির কারণ ব্যাখ্যা করে কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, করোনাকালীন সময় স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি এবং কিছু অভিভাবকের অনিয়মিত অংশগ্রহণের কারণে টিকাদানে গ্যাপ তৈরি হয়েছে। এই গ্যাপই বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।
স্বাস্থ্যসচিব বলেন, সংক্রামক নয় এমন রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলো খালি রাখা যায়। ইতোমধ্যে ৭টি ভেন্টিলেটর আনা হয়েছে। আরও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ চলছে।
তিনি বলেন, আশপাশের যেসব হাসপাতাল ও স্থাপনা ব্যবহারযোগ্য, সেগুলো দ্রুত চালু করা হবে। তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে এবং আগামী অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর চেষ্টা থাকবে।নবজাতকদের মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি হলেও বড় শিশুদের ক্ষেত্রে তা ১ শতাংশের নিচে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতায় মৃত্যুহার কিছুটা বেড়েছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রতিদিন রোগী ভর্তি, সুস্থতা ও মৃত্যুর তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে, যাতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি না থাকে। সরকার এ সংকট মোকাবেলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
এ সময় স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রাজশাহী মেডিকেল কালেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদ-উল-ইসলাম, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাযার্চ অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজর অধ্যাপক ড. খন্দকার মো. ফয়সাল আলম, রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিনসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।