প্রশাসনিক কর্মকর্তা নয়, জনগণের সেবক ভাবুন : প্রধানমন্ত্রী

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৫ PM , আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৬ PM
বিয়াম ফাউন্ডেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিয়াম ফাউন্ডেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান © সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাগণ সরকারের নীতিনির্ধারণ এবং নীতি বাস্তবায়নের মধ্যে সেতুবন্ধন করে থাকে। আপনাদের সততা, কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতাই সরকারের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। আপনারা নিজেদের শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে ভাবুন।

আজ শনিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব এ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফাউন্ডেশনের (বিয়াম) ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে বিএনপি সরকার বরাবরই একটি সুদক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনপ্রশাসন দেখতে চেয়েছে, ভবিষ্যতেও দেখতে চায়। বিয়াম ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কেবল একটি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নয় বরং এটি প্রশাসনিক সক্ষমতার উন্নয়ন, প্রশাসনিক নেতৃত্ব গঠন এবং মানবসম্পদ বিকাশের একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব এ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফাউন্ডেশন (বিয়াম)। ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর ২০০২ সালের নভেম্বর মাসে এটি বিয়াম ফাউন্ডেশনে রূপান্তরিত হয়। আজ সেই ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের উদ্বোধন। বিয়াম দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আজ যে ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে, তা ভবিষ্যতের প্রশাসনিক নেতৃত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই ভবন শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি হয়ে উঠুক জ্ঞানচর্চা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্র।

আরও পড়ুন : জনগণকে ক্ষমতায়ন ও তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে সরকার: উপদেষ্টা মাহদী আমিন

তিনি আরও বলেন, দক্ষ মানব সম্পদ তৈরী বিয়ামের অন্যতম একটি লক্ষ্য। বিশেষ করে সরকারি কর্মে নিয়োজিত মানবসম্পদকে আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি  প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারে সক্ষম করে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার মেধানির্ভর, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও দায়িত্ববান মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ, দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই। 

দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার। ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে এই রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। সুতরাং জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে, রাষ্ট্রের মালিক জনগণের স্বার্থ এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা আপনাদের প্রধান দায়িত্ব। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আপনারা যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন কিনা কিংবা পালন করতে সক্ষম ছিলেন কিনা এই মুহূর্তে সেই প্রশ্ন না তুলে, আমি আপনাদেরকে এই মুহূর্তে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে একটি বার্তা দিতে চাই, দেশ এবং জনগণের কাছে আমরা যেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছি এসব স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয় বরং জনগণের সঙ্গে করা আমাদের চুক্তি। জনগণ আমাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে।

সুতরাং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আমি আশা করি আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি, দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে ভূমিকা রাখবেন। জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিকতার দৃঢ় চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন। আপনারা যে দায়িত্ব পালন করেন, তা কেবল নথিপত্র পরিচালনা বা প্রশাসনিক তদারকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং আপনারা রাষ্ট্রযন্ত্রের কার্যকারিতা, ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার প্রধান ভিত্তি। একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক, আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন সেই মূল চালিকাশক্তি যাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, নৈতিক দৃঢ়তা ও প্রশাসনিক প্রজ্ঞার ওপর একটি জাতির উন্নয়ন নির্ভর করে। আপনাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব কখনো একটি পরিবারে, কখনো একটি অঞ্চলে, কিংবা কখনো পুরো জাতির ওপর পড়ে। সেই কারণে আপনাদের দায়িত্ব স্রেফ প্রশাসনিক নয় বরং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব।

দেশে জঙ্গি হামলার শঙ্কা, কাজ করছে সিটিটিসি
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ইউআইইউ’তে ‘ওয়াটার রাইটস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অ…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিনেত্রীর বাবা গ্রেপ্তার
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
জবির সাবেক শিক্ষার্থী বুলেট ‘হত্যা’র বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ওয়াশিংটনের রাস্তায় প্রদর্শিত হল ট্রাম্প-এপস্টিনের ছবি
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকার মেয়ে শিক্ষক মারদিয়া মমতাজের মোট সম্পদ কত?
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬