থাকছেই রাজধানীর অটোরিকশা, অনুমোদন দিয়ে আগামী সপ্তাহেই হতে পারে প্রজ্ঞাপন

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০ PM , আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০১ PM
ই-রিকশা

ই-রিকশা © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

রাজধানীতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণ বন্ধ না করে নতুন নীতিমালা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তৈরিকৃত একটি নকশার আদলে ঢাকার পথে চলবে তিন চাকার বিশেষ ই-রিকশা। পরিবেশবান্ধব এই রিকশা চালু করতে ইতোমধ্যে খসড়া নীতিমালা প্রস্তত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে তা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে এবং শিগগিরই তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হতে পারে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষ নকশায় তৈরি তিন চাকার এই স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা চালু হলে রাজধানী থেকে চিকন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা উঠিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যেকোনো ধরেনের ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকার পথে চলতে হলে বুয়েট থেকে সার্টিফিকেট নিতে হবে। অর্থাৎ এই তিন চাকার বাহনটি যাত্রার জন্য নিরাপদ কিনা তা পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। সেজন্য প্রথমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সঙ্গে চালকদের যোগাযোগ করতে হবে।

রাজধানী ঢাকায় রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট দীর্ঘদিনের। এতে সড়কে শৃঙ্খলার বেহাল দশা হলেও বারবার চেষ্টা চালিয়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন নিষিদ্ধ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ সরকার, যদিও বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় অননুমোদিত ও অনিয়ন্ত্রিত এসব ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং ইজিবাইককে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য এবং যাত্রী কল্যাণ সমিতির সর্বশেষ বার্ষিক পরিসংখ্যান (২০২৫-২৬) অনুযায়ী, দেশজুড়ে সংঘটিত মোট সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ১২.১৭% থেকে ১৪% ঘটে থাকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের কারণে। বেসরকারি গবেষণা ও গণমাধ্যমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৬ বছরে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও তিন চাকার যানবাহনের কারণে ছোট-বড় দুর্ঘটনায় দেশে প্রায় ৭ হাজার ৬০৪ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে ঘটা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ৬৬ শতাংশেরই প্রধান কারণ হলো নছিমন, করিমন ও সিএনজির পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা ও ইজিবাইকের অবাধ চলাচল। এর মধ্যে তিন চাকার অবৈধ যানের দুর্ঘটনার ৬১% ঘটে প্রধান মহাসড়কগুলোতে। রাজধানী ঢাকাতেও প্রতিদিন এসব রিকশা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন নগরবাসী।

‘ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের জন্য নতুন নীতিমালা হচ্ছে, তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের পরেই ঢাকার পথে পরিবেশবান্ধব রিকশা চলাচলের অনুমোদন পাবে। যেসব প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব বলে তিন চাকার ই-রিকশা বিক্রি করছে, তারা অবৈধভাবে বিক্রি করছে। নীতিমালার পর প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মেনে বিক্রি করতে পারবে এবং সড়কে চলার অনুমতি পাবে।’-মুহাম্মদ হাবিবুল আলম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ডিএনসিসি 

এ অবস্থায় দীর্ঘদিনের এই চিহ্নিত সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কথা হয়েছে জাতীয় সংসদেও। গত ৭ সেপ্টেম্বরও সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ওই সময়ে রেহানা আক্তার রানু উল্লেখ করেন, রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরা সচল রয়েছে। এই ক্যামেরাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়মভঙ্গকারী গাড়ির নম্বর প্লেট স্ক্যান করে জরিমানা করে। কিন্তু ই-রিকশা বা অটোরিকশাগুলোর কোনো লাইসেন্স বা নম্বর প্লেট না থাকায় ট্রাফিক আইন অমান্য করলেও এদের শনাক্ত বা জরিমানা করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অটোরিকশাগুলোকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অধীনে এনে দ্রুত নিবন্ধন ও নম্বর প্লেটের ব্যবস্থা করার জোর দাবিও জানান তিনি।

ওই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে অননুমোদিত এবং নিবন্ধনহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ই-রিকশার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ বা নিষিদ্ধ থাকবে। তবে এগুলোকে পুরোপুরি উচ্ছেদ না করে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে অভ্যন্তরীণ বা ফিডার রোডগুলোতে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

তিনি বলেন, নতুন নীতিমালার আওতায় খুব শীঘ্রই ই-রিকশা ও অটোরিকশাগুলোকে নির্দিষ্ট নাম্বারিং ও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি চালকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

এ ছাড়া এসব ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে প্রতি বছর ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করছে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। এর মধ্যে ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। এই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে রিকশা চার্জ দেওয়ার ফলে সরকারের প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এই অবস্থায় বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই বাহনগুলোতে পরিবেশবান্ধব উন্নত ব্যাটারি ব্যবহারের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।

এদিকে সরকার ইতোমধ্যে একটি নীতিমালা প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি সূত্র। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপসচিব) মুহাম্মদ হাবিবুল আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের জন্য নতুন নীতিমালা হচ্ছে, তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের পরেই ঢাকার পথে পরিবেশবান্ধব রিকশা চলাচলের অনুমোদন পাবে। যেসব প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব বলে তিন চাকার ই-রিকশা বিক্রি করছে, তারা অবৈধভাবে বিক্রি করছে। নীতিমালার পর প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মেনে বিক্রি করতে পারবে এবং সড়কে চলার অনুমতি পাবে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব থ্রি-হুইলার নিয়ে নীতিমালা প্রায় প্রস্তুত হয়ে গেছে। আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে এবং অনুমোদনের পর তা প্রজ্ঞাপন আকারে খুব শিগগিরই প্রকাশ হতে পারে। নতুন নীতিমালায় বুয়েটের তৈরিকৃত রিকশার আদলে নতুন রিকশা তৈরি করতে হবে।’

বুয়েটের নকশা করা রিকশায় যা থাকবে
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের একটি টিম ইতোমধ্যে নীতিমালা অনুযায়ী একটি রিকশার নকশা প্রস্তুত করেছে। বিভাগের অধ্যাপক মো. এহসানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের গবেষক দলে আরও আছেন একই বিভাগের অধ্যাপক এ সালাম আকন্দ ও মো. আমান উদ্দীন, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান খান এবং গবেষণা প্রকৌশলী হিসেবে ছিলেন মো. আসাদুজ্জামান ও আবদুল আজিজ ভুঁইয়া। গবেষণা প্রকল্পটির অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিল (বিইপিআরসি)।

প্রকৌশলী দল সূত্র জানিয়েছে, নকশা করা রিকশাটি মূলত রাস্তায় চলাচলকারী ইজিবাইকের মতো। এ রিকশায় ১৬টি বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য হবে ৩ দশমিক ২ মিটার, প্রস্থ দেড় মিটার এবং উচ্চতা ২ দশমিক ১ মিটার। সব মিলিয়ে আকার হবে এখনকার রিকশার মতোই। রিকশাটি ৩২৫ থেকে ৪২৫ কেজি পর্যন্ত ওজন সহজেই বহন করতে পারবে। ফলে দুজন যাত্রী নিয়ে চালক সহজেই রিকশাটি চালাতে পারবেন।

নতুন রিকশায় ব্রেকিং ব্যবস্থা এখনকার চেয়ে অনেক ভালো। তিনটি চাকায় ‘হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক’ ও বিকল্প ‘পার্কিং ব্রেক’ সংযোজন করা হয়েছে। ফলে রিকশা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

সাধারণ রিকশায় ‘লুকিং গ্লাস’ থাকে না। ফলে রিকশাচালককে পেছনে তাকিয়ে দেখতে হয় কোনো যান আসছে কি না। আবার সাধারণ রিকশায় ‘ইন্ডিকেটর’ নেই। ফলে রিকশা ডানে অথবা বাঁয়ে মোড় নিলে পেছনের যানবাহনের চালকেরা তা বুঝতে পারেন না, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। নতুন রিকশায় ‘লুকিং গ্লাস’ ও ‘ইন্ডিকেটর’ থাকবে।

নতুন রিকশায় ছাউনি ও কাচের ‘উইন্ডশিল্ড’ থাকবে। ফলে বৃষ্টিতে চালক ও যাত্রীদের ভিজতে হবে না। নতুন রিকশায় কাঠামোর সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত করা হয়েছে হেডলাইট (মূল বাতি), যাতে রাস্তার দৃষ্টিসীমা ঠিক থাকে। নতুন হেডলাইটে ‘হাই বিম’, ‘লো বিম’ ও ‘ডিআরএল’ (ডে টাইম রানিং ল্যাম্প) যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এই বাতি চালককে সড়কে চলাচলের সময় দেখতে এবং রিকশাটিকে অন্য যানবাহনের চালকের দৃষ্টিগোচর করতে সহায়তা করবে।

তিন চাকার ই-রিকশাটির ব্যাটারির জন্য খরচ হবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। বাকিটা কাঠামোর খরচ। সব মিলিয়ে দেড় লাখ টাকায় এই রিকশা প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। এই ব্যাটারি একবার চার্জ দিলে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরত্ব যেতে পারবে। নতুন রিকশায় সর্বোচ্চ গতি ওঠানো যাবে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার। তবে এর তিনটি চাকায় ‘হাইড্রোলিক ব্রেক’ ব্যবহার করার কারণে তা নিরাপদ বলে জানা গেছে।

নকলে বাধা দেওয়ায় পুলিশ ও কেন্দ্র পরিদর্শকের ওপর হামলা, গ্রে…
  • ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছাত্রীনিবাস থেকে হাবিপ্রবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার
  • ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চল থেকে জজ হলেন ঢাবি শিক্ষার্থী শুভ
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৮শ বিজেএসে ইবি থেকে জজ হলেন ১৯ শিক্ষার্থী 
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভিসির প্রথম কর্মচারী নিয়োগে ১২ জনের ৮ জনই নিজ গ্রামের, বাকি…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ দিচ্ছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি, করুন আ…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬