ফুড সাপ্লিমেন্ট © প্রতীকী ছবি
বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে অনেকেই নিয়মিত ভিটামিন, মিনারেল কিংবা বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব ভিডিও ও বিজ্ঞাপনের প্রভাবে অনেকের ধারণা, প্রতিদিন সাপ্লিমেন্ট খেলেই শরীর সুস্থ থাকবে।
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, প্রয়োজন না বুঝে বা পরীক্ষা ছাড়া নিয়মিত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ অনেক সময় উপকারের বদলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি, আয়রন বা ফ্যাট-সলিউবল ভিটামিন দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার ও হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট কেন ঝুঁকিপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বহু মানুষ রক্ত পরীক্ষা বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ভিটামিন ডি, বি১২, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম কিংবা বায়োটিন জাতীয় সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছেন। কিন্তু শরীরে
আদৌ সেই উপাদানের ঘাটতি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হয়েই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় ওই উপাদান জমে যেতে পারে।
এ ছাড়া শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে তা ‘ওভারলোড’ তৈরি করে। ফলে কিডনির ওপর চাপ বাড়তে পারে, লিভারে বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত ভিটামিন কি সত্যিই ক্ষতিকর?
অনেকেই মনে করেন, ভিটামিন বেশি খেলেও সমস্যা নেই। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি উল্টোও হতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন এ, ডি ও ই-এর মতো ফ্যাট-সলিউবল ভিটামিন শরীরে জমে থাকে এবং সহজে বের হয় না। ফলে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাত্রায় এগুলো গ্রহণ করলে বিষক্রিয়া তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ)-এর তথ্যমতে, অতিরিক্ত ভিটামিন ‘ডি’ শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে বমি ভাব, দুর্বলতা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, কিডনিতে পাথর, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এমনকি কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
একইভাবে অতিরিক্ত আয়রন সাপ্লিমেন্টও পেটের সমস্যা, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, লিভারের ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
আরও পড়ুন: এবারের বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা
সাপ্লিমেন্ট কি স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প?
পুষ্টিবিদদের মতে, কোনো সাপ্লিমেন্টই কখনও প্রাকৃতিক খাবারের পূর্ণ বিকল্প হতে পারে না। কারণ শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, মাছ, ডিম, দুধ বা বাদাম থেকে শুধু ভিটামিন-মিনারেলই নয়, ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও আরও অনেক প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়, যা ক্যাপসুল বা ট্যাবলেটে পুরোপুরি থাকে না।
কোন ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে?
সব সাপ্লিমেন্টই অপ্রয়োজনীয় নয়। চিকিৎসকদের মতে, কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। যেমন গর্ভাবস্থায় ফলিক অ্যাসিড, রক্তাল্পতা থাকলে আয়রন, ভিটামিন ডি বা বি১২-এর ঘাটতি, বয়স্কদের কিছু পুষ্টিঘাটতি ও নিরামিষভোজীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভিটামিনের অভাব। এছাড়া যাদের দীর্ঘদিন অপুষ্টি, শোষণজনিত সমস্যা বা বিশেষ রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে।
মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) জানিয়েছে, অনেক সাপ্লিমেন্ট বাজারে বিক্রি হলেও সেগুলোর কার্যকারিতা বা নিরাপত্তা সব সময় আগে থেকে কঠোরভাবে যাচাই করা হয় না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অজানা বা অনলাইনভিত্তিক সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। (সূত্র: এই সময়)