২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে ৭ জুন © টিডিসি সম্পাদিত
নবম পে স্কেলের প্রথম ঘোষণায় (সুপারিশ) প্রত্যাশার চেয়ে বড় আশা এসেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের হাত ধরে। কিন্তু সরকার সেই সুপারিশের পুরোটা গ্রহণ করেনি। এজন্য নতুন করে গঠন করে কমিশন। সিদ্ধান্ত হয় নবম পে-কমিশনের পূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে তা আংশিকভাবে গ্রহণ করার। এজন্য কমিশনের প্রস্তাবনায় বেশ কিছু কাটছাঁট করে বিএনপি সরকারের গঠিত কমিটি। চূড়ান্ত হয় তিন ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন পরিকল্পনার।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পুরো নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর না করে তা তিনটি অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী জুলাই মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেসিক বেতনের অর্ধেক অংশ পেতে শুরু করবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অর্ধেক বেসিক কার্যকর করা হবে। এরপর ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন পে-স্কেলের আওতায় নির্ধারিত বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা ধাপে ধাপে চালু করা হবে।
জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে ৩০ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ ‘থোক বরাদ্দ’ রাখার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সূত্রের তথ্য, আগামী ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। তবে এদিনই পে স্কেলের বরাদ্দ হচ্ছে না। জানা গেছে, আগামী ৭ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। এদিন বেলা ৩টায় রাষ্ট্রপতির আহবানে জাতীয় সংসদ ভবনে এ অধিবেশন শুরু হবে। এরপর আগামী ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সংসদে পেশ করবেন। সে দিনই পে স্কেলে বরাদ্দের বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে।
জুলাইয়ে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে কী হারে বাড়ছে, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। মন্ত্রী এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আগামী বাজেটে নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে। কীভাবে তা হবে, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে। এবার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে পে স্কেল সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, সুপারিশ অনুযায়ী পুরো বেসিক দেওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে চাইলে সরকারের প্রয়োজন ৪৩ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এখন যেহেতু সরকারি চাকরিজীবীরা ১০ শতাংশ মহার্ঘভাতা পাচ্ছেন, তাই নতুন বেতন বাস্তবায়নের সাথে এই ১০ শতাংশ ভাতা সমন্বয় হবে। ফলে এই মুহুর্তে ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে প্রয়োজন হবে ৩৭ হাজার কোটি টাকা।
তিনি আরো বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হয়েছে। তাই আগামী অর্থবছরে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেসিকের অর্ধেকটা (৫০%) আগামী ১ জুলাই থেকে দেয়ার জন্য বাজেটে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছি। বেসিকের বাকি অর্ধেক ২০২৭-২০২৮ অর্থবছরে দেয়া হবে। এর পরের অর্থবছরে দেয়া হবে বিভিন্ন ধরনের ভাতা।
সুপারিশ অনুযায়ী পুরো বেসিক দেওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে চাইলে সরকারের প্রয়োজন ৪৩ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এখন যেহেতু সরকারি চাকরিজীবীরা ১০ শতাংশ মহার্ঘভাতা পাচ্ছেন, তাই নতুন বেতন বাস্তবায়নের সাথে এই ১০ শতাংশ ভাতা সমন্বয় হবে। ফলে এই মুহুর্তে ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে প্রয়োজন হবে ৩৭ হাজার কোটি টাকা।
জানা গেছে, সরকার আগামী তিন বছরে এ বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে চাইছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীরা শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামো দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন ‘আগামী বাজেটেই নতুন বেতনকাঠামো নিশ্চিত বাস্তবায়ন হবে। তবে কীভাবে হবে, এ নিয়ে কথাবার্তা চলছে।’
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘নবম পে স্কেল’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার গঠিত উচ্চপর্যায়ের পুনর্গঠিত কমিটি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নতুন পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
পে স্কেল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য, অন্তবর্তী সরকারের সময় সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেত্বতে পে-কমিশনের যে রিপোর্টটি দেয়া হয়েছিল; তা বর্তমান সরকার পর্যালোচনা জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটি গোপনে তাদের প্রতিবেদন সরকারের কাছে গত সপ্তাহে জমা দিয়েছে। তাদের সুপারিশে জাকির খান কমিশনের সুপারিশ বেশ খানিকটা কাটছাঁট করা হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে বাদ দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ বর্তমান অবস্থায় রাখার কথা বলা হয়েছে।
সচিব এবং তার পদমর্যাদায় বিভিন্ন ব্যক্তি এখন কুক-মালি-গাড়ির জন্য যে পরিমাণ অর্থ পান তার কোনো পরিবর্তনের পক্ষে সায় দেয়নি সচিব কমিটি। ফলে এই সব উচ্চ পদস্থ সরকারি চাকুরেদের বিভিন্ন ভাতা তেমন একটি বাড়ছে না। জাকির খানের কমিশন উল্লেখ করেছিল পে-কমিশন পুরো বাস্তবায়নের জন্য এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা লাগবে; কিন্তু সচিব কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে এ অঙ্ক কমিয়ে ৯০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: জাল সনদধারী আরও ১১৭ শিক্ষকের এমপিও বাতিল, নেওয়া হচ্ছে আইনি ব্যবস্থা
সূত্র জানায়, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর যে বিশাল আর্থিক চাপ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আসন্ন বাজেটে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ ‘থোক বরাদ্দ’ রাখার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নবম পে স্কেলটি এককালীন না করে মোট তিন ধাপে (৩ পর্যায়) বাস্তবায়নের কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে প্রথম ধাপে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের (বেসিক) অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে। পরবর্তী অর্থাৎ দ্বিতীয় বছরে বাকি অর্ধেক মূল বেতন বৃদ্ধি এবং চূড়ান্ত বা তৃতীয় বছরে সব ধরনের ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা পুরোপুরি চালু করা হবে।