জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন © টিডিসি সম্পাদিত
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জুলাই শহীদ ও আহতদের সহায়তায় ওই বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। তবে প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থের অভাবে গত ছয় মাস ধরে অফিসের ভাড়া পরিশোধ করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে কর্মীদের বেতনও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের উল্লেখযোগ্য অংশই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধা। আর্থিক সংকটের কারণে তারা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে তারা এখনও অটল রয়েছেন।
ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম শুরু করতে তাদের মোট ৩৮৩ কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল। তবে অনুদান ও সরকারি বরাদ্দ মিলিয়ে পাওয়া যায় ১২৪ কোটি টাকা। এই অর্থ থেকে ৮৩১টি শহীদ পরিবারের মধ্যে ৪২ কোটি টাকা এবং ৬ হাজার ১২৭ জন আহত ব্যক্তির মধ্যে ৭৮ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তবে বর্তমান অর্থসংকটের কারণে আহতদের চিকিৎসা সহায়তাসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক আহত ব্যক্তি এখনও প্রাপ্য সহায়তা পাননি বলে জানিয়েছে ফাউন্ডেশন।
আজ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। ঈদের আগে কর্মীদের এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। সেটি সরকারের কোনো অর্থ ছিল না—কামাল আকবর, সিইও, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসনের কাজ মূলত রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সরকারকে নিয়মিত অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।
এদিকে, জাতিসংঘের তথ্যমতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে সরকারের গেজেটভুক্ত শহীদের সংখ্যা ৮৪৩। অবশিষ্টদের শনাক্ত ও তালিকাভুক্ত করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও কামাল আকবর, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ফাউন্ডেশনের কর্মীদের বেতন ও অফিস পরিচালনার বিষয়টি সরকারের দায়িত্ব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হয়েছে এবং বিস্তারিত প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা সরকারের বরাদ্দের অপেক্ষায় আছি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসন্ন বাজেটের বরাদ্দের মধ্যে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
কর্মীদের বেতন বন্ধ থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। ঈদের আগে কর্মীদের এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। সেটি সরকারের কোনো অর্থ ছিল না। আমি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল। অবসরের পর পাওয়া আমার ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে, বিনা সুদে ও বিনা জামানতে জুলাই ফাউন্ডেশনকে ঋণ দিয়েছিলাম। সেই ঋণের অর্থ থেকেই কর্মীদের ঈদের আগে এক মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছিল।