স্থানীয় সরকার নির্বাচন লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বপদে থেকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে তাদের আগে চাকরি ছাড়তে হবে।
আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধ থেকে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন আইনে সংশোধনের একটি প্রস্তাব সরকারকে পাঠানোর চিন্তা করছে ইসি। এর মধ্যে অন্যতম হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা।
এ জন্য স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের ২৩(১) ধারা, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইনের ১৯(ঙ) ধারা, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ৯(ঙ) ধারা, উপজেলা পরিষদ আইনের ৮(ঙ) ধারা এবং জেলা পরিষদ আইনের ৬(ঙ) ধারায় সংশোধনের প্রস্তাব করা হবে।
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব ধারায় ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের অধীনে লাভজনক পদে কিংবা কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পদে সার্বক্ষণিক অধিষ্ঠিত থাকেন’ এ ধরনের বিধান যুক্ত করা হবে। সংশোধনী কার্যকর হলে দেশের বিভিন্ন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় সাত লাখ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকরিতে বহাল থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
আরও পড়ুন: কাঙ্ক্ষিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল আজ
ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ (ক) ও (খ) ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ প্রস্তাব আনা হচ্ছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক পদ, চাকরি বা আর্থিকভাবে লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। কেউ এ বিধান লঙ্ঘন করলে তদন্তে প্রমাণিত হলে তার এমপিও বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, আর্থিকভাবে লাভজনক পদ বলতে সরকারের দেওয়া বেতন, ভাতা বা সম্মানি ছাড়াও বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিকতা কিংবা আইন পেশা থেকে প্রাপ্ত বেতন, ভাতা বা সম্মানিকে বোঝাবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্কুলারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ প্রস্তাব করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে শিক্ষকরা প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকরা নিজেরাই প্রার্থী হলে তাদের সহকর্মীদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এর আগে ২ জুলাই রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন’-এর ‘সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট’ ও ‘মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন একই ধরনের মত দেন।
তিনি বলেন, আগামী দিনের নির্বাচনে শিক্ষকরা যেন অংশগ্রহণ না করেন, সে জন্য সরকার আইন করতে পারে। কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে আগে চাকরি ছেড়ে দেওয়া উচিত।