বাস © টিডিসি ফটো
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ বৃহস্পতিবার আসতে পারে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটি ইতিমধ্যে কিলোমিটারপ্রতি ২২ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত প্রতিনিধিরা বলছেন, শুধু ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় নিলে ভাড়া বাড়ার কথা ছিল কিলোমিটারে ১৫ পয়সা। মালিকপক্ষ খুচরা যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিন অয়েল, টায়ার এবং বাসের চেসিসের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ‘অদৃশ্য’ ও ‘গায়েবি’ খরচের অজুহাত দেখিয়ে ভাড়ার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
বিআরটিএ-র প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন ভাড়ার হার কার্যকর হলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৬৪ পয়সা দাঁড়াবে। অন্যদিকে, দূরপাল্লার পথে বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৩৪ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে মিনিবাসের জন্য আলাদা কোনো কম ভাড়ার হার প্রস্তাব করা হয়নি।
ভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটির ১১ জন সদস্যের মধ্যে চারজনই মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হওয়ায় ভাড়া নির্ধারণে মালিকদের প্রভাব বেশি থাকছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কমিটির একমাত্র যাত্রী প্রতিনিধি ও ক্যাবের সদস্য বাহাদুর সাজেদা আক্তার জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে তারা ভাড়া না বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন। একান্ত প্রয়োজনে শুধু ডিজেলের দাম বিবেচনা করার কথা বললেও কমিটি অন্যান্য অনুষঙ্গিক খরচ যোগ করে বাড়তি ভাড়ার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
এদিকে বিআরটিএ-র ব্যয় বিশ্লেষণে বেশ কিছু অবাস্তব খরচের খাত দেখানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন। একটি বাসের আয়ুষ্কাল ২০ বছর হলেও ভাড়া নির্ধারণের সময় তা ১০ বছর ধরা হচ্ছে, যার ফলে পুরনো লক্কড়ঝক্কড় বাসেও নতুনের মতো ভাড়া আদায়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া গ্যারেজ ভাড়া, চালক-সহকারীর বোনাস এবং নিয়মিত মেরামতের যে খরচ কাগজে-কলমে দেখানো হয়, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার পর আজই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে ভাড়ার এই ঊর্ধ্বগতি সাধারণ যাত্রীদের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।