নির্বাচনী অঙ্গীকারের বাইরেও

প্রধানমন্ত্রীর আট কার্ডে যত সেবা পাবেন জনগণ

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৯ PM , আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২০ PM
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত সকল সেবাকার্ড

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত সকল সেবাকার্ড © টিডিসি সম্পাদিত

রাজনৈতিক দমন-পীড়নের শিকার হয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে জনগণ ও দেশের উন্নয়নে নিজের স্বপ্নের কথা জানান দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই স্বপ্নের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে সামনে রেখে দলীয় নির্বাচনী প্ররচারণায় তিনি দলের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি প্রতিশ্রুতি দেন। এরমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ডে’র ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও জনমনে আগ্রহের জন্ম দেন তারেক রহমান। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে নতুন সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার অনুযায়ী ক্ষমতাগ্রহণের পরপরই খুব দ্রুতই চালু করেন ফ্যামিলি কার্ড। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিএনপির প্রধান সেবাকার্ড মূলত ৩টি। এর বাইরেও সরকারের প্রথম দুই মাসেই জনকল্যাণে আরো বেশ কয়েকটি সেবাকার্ড ইতোমধ্যেই চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

জনগণের কাছে নিজের অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দিতে ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি একে একে বেশ কয়েকটি সেবামূলক কার্ডের কাজ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলছেন। এরমধ্যে রয়েছে-কৃষক কার্ড, ক্রীড়া কার্ড,  ফ্রিল্যান্সার কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, এলপিজি কার্ড। এর বাইরে ইতোমধ্যে সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ফুয়েল কার্ড বা ফুয়েল পাস চালু করেছে।

ফ্যামিলি কার্ড: প্রাথমিকভাবে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু  করার ঘোষণা দিলেও সরকার প্রধান জানিয়েছেন, দেশের সব গৃহিনীরা পর্যায়ক্রমে এই কার্ড পাবেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে-নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন।  পরিবারের গৃহিণী বা নারী সদস্যদের নামে এই কার্ড ইস্যু করা হয়।

ফ্যামিলি কার্ড একটি ডিজিটাল ডেটাবেজ-ভিত্তিক স্মার্ট কার্ড। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিবারগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্যের পাশাপাশি সরাসরি নগদ আর্থিক সহায়তাও পাবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ সেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে। কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিবেচনা রাখা হবে না।

তবে সরকারী চাকরিজীবী বা নিয়মিত পেনশনভোগীরা এর আওতাভুক্ত হবেন না। এছাড়া, বাড়িতে এসি ব্যবহারকারী, নিজস্ব গাড়ি বা বিলাসবহুল সম্পদের মালিক ও যাদের বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা রয়েছে, তারাও এই সুবিধা পাবেন না। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই এই টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (যেমন বিকাশ বা অন্যান্য বৈধ চ্যানেল) মাধ্যমে পৌঁছে যাবে।

কার্ডের আরও বৈশিষ্ট  হলো-এই কার্ডের মাধ্যমে বাজারদরের চেয়ে অনেক কম দামে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল ও চিনি কেনা যাবে। ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ তৈরি করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর।

কৃষক কার্ড: পর্যায়ক্রমে সারা দেশের কৃষকদের ‘কৃষক কার্ড’ দিচ্ছে সরকার। পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে এই কার্ড। এর মাধ্যমে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। বাংলা নবর্ষের পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে টাঙ্গাইলে এ কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পিওএস মেশিন ব্যবহার করে কৃষকেরা সরাসরি সার, বীজ, খাদ্যসহ বিভিন্ন উপকরণ কিনতে পারবেন। এই কার্ডের মূল লক্ষ্য হলো দেশের কৃষকদের ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় এনে সরাসরি সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা প্রধানত ১০ ধরনের সেবা ও সুবিধা পাবেন: 
ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ: সার, উন্নত মানের বীজ এবং কীটনাশক সরাসরি সরকারী দামে কেনার সুযোগ।
আর্থিক সহায়তা ও ঋণ: সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে কৃষিঋণ প্রাপ্তি। পাশাপাশি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির কৃষকদের বছরে একবার সরাসরি আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।
কৃষি বীমা: শস্য, গবাদি পশু এবং মৎস্য সম্পদের ওপর বীমা সুবিধা।
ভর্তুকি ও প্রণোদনা: সরকারী বিভিন্ন কৃষি প্রণোদনা এবং সারের ভর্তুকির টাকা সরাসরি কার্ডধারীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছানো হবে।
বাজার তথ্য ও পরামর্শ: মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলের রোগবালাই দমনের পরামর্শ এবং বাজারের সর্বশেষ তথ্য প্রদান।
যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি: স্বল্পমূল্যে বা ভর্তুকিতে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি কেনা বা ব্যবহারের সুবিধা।

প্রাথমিকভাবে ১০ জেলায় এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ২.৭৫ কোটি কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

ক্রীড়া কার্ড: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৩০ মার্চ জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের জন্য 'ক্রীড়া কার্ড' ও বিশেষ ভাতা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং খেলোয়াড়দের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ক্রীড়া কার্ডের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদরা যেসকল প্রধান সুবিধা ও সেবা পাবেন:

মাসিক ভাতা (বেতন কাঠামো): জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের একটি নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে ৫০০ জনে উন্নীত করা হবে।

উন্নত প্রশিক্ষণ: কার্ডধারী খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ও উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা: এই কার্ডের আওতায় ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষায়িত উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

পারিবারিক নিরাপত্তা: "ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা"-এই স্লোগানকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের পরিবারকে আর্থিক নিশ্চয়তা প্রদান করাও কার্ডের অন্যতম সেবা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটারদের আপাতত এই ভাতা কাঠামোর বাইরে রাখা হয়েছে।

মেধা অন্বেষণ ও বৃত্তি: ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিশেষ বৃত্তি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে বেলা ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

ই-হেলথ কার্ড: সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদীতে এটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ই-হেলথ কার্ড হলো একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র, যার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য একটি ইলেকট্রনিক সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকবে। ২০২৬ সালের জুন মাসের শেষ নাগাদ এই কার্ডটি সারাদেশে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ই-হেলথ কার্ডের সেবাগুলোর মধ্যে আছে-

ডিজিটাল মেডিকেল রেকর্ড: এই কার্ডে রোগীর নাম, বয়স, রক্তের গ্রুপ, পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস, ওষুধের বিবরণ এবং পরীক্ষার রিপোর্ট ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষিত থাকবে।

ইউনিক হেলথ আইডি: প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি আলাদা ও অনন্য আইডি (Unique ID) থাকবে, যা হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে রোগীকে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সাহায্য করবে।

দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা: রোগী দেশের যেকোনো প্রান্তের হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক এই কার্ডের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তার আগের মেডিকেল হিস্ট্রি দেখতে পারবেন, যা দ্রুত রোগ নির্ণয়ে সহায়ক হবে।

সমন্বিত যোগাযোগ: প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর মধ্যে একটি নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা তৈরি হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে রোগীরা ইলেকট্রনিক পেশেন্ট রেফারেল ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় চিকিৎসাসেবা পাবেন।

প্রবাসী কার্ড: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকার প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে 'প্রবাসী কার্ড' (Expatriate Card) চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রবাসীদের তথ্য সংরক্ষণ এবং ব্যাংকিং সুবিধা সহজ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা যেসকল সেবা ও সুবিধা পাবেন:

তথ্য ও দক্ষতা সংরক্ষণ: এই কার্ডে প্রবাসীর ব্যক্তিগত তথ্য, কাজের দক্ষতা এবং চাকরির শর্তাবলি সংরক্ষিত থাকবে, যা কর্মক্ষেত্রে তাদের অধিকার রক্ষায় সহায়তা করবে।

সহজ রেমিট্যান্স ও ব্যাংকিং সুবিধা: কার্ডটি সরাসরি ব্যাংক পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, ফলে প্রবাসীরা আরও সহজে ও দ্রুত দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন।

বাড়তি রেমিট্যান্স প্রণোদনা: বৈধ পথে এই কার্ডের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়েও বেশি আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সদস্যপদ: কার্ডধারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রবাসী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সদস্য হবেন, যা তাদের বিভিন্ন দুর্যোগকালীন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ করে দেবে।

দুর্ঘটনা ও মৃত্যুতে সহায়তা: বিদেশে কোনো প্রবাসী দুর্ঘটনার শিকার হলে, চাকরি হারালে বা মৃত্যুবরণ করলে এই কার্ডের মাধ্যমে তাদের পরিবারকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

উদ্যোক্তা ঋণ সুবিধা: বিদেশ ফেরত প্রবাসীরা দেশে ব্যবসা বা স্টার্টআপ শুরু করতে চাইলে কার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে 'এসএমই' (SME) ও 'ভেঞ্চার ক্যাপিটাল' ঋণ সুবিধা পাবেন।

সামাজিক সুরক্ষা ও পুর্নবাসন: দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সামাজিক সুরক্ষা এবং তাদের পরিবারের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।

ঝামেলামুক্ত সেবা: বিমানবন্দর ও দূতাবাসগুলোতে কার্ডধারী প্রবাসীদের জন্য দ্রুত এবং সম্মানজনক সেবা (Fast-track services) নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। 
উল্লেখ্য যে, সরকার বর্তমানে ইউরোপের ৭টি দেশের সাথে নতুন শ্রমবাজার তৈরির জন্য কাজ করছে এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগও এই পরিকল্পনার অংশ।

এলপিজি কার্ড: রান্নার জ্বালানি সংকট দূর করতে এবং গৃহিণীদের শারীরিক কষ্ট লাঘবে এই বিশেষ কার্ড ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৬ এপ্রিল) যশোরে বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্বোধন ও জনসভায় এই ঘোষণা দেন তিনি।

এই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে নিবন্ধিত নারী সদস্যরা বিশেষ ভর্তুকিতে বা সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে পারবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। গ্রামীণ নারী যারা ধোঁয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন এবং শহুরে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার যাদের জন্য চড়া দামে গ্যাস কেনা কঠিন।

ফ্রিল্যান্সার কার্ড: বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের সরকারি স্বীকৃতি স্বরূপ ফ্রিল্যান্সার কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। 

আগামী ৫ বছরে প্রায় ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যেই সাড়ে সাত হাজার ফ্রিল্যান্সার এই কার্ড পেয়েছেন।  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সরকারের এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

ফ্রিল্যান্সাররা একটি ডিজিটাল/স্মার্ট আইডি কার্ড পাবেন। যা দিয়ে একজন ব্যক্তি সরকারিভাবে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। এতে তার কাজ, আয় ও পেশাগত পরিচয় প্রমাণ করা সহজ হবে।

ভবিষ্যতে ব্যাংকিং, পেমেন্ট, লোন, ট্যাক্স সুবিধা ইত্যাদিতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

সরকারের লক্ষ্য:

- আইটি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা
- ফ্রিল্যান্সিংকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির অংশ করা
- আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সহজ করা
- ব্যাংক/ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে সুবিধা
- প্রশিক্ষণ ও স্কিল ডেভেলপমেন্টে অগ্রাধিকার
- বিদেশি ক্লায়েন্টের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি

বিশেষ ফুয়েল কার্ড (ফুয়েল পাস): জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ করার চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নের ঘোষণায় বলা হয়, এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানী তেলের সরবরাহ ও বিপণন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং জনদুর্ভোগ নিরসনকল্পে কিশোরগঞ্জ জেলার বৈধ মোটরসাইকেলে জ্বালানী তেল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিশেষ জ্বালানি কার্ড প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এমতাবস্থায়, জেলাধীন মোটরসাইকেল চালকদের নিম্নবর্ণিত কাগজপত্র/তথ্য প্রদর্শন করে নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানাধীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় হতে বিশেষ জ্বালানি কার্ড সংগ্রহ করতে অনুরোধ করা হলো।

ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে আগ্রহীর মূল জাতীয় পরিচয়পত্র, মোটরসাইকেল, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন কার্ড, স্ট্যাম্প সাইজের ছবি (১কপি), ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোবাইল নম্বর জমা দিতে হবে। সকল ব্যক্তিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ব্যবসা-বাণিজ্য শাখা এবং যারা অন্যান্য উপজেলায় অবস্থান করছেন তাদেরকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় হতে উল্লিখিত বিশেষ ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।

এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। ইশতেহারের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে 'সবার আগে বাংলাদেশ' স্লোগানকে সামনে রেখে 'করবো কাজ, গড়বো দেশ'-এই মূলনীতিতে ইশতেহারটি সাজানো হয়।

ইশতেহারে বিএনপি ৯টি মূল অঙ্গীকার এবং ৫১ দফার একটি ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে। এরমধ্যে-রাষ্ট্রীয় সংস্কার: ইশতেহারে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সাংবিধানিক সংস্কার, এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।

ক্ষমতার মেয়াদ: কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না-এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন পদ সৃষ্টি: রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি 'ভাইস প্রেসিডেন্ট' পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে।

শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্ম: শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম এবং ওয়াই-ফাই সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

অর্থনীতি ও সমাজ: বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য নিরসন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এই ইশতেহারটি পাঁচটি প্রধান অধ্যায়ে বিভক্ত, যা রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনীতি, এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো অন্তর্ভুক্ত করে।

পাশাপাশি ইশতেহারে জনগণের কাছে বিএনপির দেয়া প্রধান প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকারগুলো ছিল-'ফ্যামিলি কার্ড' চালু, কৃষক কার্ড চালু, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং 'মিড-ডে মিল' চালু করা হবে।

তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং 'মেড ইন বাংলাদেশ' পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।

এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়; এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা-এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।

জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে-সবার আগে বাংলাদেশ।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিএনপির প্রধান সেবাকার্ড মূলত ৩টি। তবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত ৯টি মূল অঙ্গীকারের মধ্যে সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক সেবার জন্য কার্ডভিত্তিক এই ৩টি উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য, বিএনপি এই উদ্যোগগুলোকে তাদের রাষ্ট্র কাঠামোর ৩১ দফা সংস্কার এবং "ভিশন-২০৩০" পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জনগণের কাছে উপস্থাপন করেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সরকার ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মধ্যেই এই কার্যক্রমের পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়েছে এবং এর আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের সকল পরিবারকে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

এমসি কলেজের নতুন অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ তোফায়েল আহাম্মদ
  • ১৯ মে ২০২৬
বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় শক্তিশালী শান্তিরক্ষা ব্যবস্থার…
  • ১৯ মে ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ বিষয়ে রচিত হবে নতুন পাঠ্যপুস্তক…
  • ১৯ মে ২০২৬
অটোরিকশার ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ১
  • ১৯ মে ২০২৬
সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা ‘ট্র্যাকস্টর্…
  • ১৯ মে ২০২৬
‘জুলাইয়ের গ্রাফিতি অংকনে পুলিশ কেন বাধা দেয়’ প্রশ্ন ঢাকা কল…
  • ১৯ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081