প্রতীকি ছবি © এআই সম্পাদিত ছবি
মানুষের ব্যক্তিত্ব একেকজনের একেক রকম। কেউ মানুষের সঙ্গে মিশতে, আড্ডা দিতে ও কথা বলতে ভালোবাসেন। আবার কেউ নিজের মতো করে একান্তে সময় কাটাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সাধারণভাবে ব্যক্তিত্বের এই দুই ধরনের মানুষকে অন্তর্মুখী বা ইন্ট্রোভার্ট এবং বহির্মুখী বা এক্সট্রোভার্ট বলা হয়। তবে এই দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থানেও রয়েছেন অনেক মানুষ। তাদের বলা হয় অ্যাম্বিভার্ট।
অ্যাম্বিভার্ট আসলে কারা?
অ্যাম্বিভার্ট এমন একজন ব্যক্তি, যার ব্যক্তিত্বে অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যই দেখা যায়। পরিস্থিতি ও পরিবেশ অনুযায়ী তারা কখনো বহির্মুখী মানুষের মতো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন, আবার কখনো অন্তর্মুখী মানুষের মতো নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকতে পছন্দ করেন। তারা একদিকে যেমন অনর্গল কথা বলতে পারেন, অন্যদিকে প্রয়োজন হলে নির্জনেও সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অর্থাৎ, তাদের ব্যক্তিত্বে দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্য থাকে।
যেভাবে চিনবেন একজন অ্যাম্বিভার্টকে
অ্যাম্বিভার্টদের চেনার অন্যতম উপায় হলো তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা। তারা বন্ধুদের আড্ডায় যেমন প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারেন, তেমনি প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় একাকী কাটাতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
তারা সাধারণত ভালো শ্রোতা হওয়ার পাশাপাশি দক্ষ বক্তাও হন। কোনো বিষয়ে মতামত দেওয়ার আগে অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এরপর নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। কোথায় কতটুকু কথা বলতে হবে কিংবা কখন নীরব থাকা প্রয়োজন সেটিও তারা বুঝতে পারেন। এ কারণে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেও তারা ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেন। নতুন পরিবেশে সহজেই অন্যদের সঙ্গে মিশে যেতে পারলেও নিজের আবেগ ও অনুভূতির বিষয়ে তারা সাধারণত স্পষ্টবাদী থাকেন।
কেন অ্যাম্বিভার্টদের ভুল বোঝা হয়?
অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যই থাকায় অ্যাম্বিভার্টদের অনেক সময় অন্যরা ভুল বোঝেন। তাদের আচরণ পরিস্থিতিভেদে পরিবর্তিত হওয়ায় কেউ কেউ তাদের চাটুকার, হিংসুটে কিংবা অহংকারী মনে করতে পারেন।
তবে কাছ থেকে জানলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তারা আন্তরিক ও নির্ভরযোগ্য। পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাই তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো সামাজিক ও প্রাণবন্ত, আবার কখনো শান্ত ও নিরিবিলি থাকার ক্ষমতা তাদের ব্যক্তিত্বকে আলাদা করে তোলে।
আরও দেখুন: আকিজ বশির গ্রুপে চাকরি, আবেদন করুন আজই
অ্যাম্বিভার্ট কি বিরল?
অনেকের ধারণা, অ্যাম্বিভার্ট খুবই বিরল ধরনের ব্যক্তিত্ব। তবে বাস্তবে অধিকাংশ মানুষই পুরোপুরি অন্তর্মুখী বা বহির্মুখী নন। অনেকের ব্যক্তিত্বেই দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণ দেখা যায়। সাধারণভাবে ব্যক্তিত্বের তিনটি ধারা উল্লেখ করা হয় ইন্ট্রোভার্ট বা অন্তর্মুখী, এক্সট্রোভার্ট বা বহির্মুখী এবং অ্যাম্বিভার্ট বা মিশ্র ব্যক্তিত্ব।
অন্তর্মুখীরা সাধারণত নিজের চিন্তা ও ব্যক্তিগত জগতে থাকতে পছন্দ করেন। ভিড় এড়িয়ে চলা এবং একাকী বা ছোট পরিসরের আড্ডায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করাও তাদের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে। অন্যদিকে বহির্মুখীরা মানুষের সঙ্গে মেলামেশা ও সামাজিক পরিবেশে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর অ্যাম্বিভার্টরা পরিস্থিতি অনুযায়ী দুই ধরনের আচরণের সঙ্গেই মানিয়ে নিতে পারেন।
তাই আপনার পরিচিত কারও মধ্যে কখনো প্রাণবন্ত সামাজিকতা, আবার কখনো একান্তে থাকার প্রবণতা দেখলে তিনি অ্যাম্বিভার্ট হতে পারেন। দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যের এই ভারসাম্য তাঁদের ব্যক্তিত্বকে যেমন বৈচিত্র্যময় করে, তেমনি অন্যদের সঙ্গে মানিয়ে চলার ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে।