ওষুধশূন্য যশোর সদর হাসপাতাল, রোগীরা ফিরছেন প্রেসক্রিপশন হাতে

০৫ মে ২০২৬, ১২:২৪ PM
যশোর জেনারেল হাসপাতাল

যশোর জেনারেল হাসপাতাল © সংগৃহীত

যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় মানুষের এখন একমাত্র প্রাপ্তি একটি কাগজ—প্রেসক্রিপশন। স্টোরে ওষুধ নেই, সরকারি ফার্মেসিতে নেই কোনো সরবরাহ। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী গত এক মাস ধরে শুধু চিকিৎসকের পরামর্শটুকু সম্বল করে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরছেন।

ওষুধ নেই, আছে কেবল দুর্ভোগ। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার এবং ইনডোর বা ওয়ার্ডে আরও ৭৫৯ রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। বর্তমানে এই বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য অতিপ্রয়োজনীয় ওমিপ্রাজল, অ্যান্টাসিড, মন্টিলুকাস্ট কিংবা জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক সেফিক্সিনের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। প্রচণ্ড গরমে যখন ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ছে, তখন সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থলে এই শূন্যতা রীতিমতো চরম ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছেন, ওষুধের সরবরাহ কমে গেছে। টেন্ডারের মাধ্যমে যে ওষুধ কেনা হয়, ওই টেন্ডার বাতিল হওয়ার পর নতুন টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় ওষুধের সংকট সৃষ্টি হয়েছেহাসপাতাল স্টোর ও ফার্মেসি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগে পেটের গ্যাস প্রতিরোধে প্রতিষেধক অ্যান্টাসিড, ওমিপ্রাজল ও প্যানটোপ্রাজল, ওয়ার্ডে রোগীর গ্যাস প্রতিষেধক ইনজেকশন, অ্যান্টিবায়োটিক সেফিক্সিম ও মন্টিলুকাস্ট ট্যাবলেট ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে এসব ওষুধের কোনোটিই হাসপাতালে সরবরাহ নেই। এর পাশাপাশি অন্যান্য ওষুধের সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এক মাস ধরে রোগীরা কোনো ওষুধ পাচ্ছেন না। ওষুধ না পেয়ে তারা শূন্য হাতে শুধু চিকিৎসাপত্র (প্রেসক্রিপশন) নিয়ে বাড়ি ফিরছেন আর বাজারে চড়া মূল্যে ওষুধ ক্রয় করে রোগীদের সেবন করতে হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, আবহাওয়ার কারণে বর্তমানে ডায়রিয়া, হাম, নিউমোনিয়া, ঠান্ডাজনিত জ্বর-কাশি-সর্দি, হুপিং কাশি, গলা ফোলাসহ নানা রোগের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। বয়স্ক ও শিশুরা বেশি মাত্রায় মৌসুমি এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু হাসপাতালে ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। ওষুধের মজুদ শেষ হয়ে গেছে। সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইডিসিএল লিমিটেড মোট বরাদ্দের শতকরা ৭৫ ভাগ ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। বাকি শতকরা ২৫ ভাগ ওষুধ আলাদাভাবে টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে বাড়তি ওষুধ ক্রয় করা হয়। তবে সে সুযোগও হাতছাড়া অবস্থা। ইডিসিএল লিমিটেড থেকে যে ওষুধ ক্রয় করা হয়, ওই ওষুধের মজুদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন বরাদ্দ না এলে ইডিসিএল লিমিটেড আর ওষুধ দেবে না। টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে যে ওষুধ দেওয়ার কথা, তাতেও দেখা দিয়েছে জটিলতা। প্রথম এমএসআর টেন্ডার আহ্বান করার পর ঠিকাদার নিয়োগের তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের বিশ্বাসযোগ্য না হওয়ায় তা বাতিল করে সম্প্রতি আবারও টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, যে টেন্ডার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় রোগীদের দ্রুত ওষুধ সরবরাহ করার কোনো পথ খোলা নেই। সব মিলিয়ে হাসপাতালে ওষুধ সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গরিব ও দুস্থ রোগীরা ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে সেবন করতে পারছেন না।

হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান। এটি সম্পন্ন হলে সংকটের কিছুটা সমাধান হবে। তবে সেই প্রক্রিয়া কত দিনে শেষ হবে কিংবা এই অন্তর্বর্তী সময়ে রোগীদের ভোগান্তি নিরসনে বিকল্প কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট আশ্বাস মেলেনি।

নতুন চেয়ারম্যান পাচ্ছে এনটিআরসিএ, আলোচনায় যারা
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
সাপে কাটার পর ওঝার কাছে নিয়ে সময় নষ্ট, বাঁচানো গেল না রাকিব…
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
মেসি-ইয়ামাল নয়, ফাইনালে জয় শুধু লা মাসিয়ার
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
পাবনায় আওয়ামী লীগ নেতার গলাকাটা লাশ উদ্ধার
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব: আরাগচি 
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
৩ বন্ধুর ডুব দিয়ে পুকুর ঘাট পেরোনোর প্রতিযোগিতা, দম ফুরিয়ে …
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence