গবেষণা

গরমে অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধে ঝুঁকিতে কিডনি

০২ মে ২০২৬, ১১:০৭ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো/এআই

গরমে মাথাব্যথা, শরীরব্যথা বা মাইগ্রেন এসব সমস্যায় অনেকেই সহজ সমাধান হিসেবে ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে নেন। কিন্তু এই অভ্যাস গরমের সময় মারাত্মক ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ব্যথানাশক সেবনে কিডনির গুরুতর ক্ষতি, এমনকি বিকল হওয়ার কারণও হতে পারে।

পাবমেড-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, গরমের সময় বেশি মাত্রায় ব্যথানাশক ওষুধ বিশেষ করে ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (এনএসএআইডি) খেলে কিডনির কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। একই সতর্কবার্তা দিয়েছে জনস হপকিন্স মেডিসিন-ও।

কিডনি রোগ কেন বাড়ছে?
বর্তমানে কিডনি রোগ অনেকটাই জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি ভুলভাবে ওষুধ খাওয়ার প্রবণতাও কিডনি সমস্যার অন্যতম কারণ।

কিডনির সমস্যা সাধারণত দুই ধরনের হতে পারে। ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (সিকেডি)। এটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা প্রধানত ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের কারণে হয়। অন্যটি হলো-অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি (একেআই), যা হঠাৎ কিডনির ক্ষতি, যা সংক্রমণ, আঘাত বা অতিরিক্ত ওষুধ গ্রহণের ফলে হতে পারে। এই দ্বিতীয় ধরনের সমস্যার পেছনে ব্যথানাশক ওষুধও দায়ী।

গরমে কেন ঝুঁকি বাড়ে?
গরমের সময়ে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বেরিয়ে যায়, ফলে পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) দেখা দেয়। এতে রক্তচাপ কমে যায় এবং কিডনির উপর চাপ পড়ে। স্বাভাবিক অবস্থায় কিডনি 'প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন' নামক রাসায়নিকের মাধ্যমে রক্তনালিকে প্রসারিত করে রক্তপ্রবাহ বজায় রাখে। কিন্তু ব্যথানাশক ওষুধ এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়। ফলে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যায়, অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় ও
কিডনির কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

এছাড়া উচ্চ তাপমাত্রায় শরীরের বিপাকক্রিয়া বদলে যায়, এতে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও বাড়ে। এনএসএআইডি কিডনিতে 'অক্সিডেটিভ স্ট্রেস' তৈরি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি বিকলের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

কেন অযথা ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে?
বর্তমানে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে, গুগল সার্চ করে, চ্যাটবট ব্যবহার করে বা পরিচিতদের পরামর্শে ওষুধ খেয়ে ফেলছেন। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস। কারণ, সব ওষুধ সবার শরীরের জন্য উপযোগী নয়।

বিশেষ করে হৃদরোগী, উচ্চ রক্তচাপের রোগী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, যারা হরমোনজনিত ওষুধ গ্রহণ করছেন এবং যাদের শরীরে পানিশূন্যতা বা ইলেকট্রোলাইটের (সোডিয়াম-পটাশিয়াম) ঘাটতি রয়েছে তাদের এক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বেশি। 

কী করবেন?
যে কোনো ধরণের ব্যথা অনুভব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক খাবেন না, গরমে পর্যাপ্ত পানি পান করুন, দীর্ঘদিন ব্যথা থাকলে কারণ নির্ণয় করুন, শুধু ওষুধে নির্ভর করবেন না, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। এতে করে ঝুঁকি কমবে।

গরমের সময়ে ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক না হলে কিডনির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসাই হতে পারে এই ঝুঁকি এড়ানোর একমাত্র উপায়। [সূত্র: আনন্দবাজার]

পরীক্ষাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলো ও বৈদ্যুতিক পাখা সচল রাখার নির…
  • ০২ মে ২০২৬
ডিসেম্বরের মধ্যে এসএসসি-এইচএসসি শেষ করার উদ্যোগ, বিশ্ববিদ্য…
  • ০২ মে ২০২৬
কলকাতায় ক্রিকেট খেলছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইন…
  • ০২ মে ২০২৬
সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত…
  • ০২ মে ২০২৬
সিসিকের সুধী সমাবেশে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
  • ০২ মে ২০২৬
বাগেরহাটে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক
  • ০২ মে ২০২৬