করোনা আতঙ্কে কাছে যায়নি ডাক্তার-নার্স, কানাডা ফেরত ছাত্রীর মৃত্যু

১৬ মার্চ ২০২০, ০৯:১৫ AM
ঢামেকে মৃত্যু হওয়া কানাডা ফেরত শিক্ষার্থী নাজমা আমিন (২৪)

ঢামেকে মৃত্যু হওয়া কানাডা ফেরত শিক্ষার্থী নাজমা আমিন (২৪) © সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ভাইরাস সন্দেহে ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলার কারণে কানাডা ফেরত এক শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল জটিলতায় মৃত্যু হয় নাজমা আমিন (২৪) নামের ওই ছাত্রীর। 

তাঁর পরিবারের দাবি, রোগীর করোনা ভাইরাস ছিল— সন্দেহ থেকে ডাক্তারা অবহেলায় করায় ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। নাজমা ছিলেন কানাডার সাসকাচোয়ানের রেজিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী। তিনি গত সোমবার ঢাকায় ফিরে এসে পেটের ব্যথার কথা পরিবারকে জানান।

তার পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমকে বলেন, নাজমা মোটেও খেতে পারছিলেন না– প্রতিবার যখন তিনি খাওয়ার চেষ্টা করলেন তখন তার বমি বমি ভাব হয়েছে বা পেটের ভীষণ ব্যথা হয়েছিল। সেই সমস্যা নিয়ে শুক্রবার রাতে তাকে মোহাম্মদপুরের বাড়ির কাছে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাকে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ) এ রাখা দরকার। এরপর ঢামেকে ভর্তি করা হয়।

নাজমার চিকিৎসা নিয়ে বাবা আমিন উল্লাহ বলেন, ‘তাঁর মেয়েকে ঢামেকে একটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে স্যালাইন, অক্সিজেন সহায়তা এবং ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরে সকাল আটটায় নার্সদের শিফট পরিবর্তন হয় এবং নার্সদের একটি নতুন ব্যাচ এসেছিল।

সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে এক নার্স আমিনকে জিজ্ঞাসা করলেন নাজমার কী হয়েছে। লক্ষণগুলি বর্ণনা করতে গিয়ে আমিন উল্লেখ করেছিলেন— মেয়েটি সম্প্রতি কানাডা থেকে এসেছিল। এই দৃশ্যত সহজ তথ্য নাজমার পরিস্থিতি মারাত্মক করে তুলেছিল।

কানাডার কথা উল্লেখ করার সঙ্গে সঙ্গে ওয়ার্ডের নার্সরা চিৎকার করতে লাগল, “সে কানাডা থেকে এসেছে! তারও জ্বর হয়েছে!” আমিন উল্লাহ জানান, মেয়েটির করোনা ভাইরাস রয়েছে বলে তারা ডাক্তারদের কাছে ছুটে এসেছিল। তখন পুরো ওয়ার্ডটি বিশৃঙ্খলার কবলে পড়ে এবং ডাক্তার এবং নার্সরা মেয়েটির কাছাকাছি আসতে অস্বীকার করেন। এর ফলে এক পর্যায়ে চিকিৎসার অভাবে তাঁর মৃত্যু হয়।

যেই ওয়ার্ডটিতে মেয়েটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিল, সেখানকার কিছু কর্মীদের সাথে কথা বলেন গণমাধ্যমকর্মীরা। একজন ওয়ার্ড ছেলে জানায়, ‘কর্মীরা যখন শুনলেন যে কোনও করোনা ভাইরাসের রোগী ওয়ার্ডে প্রবেশ করেছে, তখন সবাই আতঙ্কিত হয়েছিল। আমিও সেখানে ছিলাম। আমার মনে হয়েছিল আমার পৃথিবী শেষ হয়ে গেছে। মেয়েটি যদি আমাকে সংক্রামিত করে এবং আমি আমার পরিবারকে সংক্রামিত করি তবে কী হবে? 

একজন নার্স বলেছিলেন, ‘প্রত্যেকে নিজের জীবন নিয়ে ভয় দেখায়। এমনকি নার্সরাও।’

সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ বি এম জামাল বলেছিলেন, ‘যখন কানাডা-ফেরত মেয়েটির আসার খবর জানাজানি হয়, তখন ওয়ার্ডটি আতঙ্কে পড়ে যায়। তবে তিনি আরও জানান, এর পরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, রোগীর ওয়ার্ডে দায়িত্বরত স্টাফদের ভাইরাস প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ছিল না। তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন— হয়তো রোগীর সংস্পর্শে আসলে করোনা ভাইরাসে নিজেরাও আক্রান্ত হবেন। এছাড়া কোনও করোনা ভাইরাস পরীক্ষার কিট ছিল না এবং এমনকি তাঁর শরীরে ভাইরাস রয়েছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, মেয়েটির করোনা পরীক্ষার করার জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) ফোন করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিনিধি এসে তার শরীর পরীক্ষা করে এবং করোনা নেগেটিভ পাওয়া যায় অর্থাৎ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নন মেয়েটি। এদিকে রোগীর কোন পর্যবেক্ষণ ছাড়া প্রায় এক ঘন্টা সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। তাই মেয়েটির অবস্থা অবনতির দিকে চলে যায়।

মেয়েটির বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয় বলে গণমাধ্যমকে জানান ঢামেকের পরিচালক।

হাসপাতাল সূত্র জানা যায়, দুপুর প্রায় সাড়ে বারোটার দিকে একজন চিকিৎসক এগিয়ে গেলেন, গ্লাভস এবং মুখোশ পরে রোগীর কাছে যান। অ্যান্টিবায়োটিকযুক্ত ইনজেকশন পুশ করেন। তখন অনেক দেরি হয়ে গেল। অ্যান্টিবায়োটিক পুশ হওয়ার পরই নাজমা মারা যান।

ডা. এ বি এম জামাল বলেছিলেন, ‘আমরা সন্দেহ করছি যে তাঁর অন্ত্রের ছিদ্র ছিল, যার অর্থ তার অন্ত্রের কোথাও একটি ফাটল ছিল। যখন তাকে ভর্তি করা হয়েছিল, তখন তিনি প্রচুর শরীরের তরল হারিয়েছিলেন এবং হাইপারভাইলেমিক শক পেয়েছিলেন। অর্থাৎ পালস দুর্বল ছিলো, রক্তচাপ কম ছিলো, শরীরের তাপমাত্রা কমে গিয়ে ছিল, শ্বাস প্রশ্বাস জোরে জোরে নিচ্ছিল। (সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার)

ইবির জিয়া হলের নতুন প্রভোস্ট ড. সেলিম রেজা
  • ১৬ মে ২০২৬
মাঠের সংঘর্ষে ৬ ঘণ্টা পর বিজিত শাবিপ্রবি দলকে বিজয়ী ঘোষণা, …
  • ১৬ মে ২০২৬
১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে কুয়েটে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় দাবা…
  • ১৬ মে ২০২৬
সময় না জেনে ঘুমাচ্ছেন, যে কারণে বাড়তে পারে শরীরের বার্ধক্য
  • ১৬ মে ২০২৬
ফের ব্যাটিং ধস, লিটনে আস্থা রেখে চা-বিরতিতে বাংলাদেশ
  • ১৬ মে ২০২৬
চমক দেখানোর স্বপ্নে দল ঘোষণা হাইতির
  • ১৬ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081