করোনা থেকে নিরাপদ থাকতে যা করবেন

০৮ মার্চ ২০২০, ০৪:২১ PM

© ফাইল ফটো

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েয়েছে। ইতোমধ্যে কেড়ে নিয়েছে ৮১ জনের প্রাণ, সংক্রমিত হয়েছে তিন হাজারের বেশি মানুষের দেহে। ২০০২ সালে সার্স এবং ২০১২ সালের মার্সের মতই এ নভেল করোনাভাইরাস একই পরিবারের সদস্য, যারা ছড়াতে পারে মানুষ থেকে মানুষে।

ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের ধারণা, মানুষের দেহে এ রোগ এসেছে কোনো প্রাণী থেকে। তারপর মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে।

এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। সাধারণ ফ্লুর মতই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এ রোগের ভাইরাস।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। লক্ষণগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। কারও ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এটি মোড় নিতে পারে নিউমোনিয়া, রেসপাইরেটরি ফেইলিউর বা কিডনি অকার্যকারিতার দিকে। পরিণতিতে ঘটতে পারে মৃত্যু।

মানুষের দেহে ভাইরাস সংক্রমণের পর লক্ষণ দেখা দিতে পারে এক থেকে ১৪ দিনের মধ্যে। কিন্তু লক্ষণ স্পষ্ট হওয়ার আগেই এ ভাইরাস ছড়াতে পারে মানুষ থেকে মানুষে। আর এ কারণেই চীনে এ রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

চীনের বাইরে এ পর্যন্ত ১২টি দেশে নভেল করোনাভাইরাস ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বাংলাদেশে এখনও এ রোগে আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায়নি।

নভেল করোনাভাইরাসের কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। ভাইরাসটির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হল, যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

দেশে যদি এ ভাইরাস ছড়িয়েই পড়ে, তাহলে কীভাবে নিরাপদ থাকার চেষ্টা করা যায় সে বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

* ঘরের বাইরে যখন যাবেন গ্লাভস বা হাতমোজা পড়ুন। বাসে বা যে কোনো গণপরিবহনেও হাত ঢেকে রাখুন গ্লাভসে। যদি কখনও সামাজিক প্রয়োজনে হাত মেলাতে বা খাওয়ার জন্য গ্লাভস বা হাতমেোজা খুলতেও হয়, ওই হাতে মুখ চোখ নাক স্পর্শ করা যাবে না। আবার গ্লাভস পরার আগে অবশ্যই গরম পানি আর সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে হাত।

* যে গ্লাভস বা হাতমোজা পড়ে একবার বাইরে ঘুরে এসেছেন, খুব ভালোভাবে পরিষ্কার না করে তার দ্বিতীয়বার ব্যবহার করবেন না। ভেজা বা স্যাঁতস্যাঁতে গ্লাভস বা হাতমোজা ব্যবহার করবেন না।

* ধুলো আর ধোঁয়া থেকে বাঁচতে অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করেন। তবে ঘরের ভেতরে বা বাইরে এ ধরনের মাস্ক করোনাভাইরাস থেকে খুব বেশি সুরক্ষা হয়ত দেবে না। কাপড় বা কাগজের তৈরি এসব মাস্ক কয়েকবার ব্যবহার করলেই নষ্ট হয়ে যায়। একই মাস্ক দিনের পর দিন ব্যবহার করলে তা বিপদের কারণ হতে পারে। তারচেয়ে বরং মাস্ক না পরাও ভালো।

* কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখতে হবে। টিস্যু ব্যবহার করতে হবে, যা অবশ্যই একবার ব্যবহারের পর ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে।

* কেউ যদি কাশতে থাকেন বা নাক টানতে থাকেন, কারও মধ্যে যদি সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে তার অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিৎ, অন্তত অন্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে।

* করোনাভাইরাস যদি ছড়িয়েই পড়ে, নিরাপদ থাকার একটি চেষ্টা হতে পারে ভিড় এড়িয়ে চলা এবং অন্যদের থেকে কিছুটা দূত্ব বজায় রেখে কথা বলা, সেটা হতে পারে দেড় ফুট দূরত্ব। হাত মেলানো বা কোলাকুলি থেকে সাবধান, সেটা সবার ভালোর জন্যই।

* বাসায় টয়লেট আর কিচেন থেকে পুরনো সব তোয়ালে সরিয়ে দিতে হবে প্রত্যেকের জন্য আলাদা তোয়ালে। সবাই তার জন্য নির্দিষ্ট তোয়ালেই ব্যবহার করবে, অন্যদেরটা কথনও স্পর্শ করবে না। সব তোয়ালে নিয়মিত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ভেজা বা ড্যাম্প তোয়ালে হতে পারে ভাইরাসের বাসা, সুতরাং সাবধান।

* বাসার যে জায়গাগুলোতে সবচেয়ে বেশি মানুষের হাত পড়ে, তার মধ্যে একটি হর দরজার নব। করোনাভাইরাসের ঝুঁকি যখন আশপাশে, তখন ডোরনব ব্যবহারেও সাবধান। সম্ভব হলে গ্লাভস পরে দরজা খোলা বা বন্ধ করার কাজটি করতে হবে। তা না হলে অন্তত ভালো ভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে হাত। একই ধরনের সতর্কতা দেখাতে হবে সিঁড়ির রেলিং, ড্রয়ার, কম্পিউটার কি-বোর্ড আর মাউস, ল্যাপটপ, কলম, বাচ্চাদের খেলনা- এরকম যে কোনো কিছুর ক্ষেত্রে যা মানুষ হাত দিয়েই ব্যবহার করে।

* আপনি যদি সব সময় নিজের জিনিসপত্রই ব্যবহার করেন, সেগুলো যদি আর কেউ কখনও স্পর্শ না করে, তাহলে মোটামুটি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। তবে যদি কখনও অন্যের ব্যবহৃত সামগ্রী আপনাকে ধরতে হয় কিংবা আপনার কিছু অন্যকে ব্যবহার করতে দিতে হয়, অবশ্যই ওই হাত ধোয়ার আগে নাখ, মুখ বা চোখ ছোঁবেন না।

* মাংস, ডিম বা শাকসব্জি ভালোভাবে ধুয়ে এমনভাবে রান্না করতে হবে যাতে কোনোভাবে কাঁচা না থাকে। সেই সঙ্গে প্রচুর তরল পানের পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

এদিকে বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে তিনজন আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন নারী ও দুইজন পুরুষ। তাদের মধ্যে একই পরিবারের দুইজন। এদের মধ্যে দুইজন সম্প্রতি ইতালি থেকে দেশে ফিরেছে। এছাড়া আরও ৩ জনকে  হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার মতো কোনো পরিস্থিতি হয়নি। স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি।

তিনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া আছে। আইসোলেশেন ইউনিট করা হয়েছে। আশঙ্কা করছি না আরও ছড়িয়ে পড়বে। প্রত্যেকের মাস্ক পরে ঘুরে বেড়ানোর কোনো দরকার নেই।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন উপজেল…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এনসিপির পর এবার বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিলের আবেদন জ…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ডিআইইউসাস বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন দ্য ডেইলি ক্যাম্…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ম বার্ষিক নাট্যোৎসব শুরু
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত জোটের প্রার্থী
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ডাকসুর উদ্যোগে ছাত্রী হলে বিনামূল্যে টিকাদান শুরু, একদিনেই …
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬