প্রতীকি ছবি © এআই সম্পাদিত ছবি
কাজের চাপ, ক্লাসের ব্যস্ততা কিংবা দীর্ঘ ভ্রমণ ঘুম ঘুম ভাব এলেই অনেকের মন চলে যায় এক কাপ চায়ের দিকে। ক্লান্ত চোখে চুমুক দেওয়া গরম চা যেন মুহূর্তেই সতেজ করে তোলে। কিন্তু ঘুম পেলেই কেন চা পান করতে ইচ্ছা করে?
এর পেছনে রয়েছে চায়ের ক্যাফেইন এবং মস্তিষ্কের ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়ার সম্পর্ক।
ক্যাফেইন
চায়ে থাকা ক্যাফেইন একটি প্রাকৃতিক উদ্দীপক। এটি মস্তিষ্কে ঘুম ও ক্লান্তির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রাসায়নিক পদার্থ অ্যাডেনোসিনের কার্যক্রমে বাধা দেয়। সারাদিন জেগে থাকা ও কাজ করার সময় মস্তিষ্কে ধীরে ধীরে অ্যাডেনোসিন জমতে থাকে। এর মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে ক্লান্তি ও ঘুমের অনুভূতি তৈরি হয়।
চা পান করলে ক্যাফেইন মস্তিষ্কের অ্যাডেনোসিন রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এর প্রভাব কমিয়ে দেয়। ফলে কিছু সময়ের জন্য ঘুম ঘুম ভাব কমে যায় এবং মানুষ নিজেকে তুলনামূলকভাবে সতেজ ও সজাগ মনে করে। এ কারণেই পড়াশোনা, অফিসের কাজ বা রাতে জেগে থাকার সময় অনেকেই চায়ের ওপর নির্ভর করেন।
তবে চা খেলেই যে শরীরের প্রকৃত ক্লান্তি দূর হয়ে যায়, বিষয়টি এমন নয়। ক্যাফেইন মূলত ক্লান্তির অনুভূতিকে সাময়িকভাবে আড়াল করে। তাই ঘুমের প্রয়োজন থাকলে চা পান করে দীর্ঘ সময় জেগে থাকা শরীরের স্বাভাবিক বিশ্রামের বিকল্প হতে পারে না।
চায়ের প্রতি মানুষের অভ্যাস
দীর্ঘদিন থেকে চায়ের প্রতি মানুষের একটা অভ্যাস গড়ে উঠেছে তা হলো চা পান করলে ঘুমের প্রবণতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কেউ নিয়মিত সকালে, বিকেলে বা কাজের বিরতিতে চা পান করলে মস্তিষ্কের সঙ্গে ওই অভ্যাসের একটি যোগসূত্র তৈরি হয়। ফলে ক্লান্তি বা ঘুমের সময় চা খাওয়ার ইচ্ছা আরও স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।
এ ছাড়া চা পান করার সঙ্গে সামাজিক ও মানসিক স্বস্তির বিষয়টিও জড়িত। বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা, কাজের বিরতি কিংবা একাকিত্ব কাটানোর সময় চা পান অনেকের কাছে আরাম ও সতেজতার অনুভূতি তৈরি করে। ফলে শুধু ক্যাফেইন নয়, অভ্যাস ও মানসিক প্রশান্তিও চায়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়।
আরও দেখুন: হাম উপসর্গে ৫ ও ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু
তবে দিনের শেষ ভাগে বা ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে বেশি ক্যাফেইনযুক্ত চা পান করলে উল্টো ঘুমের সমস্যা হতে পারে। ক্যাফেইনের প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হলেও রাতে ঘুমের সমস্যা থাকলে সন্ধ্যার পর চা-কফি কমিয়ে দেওয়া উপকারী হতে পারে।
তাই ঘুম পেলেই এক কাপ চা সাময়িকভাবে চোখের পাতা ভারী হওয়া ঠেকাতে পারে, কিন্তু শরীর যখন বিশ্রামের সংকেত দেয়, তখন পর্যাপ্ত ঘুমই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। চা ক্লান্তি কিছু সময়ের জন্য ভুলিয়ে দিতে পারে, কিন্তু ঘুমের প্রয়োজন মেটাতে পারে না। তাই ঘুম পেলে অতিরিক্ত ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় পান না করে পর্যাপ্ত ঘুমানো উচিত।