সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটি © টিডিসি ফটো
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি শেষে সোমবার (১ জুন) থেকে খুলছে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিস, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান ও শেয়ারবাজার। ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া ছুটি শেষ হচ্ছে রবিবার (৩১ মে)। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে যাচ্ছে।
গত ২৮ মে দেশে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। ঈদ উপলক্ষে সরকার আগে থেকেই ছয় দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল। পরে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নির্বাহী আদেশে আরও একদিন ছুটি বাড়িয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়।
আগে থেকেই নির্ধারিত ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত একদিন যুক্ত হওয়ায় এবার চাকরিজীবীরা তুলনামূলক দীর্ঘ সময় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ পান। সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি ব্যাংক, বিমা এবং অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এই ছুটি ভোগ করেন। ঈদের ছুটির আগে ২৩ মে (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস করেছেন চাকরিজীবীরা।
ছুটি শেষে সোমবার থেকে সরকারি অফিসের পাশাপাশি ব্যাংক, বিমা, শেয়ারবাজার এবং অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে শুরু হবে। ফলে দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আবারও গতি ফেরার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদন করার আগে যে ৫ বিষয় জানা জরুরি
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ঈদুল আজহা উপলক্ষে ডিএসইর সব ধরনের অফিস ও ট্রেডিং কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ছুটির আগে ২৩ মে (শনিবার) শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়।
তিনি আরও বলেন, ছুটি শেষে ১ জুন থেকে আবার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে। আগের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শেয়ারবাজারে লেনদেন চলবে। অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন হবে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুরুতে ২৬ ও ২৭ মে এবং পরে ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়। ঈদের দিন ২৮ মে সাধারণ ছুটি হিসেবে যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ২৫ মে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করা হলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি পান।
ছুটির এই দীর্ঘ সময়ে দেশের জরুরি সেবাসমূহ স্বাভাবিকভাবে চালু ছিল। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, ডাক ও টেলিযোগাযোগসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছে। এছাড়া হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা এবং জরুরি পরিবহন ব্যবস্থাও ছুটির আওতার বাইরে থেকে চালু ছিল।
টানা ছুটি শেষে সোমবার থেকে সরকারি দপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বিমা ও শেয়ারবাজারে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের কর্মজীবন আবারও পুরোনো ছন্দে ফিরবে।