বিদেশে উচ্চশিক্ষা © সংগৃহীত
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন এবং আবেদন প্রক্রিয়া অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর কাছেই জটিল ও চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকলে এই প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ডুওলিঙ্গো ইংলিশ টেস্টের স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার ও শুলজে ইনোভেশন স্কলার জর্জেস মাচেটা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরা হলো।
প্রথমেই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। মাচেটার মতে, অতিরিক্ত সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলে আবেদনপত্রের মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কারণ সময় সীমিত থাকে। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুযোগ-সুবিধা, আকার, বৃত্তি এবং অবস্থান বিবেচনা করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা। বর্তমানে তিনি একটি ছোট কলেজে পড়াশোনা করছেন এবং সেখানে ছোট ক্লাস ও ব্যক্তিগত মনোযোগ পাওয়ার সুযোগ থাকায় অভিজ্ঞতাটি তার কাছে ইতিবাচক।
বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণা করারও পরামর্শ দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফ্রি রিসোর্স ব্যবহার করে রিভিউ দেখা, ভার্চুয়াল ক্যাম্পাস ট্যুর পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী বা শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান মাচেটা। এই গবেষণা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ধারণা দেবে না, বরং আবেদনপত্রের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে সম্পূরক প্রবন্ধ লেখার ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে। যে প্রতিষ্ঠানে নিজেকে সফল হতে দেখেন, সেটিকেই বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
আরও পড়ুন: স্কলারশিপ ও ভর্তির আবেদন সফল করতে যে ৫ ভুল কখনোই করবেন না
আবেদনের সময় ব্যক্তিগত বিবৃতিকে সত্যিকারের ব্যক্তিগত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মাচেটা। তিনি বলেন, ভর্তি কর্মকর্তারা আবেদনকারীর ব্যক্তিত্ব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য মূল্যায়ন করতে চান। অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার আশায় নিজেদের প্রকৃত ব্যক্তিত্ব গোপন করেন বা পরিবর্তন করার চেষ্টা করেন, যা ঠিক নয়। তার মতে, নিজের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরলে ভর্তি হলে শিক্ষার্থী নিশ্চিত হতে পারে যে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার জন্য উপযুক্ত। আর ভর্তি না হলেও বুঝতে পারে সেটি তার জন্য সঠিক জায়গা ছিল না। তাই আবেদনপত্রে স্বতঃস্ফূর্ততা ও সততা বজায় রাখা জরুরি।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণ করাও গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ইংরেজি ভাষা পরীক্ষা রয়েছে, যেগুলোর পদ্ধতি, খরচ এবং সময়সীমা ভিন্ন। মাচেটা জানান, ডুওলিঙ্গো ইংলিশ টেস্ট অনলাইনে দেওয়া যায়, এতে বিনামূল্যে অনুশীলনের সুযোগ রয়েছে এবং বিশ্বের চার হাজারেরও বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এটি গ্রহণ করে। অনেক ইংরেজি সনদ পরীক্ষা ভাষাগত দক্ষতার চেয়ে পরীক্ষার কৌশলকে বেশি মূল্যায়ন করে। তবে ডুওলিঙ্গো ইংলিশ টেস্ট সরাসরি ভাষাজ্ঞান মূল্যায়ন করে। তিনি এটিকে বিদেশে পড়াশোনার আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয়-সাশ্রয়ী এবং কার্যকর একটি বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু একাডেমিক বিষয় নয়, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত আগ্রহ ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের দিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন মাচেটা। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষা অর্জন হলেও পুরো অভিজ্ঞতাটি কেবল ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং যাত্রাটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের ক্লাব ও সহশিক্ষা কার্যক্রম রয়েছে তা খতিয়ে দেখা উচিত এবং নতুন অভিজ্ঞতায় অংশ নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন।
মাচেটার মতে, সঠিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, পর্যাপ্ত গবেষণা, নিজের ব্যক্তিত্বের যথাযথ উপস্থাপন, উপযুক্ত ইংরেজি ভাষা পরীক্ষা নির্বাচন এবং একাডেমিক কার্যক্রমের বাইরেও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করা—এই পাঁচটি বিষয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সফল ও ফলপ্রসূ করে তুলতে পারে।